kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ফতুল্লায় জনতা লীগ নেতা খুন

ঘাতকদের পা ধরে প্রাণ ভিক্ষা চেয়েছিলেন স্ত্রী

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

২০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ঘাতকদের পা ধরে প্রাণ ভিক্ষা চেয়েছিলেন স্ত্রী

শেখ স্বাধীন মনির হোসেন

‘স্বামীকে মারধর করার সময় সন্ত্রাসীদের পায়ে ধরে প্রাণ ভিক্ষা চাইলাম। আমি ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা—এ কথা বারবার বলার পরও সন্ত্রাসীদের মন গলেনি।

চোখের সামনে আমার স্বামীকে তারা কোপাইল, বাধা দিলে আমাদেরও মারধর করল। পায়ে ধরেও মন গলাতে পারলাম না তাদের। ’ নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার পাগলায় সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত আওয়ামী জনতা লীগ সভাপতি শেখ স্বাধীন মনির হোসেনের (৩৬) অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী পারভীন আক্তার মেঘলা বুধবার বিকেলে বাসায় এভাবেই বিলাপ করে ঘটনার বর্ণনা দিলেন। এ সময় কয়েকবার মূর্ছা যান তিনি।

গতকাল বুধবার সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শেখ স্বাধীন মনির হোসেন। এর আগে মঙ্গলবার রাতে তাঁকে কুপিয়ে জখম করা হয়।

এ সময় এগিয়ে গেলে তাঁর স্ত্রী মেঘলা আক্তার ও মেঘলার বোন রেখা আক্তারকেও মারধর করে সন্ত্রাসীরা। তাঁরা দুজন গতকাল চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। আর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে মনিরের লাশ বাড়িতে আনা হয়। খবর পেয়ে দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মঈনুল হক।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পাগলার কুতুবপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর হোসেন মীরু ওরফে ল্যাংরা মীরু যে সম্প্রতি একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছে। এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও ডিশ ব্যবসা নিয়ে তাঁর সঙ্গে শেখ স্বাধীন মনির গ্রুপের বিরোধ ছিল। এ নিয়ে সম্প্রতি দুই পক্ষে পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষও হয়। এর জের ধরে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শেখ স্বাধীন মনির তাঁর স্ত্রী পারভীন আক্তার মেঘলা ও মেঘলার বড় বোন রেখাকে নিয়ে বাইরে থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে পাগলার রসুলপুর এলাকায় মীর হোসেন মীরু বাহিনীর লোকজন মনিরের ওপর হামলা চালায়। তখন তাঁর স্ত্রী মেঘলা ও তাঁর বোন রেখা চিত্কার করলে সন্ত্রাসীরা তাদেরও কোপায়। তিনজনকেই দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বুধবার সকালে মনির মারা যান।

মনিরের স্ত্রী পারভীন আক্তার মেঘলা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতে মীরুর বড় ভাই আলমগীর তার ভাগিনা শাকিল, সহযোগী জনিসহ কয়েকজন যুবক এসে মনিরকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। আমার ১০ বছরের মেয়ে স্বর্ণালী আক্তার, বড় বোন রেখাসহ আমি ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়েও তাদের বাধা দিই। সন্ত্রাসীদের হাতে-পায়ে ধরে মনিরের প্রাণভিক্ষা চাই। এ সময় আমার মেয়েকে তারা চুল ধরে ধাক্কা দিয়ে দূরে ফেলে দেয় এবং আমাদের দুই বোনকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে চলে যায়। ’ মেঘলার অভিযোগ, সন্ত্রাসী মীরু কারাগার থেকে মনিরকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছে। সে কারণেই তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্প পুলিশের উপপরিদর্শক বাচ্চু মিয়া জানান, ময়নাতদন্ত শেষে নিহত মনিরের মরদেহ গ্রামের বাড়ি পাঠানো হয়েছে।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি (তদন্ত) শাহজালাল জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।


মন্তব্য