kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সিলেট নগর ভবনে অচলাবস্থা কাটেনি

এবার কার্যালয়ে আসতে মানা ৩ কর্মকর্তার

সিলেট অফিস   

২০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



সিলেট নগর ভবনের কার্যক্রমে অচলাবস্থার অবসান এখনো হয়নি। নগর সংস্থার শীর্ষস্থানীয় তিন কর্মকর্তার কার্যালয় কক্ষে তালা দেওয়ার পর তিন দিন কেটে গেছে।

দুই দিন পর গতকাল বুধবার তাঁদের কক্ষের তালা খুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তিন কর্মকর্তাকে কার্যালয়ে না আসতে বলা হয়েছে। এতে নগর ভবনে আসা সেবাপ্রত্যাশীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

গত সোমবার বিকেলে সরকার সমর্থক আট কাউন্সিলর নগর সংস্থার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব, প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) নূর আজিজুর রহমান ও প্রধান হিসাবরক্ষক আ ন ম মনসুফের কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। এরপর থেকে নগর ভবনের কার্যক্রমে অচলাবস্থা চলছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গত মঙ্গলবার রাতে ওই কাউন্সিলরদের নিয়ে সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে বৈঠক করেছেন জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতারা। বৈঠকে তিন কর্মকর্তার কার্যালয় কক্ষের তালা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু সমস্যার সমাধানে স্থানীয় সংসদ সদস্য অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের নির্দেশনার জন্য ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষার সিদ্ধান্ত হয়। এই সময়কালে ওই তিন কর্মকর্তাকে কার্যালয়ে না আসার জন্য বলা হয়।

বৈঠকের ব্যাপারে সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি লুত্ফুর রহমান বলেন, ‘আন্দোলনকারী কাউন্সিলররা আমাদের লোক। সরকারও আমাদের। ফলে কোনো বিশৃঙ্খলা হোক আমরা চাই না। তাঁরা আমাদের কথা মেনেছেন। তবে সবার মুরব্বি অর্থমন্ত্রী মহোদয় যে নির্দেশনা দেবেন, সেভাবেই সিটি করপোরেশনের এই পরিস্থিতির সমাধান হবে। ’ তিনি আরো বলেন, আগামী ২৫ তারিখ পর্যন্ত ওই তিন কর্মকর্তা অফিস করতে পারবেন না। তাঁদের নিজেদের প্রয়োজন দেখিয়ে ছুটিতে থাকতে হবে। ’

লুত্ফুর রহমান বলেন, নাগরিকদের সাময়িক অসুবিধে হবে ঠিকই, তবে বিষয়টির সুন্দর সমাধানের স্বার্থে একটু ধৈর্য ধরতে হবে।

নগর সংস্থার তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ এনে তালা দেওয়ার কথা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানালেও অনুসন্ধানে জানা গেছে, একটি ভবন ভাঙার কাজ কম দরে পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওই কাউন্সিলররা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।

সরকার সমর্থক কাউন্সিলর মখলিছুর রহমান কামরান জানান, আওয়ামী লীগ নেতারা তাঁদের অনুরোধ জানিয়েছেন দলের জাতীয় সম্মেলন পর্যন্ত যাতে কোনো ধরনের কর্মসূচি না দেওয়া হয়। অর্থমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে এবং তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী বিষয়টির সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এই আশ্বাস পেয়ে আমরা তাঁদের হাতে তালাবদ্ধ কক্ষের চাবি তুলে দিয়েছি। তবে আমাদের দাবি অফিস খোলা থাকলেও কোনো কর্মকর্তা অফিসে আসতে পারবেন না। ’

এ ব্যাপারে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এনামুল হাবীব বলেন, ‘আমরা ছুটিতে আছি, কিন্তু এই ছুটি বাধ্যতামূলক কিছু না। ছুটির মধ্যেও তো আমরা কাজ করি। আওয়ামী লীগ নেতারা সম্মেলন নিয়ে ব্যস্ত, তাই উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে একটু সময় লাগছে। আশা করছি, দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান হবে। ’

এদিকে নগর ভবনের তিন শীর্ষ কর্তার অফিসে তালা দেওয়া এবং তাঁরা অফিস করতে না পারায় সাধারণ নাগরিককে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রতিদিনই ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সেবা নিতে এসে কর্মকর্তা না থাকায় ফিরে যেতে হচ্ছে সেবাপ্রত্যাশীদের।

সিলেট সিটি করপোরেশনের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রেজওয়ান আহমদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কিছুসংখ্যক কাউন্সিলর নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে না পারায় তিন কর্মকর্তার কক্ষে তালা দিয়েছেন। ’

১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর (বিএনপি সমর্থিত) এ বি এম জিল্লুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তিন শীর্ষ কর্মকর্তার কক্ষে তালা দেওয়ায় নগর ভবনের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। ’ গতকাল কোনো দাপ্তরিক কাজ হয়নি বলে তিনি জানান।


মন্তব্য