kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আদালতে জবানিতেও স্বামীদের ওপর দায় দিলেন তিন জঙ্গি

রেজোয়ান বিশ্বাস   

২০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ ও হামলায় স্বামীদের সহায়তাকারী নব্য জেএমবির তিন নারী জঙ্গি আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতেও জঙ্গিবাদে জড়ানোর জন্য স্বামীদের ওপর দায় চাপিয়েছেন। তাঁরা বলেছেন, নিজের ইচ্ছায় তাঁরা ওই ভয়ংকর পথে পা বাড়াননি।

স্বামীদের চাপে জঙ্গিবাদে জড়াতে বাধ্য হন তাঁরা। এ ছাড়া জঙ্গিবাদে জড়ানোর জন্য তাঁরা এখন অনুতপ্ত বলেও জানান। স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আকুতিও জানিয়েছেন তাঁরা আদালতে। আদালত পুলিশ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সাত দিনের রিমান্ড (জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজত) শেষে ওই তিন নারী জঙ্গি গত সোমবার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম (সিটি) ইউনিটের হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের তিন নারী যেসব তথ্য দিয়েছিলেন, আদালতেও সেসব তথ্যই দেন। জবানবন্দি গ্রহণ করার পর আদালতের নির্দেশে তিন নারীকেই কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আদালত পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জবানবন্দিতে তিন নারী জঙ্গিবাদে জড়ানোর তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি শীর্ষস্থানীয় জঙ্গি নেতাদের বাসায় কিভাবে আস্তানা গড়ে উঠেছিল তার বর্ণনা রয়েছে। তিন জঙ্গি নেতা স্ত্রীদের সহায়তায় কিভাবে জঙ্গিবাদের বিস্তার ঘটিয়ে সফল হওয়ার চেষ্টা করেন তাও বর্ণনা করেন ওই নারীরা।

সূত্র মতে, জবানবন্দিতে তিন নারী অনেকটা একই সুরে বলেছেন, বিয়ের আগে তাঁদের কারো স্বামীই জঙ্গি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ছিল না। কিন্তু বিয়ের পর তারা জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ে স্ত্রীদেরও সম্পৃক্ত হতে চাপ দিতে থাকে। এরপর স্বামীদের কথামতো জঙ্গি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত না হলে সংসার ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়। একপর্যায়ে তাঁরা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্বামীদের কথামতো জঙ্গিবাদে জড়াতে বাধ্য হন।

তানভীর কাদেরী ওরফে আব্দুল করিমের স্ত্রী আবেদাতুল ফাতেমা ওরফে খাদিজা জবানবন্দি দেন ঢাকা মহানগর হাকিম মাহমুদুল হাসানের আদালতে। নূরুল ইসলাম মারজানের স্ত্রী আফরিন ওরফে প্রিয়তি জবানবন্দি দেন ঢাকা মহানগর হাকিম নূর নবীর আদালতে। জঙ্গি বাসারুজ্জামানের স্ত্রী শায়লা আফরিন জবানবন্দি দেন মহানগর হাকিম সাদবীর ইয়াসির আহসান চৌধুরীর কাছে।  

গত ১১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর রাজধানীর আজিমপুরে জঙ্গি আস্তানার খোঁজ পেয়ে সেখানে অভিযান চালিয়ে ওই তিন নারীকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। ওই অভিযানে নিহত হন শীর্ষ জঙ্গিনেতা তানভীর কাদেরী। তবে ওই সময় তিন নারী জঙ্গি আহত অবস্থায় গ্রেপ্তার হওয়ায় তাঁদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ৮ অক্টোবর ঢাকা মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষ তিন নারীকে ডিএমপির সিটি ইউনিটের কাছে হস্তান্তর করে। এরপর ৯ অক্টোবর তাঁদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।


মন্তব্য