kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কনটেইনারে ১২ দিন

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

২১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



কনটেইনারে ১২ দিন

খালি কনটেইনারে লুকিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে জাহাজে করে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের বিশাখাপাটনাম বন্দরে পালিয়ে গেলেন রোহান নামের এক ব্যক্তি। গত বুধবার জাহাজ থেকে কনটেইনারটি নামানোর পর সেখানকার বন্দর কর্তৃপক্ষ তাঁকে অনেকটা অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেছে।

১২ দিন ধরে কনটেইনারের ভেতর দরজা বন্ধ অবস্থায় তিনি কিভাবে বেঁচে ছিলেন তা নিয়ে বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সুরক্ষিত নিরাপত্তাবলয় পেরিয়ে কিভাবে একজন বাইরের লোক বন্দরের ভেতর কনটেইনারে ঢুকে জাহাজে করে ভারতে চলে গেলেন তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এর আগে গত ২০১১ সালে খালি কনটেইনারে ঢুকে সিঙ্গাপুরে পালিয়ে গিয়েছিল দুই ব্যক্তি। পরে তাদের একজনকে মৃত এবং আরেকজনকে অনেকটা মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল।

জানা গেছে, রপ্তানি ও খালি কনটেইনার নিয়ে ‘সিনার বাটাম’ নামক জাহাজটি গত ৭ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল-২ থেকে ছেড়ে যায়। গত ১৯ অক্টোবর ভারতের বিশাখাপাটনাম বন্দরে পৌঁছার পর জাহাজ থেকে কনটেইনারগুলো ইয়ার্ডে নামিয়ে রাখা হয়। পরে তালাবদ্ধ খালি কনটেইনার খুলে মুমূর্ষু অবস্থায় রোহান নামের ওই ব্যক্তিকে পায় বন্দর কর্তৃপক্ষ।  

ভারতের পত্রপত্রিকাগুলো জানিয়েছে, কনটেইনারের ভেতর মুমূর্ষু অবস্থায় এক ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখে বন্দরের লোকজন আশ্চর্য হয়ে যায়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে পুলিশের সহায়তায় স্থানীয় কিং জর্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছে। তিনি জানিয়েছেন, ১২ দিন ধরে কিছু না খাওয়ায় তাঁর পানিশূন্যতা রোগ হয়েছে। তাঁর নাম রোহান, বাড়ি ঢাকায়।

জানতে চাইলে কনটেইনারটির দেশীয় এজেন্ট মার্কো শিপিং লাইনের সহকারী মহাব্যবস্থাপক আজমীর হোসেন চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, খালি কনটেইনারটি বন্দরের বাইরে অবস্থিত কিউএনএস ডিপো থেকে বন্দরের ভেতর ঢুকেছে। বন্দরের সুরক্ষিত নিরাপত্তাবলয় পার হয়ে কিভাবে একজন লোক খালি কনটেইনারে ঢুকে জাহাজ পর্যন্ত চলে গেলেন—এটাই প্রশ্ন। তিনি বলেন, ‘আমরা যাচাই করে দেখেছি, ওই কনটেইনারটি জাহাজের একেবারে হ্যাজ বা খোপের মধ্যে ছিল। ফলে জাহাজ থেকে কারো সেই কনটেইনারে লুকিয়ে থাকার সুযোগ নেই। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে দেখতে হবে। ’

এ বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (নিরাপত্তা) লে. কর্নেল আবদুল গাফফার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে আমি বিষয়টি জেনেছি। কিভাবে খালি কনটেইনারে ঢুকে ওই ব্যক্তি বিদেশ চলে গেলেন, তা তদন্ত না করে এখনই মন্তব্য করা যাবে না। ’

জানা গেছে, ২০ ফুট দীর্ঘ ওই কনটেইনারটি (নম্বর সিএআরইউ ২১৬৬৮৮০) জেনেভাভিত্তিক মেডিটারিয়ান শিপিং কম্পানির (এমএসসি)। কনটেইনারটি খালি অবস্থায় কিউএনএস কনটেইনার ডিপো থেকে ৬ অক্টোবর ট্রেইলরে করে সরাসরি জেটিতে প্রবেশ করে। পরে কানাডার পতাকাবাহী সিনার বাটাম জাহাজে তুলে দেয় এনসিটির পণ্য ওঠানো-নামানোর দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ারটেক।

এ বিষয়ে সাইফ পাওয়ারটেকের মহাব্যবস্থাপক ক্যাপ্টেন তানভীর হোসাইন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রতিটি কনটেইনার জাহাজীকরণের আগে আমরা তল্লাশি করে নিশ্চিত হই, তারপর দরজা বন্ধ করি। কিন্তু এটি কোথায় কিভাবে হলো বুঝতে পারছি না। জাহাজ থেকেও এটি ঘটতে পারে। ’


মন্তব্য