kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বিদেশগামীদের স্মার্ট কার্ড বিতরণ

শর্ত যুক্ত করায় ও জনবল সংকটে সুফল মিলছে না

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

২১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ভোগান্তি কমাতে ঢাকার বদলে গত জুলাই মাসে চট্টগ্রাম থেকেই চাকরি নিয়ে বিদেশগামীদের স্মার্ট কার্ড দেওয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। কিন্তু কিছু শর্ত যুক্ত করায় উদ্বোধনের আড়াই মাস পরও এর সুফল মিলছে না।

মধ্যপ্রাচ্যের সাতটি দেশসহ আট দেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে এখন এই স্মার্ট কার্ড চট্টগ্রাম থেকে দেওয়া হচ্ছে। অন্য দেশের ক্ষেত্রে আগের মতোই ঢাকা থেকে স্মার্ট কার্ড নিতে হচ্ছে। এ ছাড়া জনশক্তি রপ্তানিকারক কোনো প্রতিষ্ঠান প্রতিদিন ১০টির বেশি স্মার্ট কার্ড নিতে পারবে না। এ ছাড়া চট্টগ্রাম জনশক্তি রপ্তানি ব্যুরো কার্যালয়ে রয়েছে জনবলের সংকট। সে কারণে স্মার্ট কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে তেমন সুফল মিলছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, চাকরি নিয়ে একজন কর্মীর বিদেশ যাওয়ার সব ধাপ চট্টগ্রাম জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো কার্যালয় থেকে করা গেলেও সর্বশেষ ধাপ ‘স্মার্ট কার্ড’ নিতে হতো ব্যুরোর ঢাকার কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে। এই স্মার্ট কার্ড ছাড়া কোনো কর্মীর চাকরি নিয়ে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ নেই। একজন কর্মী যাতে চট্টগ্রাম থেকেই বিদেশে যাওয়ার সব প্রক্রিয়া শেষ করতে পারেন সে জন্য গত ৩১ জুলাই চট্টগ্রাম থেকেই স্মার্ট কার্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া চালু হয়।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর হিসাবে, উদ্বোধনের পর গত আগস্ট মাসে স্মার্ট কার্ড দেওয়া হয়েছে এক হাজার ৩১৪ জনকে। আর সেপ্টেম্বর মাসে দেওয়া হয়েছে এক হাজার ১৩৩ জনকে। সর্বশেষ গত ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে ৬৪৮ জনকে। সে হিসাবে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত ৯ কর্মদিবসে প্রতিদিন স্মার্ট কার্ড পেয়েছেন মাত্র ৭২ জন।

কেন এমন হচ্ছে জানতে জনশক্তি রপ্তানি সংগঠন বায়রার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দেশের বাইরে থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে বায়রার চট্টগ্রামের সদস্য এমদাদ উল্লাহ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চট্টগ্রামের অধিবাসীরা যাতে এখান থেকেই সব দেশে যাওয়ার স্মার্ট কার্ড নিতে পারেন সেই ব্যবস্থা নিতে বায়রার পক্ষ থেকে দাবি জানানো হচ্ছে। এ বিষয়ে আমরা জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর সাথে বৈঠক করব। ’ তিনি বলেন, সীমিত সুবিধা দেওয়ায় আমরা পুরোপুরি সুফল পাচ্ছি না।

জনশক্তি রপ্তানিসংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্মার্ট কার্ড চট্টগ্রাম থেকে ছাপানো হলেও এর সুফল মিলছে না। উদ্বোধনের পর মধ্যপ্রাচ্যের সাতটি দেশ ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, ব্রুনেই ও সিঙ্গাপুরে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম থেকে স্মার্ট কার্ড দেওয়া হচ্ছে। অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রে এখনো আগের মতো ঢাকা থেকেই নিতে হচ্ছে স্মার্ট কার্ড। এ ছাড়া একটি জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান দিনে সর্বোচ্চ দশজনের জন্য স্মার্ট কার্ড নিতে পারবে। এর বেশি নয়।

