kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আজ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ বৃহস্পতিবার। এ উপলক্ষে দিনভর বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

২০০৫ সালের ২০ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি পায় দেড় শ বছরের পুরনো এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকটসহ বিভিন্ন প্রতিকূলতা থাকলেও ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যাপীঠ উচ্চশিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার চত্বরে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা উত্তোলন, পায়রা অবমুক্তকরণ ও বেলুন উড়িয়ে দিবসটির সূচনা করা হবে। এরপর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান নেতৃত্বে একটি শোভাযাত্রা বের হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ব্যানার নিয়ে এতে অংশ নেবে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০১৬ উপলক্ষে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ভবনে আলোকসজ্জা করা হয়েছে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সব প্রস্তুতি ভালোভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক পরিবেশ ক্রমান্বয়ে উন্নত হচ্ছে। অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অনেকের সহযোগিতা পাচ্ছি। আবাসিক হল নির্মাণসহ নানা উন্নয়নমূলক কাজ এরই মধ্যে শুরু হয়েছে।

১৮৫৮ সালে ‘ব্রাহ্ম স্কুল’ হিসেবে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যাত্রা শুরু করে। প্রয়াত জগন্নাথ রায় চৌধুরী ছিলেন এর প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর ছেলে কিশোরী লাল রায় চৌধুরী ১৮৮৪ সালে একে কলেজে উন্নীত করেন। তখন এর নাম বদলে রাখা হয় ‘ঢাকা জগন্নাথ কলেজ’। ভারতবর্ষে সবচেয়ে বড় আবাসিক সুবিধাসংবলিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল জগন্নাথ কলেজ। ১৯৬৮ সালে জগন্নাথ কলেজ সরকারি করা হয়। ১৯৭৫ সালে এতে স্নাতকোত্তর কোর্স চালু হয়। এরপর ২০০৫ সালের ২০ অক্টোবর এই কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করা হয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী, ৫৭৬ জন শিক্ষক এবং ৬১২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। ছয়টি অনুষদের ৩১টি বিভাগ ও একটি ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম।

পুরান ঢাকার দীর্ঘ যানজট ও পরিবহন সুবিধার অভাবে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। সম্পূর্ণ অনাবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এখানকার শিক্ষার্থীদের থাকতে হচ্ছে বিভিন্ন ভাড়া বাসায় মেস করে। যদিও এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১১টি হল নানাভাবে হাতছাড়া হয়েছে আগেই। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনসহ হল নির্মাণের জন্য বাজেট পাস হয়েছে একনেক সভায়। চলছে একটি ছাত্রী হল নির্মাণের কাজ। মূলত শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যার সমাধান হলে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ আরো উন্নত হবে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।


মন্তব্য