এ ধরনের শর্ত কেন যুক্ত করা হয়েছে জানতে চাইলে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর পরিচালক (ইমিগ্রেশন) এ কে এম টিপু সুলতান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রথমত চট্টগ্রাম অফিসে লোকবল কম, প্রয়োজনের দশ ভাগের এক ভাগ লোক দিয়ে সেখানে কাজ চলছে আর একজন পরিচালক দিয়ে অফিস চলার কথা থাকলেও সহকারী পরিচালক দিয়ে কাজ চলছে। ফলে সেই সেটআপ দিয়ে এর বেশি চাপ নেওয়া যায় না। ’ তিনি বলেন, চট্টগ্রামে প্রতিদিন ৫০০ কর্মীর আঙুলের ছাপ নেওয়া হচ্ছে, ৫০০ কর্মীর নিবন্ধন হচ্ছে। ফলে সবারই তো স্মার্ট কার্ড নেওয়ার কথা চট্টগ্রাম থেকে। কিন্তু নিচ্ছে মাত্র ৬০ থেকে ৭০ জন।

টিপু সুলতান স্বীকার বলেন, ‘টেকনিক্যাল সাপোর্ট বাড়িয়ে ফুলটাইম একজন প্রকৌশলী রেখে এবং অফিসের সক্ষমতা বাড়ানো গেলে আরো নতুন দেশ চট্টগ্রামের তালিকায় যুক্ত করা যায়। এতে করে যে পরিমাণ নিবন্ধন হচ্ছে তাদের সবার স্মার্ট কার্ড দেওয়া যায়। ’

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে ২০১৫ সালে সাড়ে ৩২ হাজার কর্মী চাকরি নিয়ে বিদেশ গেছে। ২০১১ সালে এই সংখ্যা ছিল সাড়ে ৭৩ হাজার। দেশের ৬৪ জেলাভিত্তিক জনশক্তি রপ্তানির হিসাবে ২০১৩ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলা ছিল শীর্ষে। কিন্তু ২০১৩ সাল থেকেই চট্টগ্রাম দ্বিতীয় স্থানে চলে আসে, শীর্ষস্থান দখল করে কুমিল্লা। মূলত মধ্যপ্রাচ্যনির্ভর জনশক্তি রপ্তানি কমে আসায় এর প্রভাব পড়ে চট্টগ্রামের বাজারে। এখন নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে কর্মী রপ্তানি শুরু হচ্ছে। এর ফলে চট্টগ্রামের বাজার আবারও চাঙ্গা হবে। এই অবস্থায় কেবল একজন সহকারী পরিচালক দিয়ে কাজ চলছে একটি জেলা অফিসে।

জনশক্তি রপ্তানির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চট্টগ্রামের ১৪ উপজেলা থেকে জনশক্তি রপ্তানির কাজ করছে জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর এই জেলা কার্যালয়। ২০১৪ সালের প্রস্তাব অনুযায়ী একজন উপপরিচালক দিয়ে এই কার্যালয়ের কার্যক্রম চালানোর কথা থাকলেও সেটি হচ্ছে না। ফলে স্মার্ট কার্ড দেওয়ার সব প্রক্রিয়া যাচাই-বাছাই ও অনুমোদন, ভিসা যাচাই ও অনুমোদন এবং মৃত প্রবাসী কর্মীদের ফিরিয়ে আনা, তাদের সরকারি ভাতা ও কল্যাণমূলক সেবা প্রদানের কার্যক্রম একজন সহকারী পরিচালক দিয়ে চালানো হচ্ছে। এখন চট্টগ্রাম থেকে যেহেতু কর্মী রপ্তানি বাড়তে শুরু করেছে সে জন্য এই কার্যালয়ের সক্ষমতা বাড়ানো খুবই প্রয়োজন।


মন্তব্য