kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বদির বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার রায় ২ নভেম্বর

আদালত প্রতিবেদক   

২০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



বদির বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার রায় ২ নভেম্বর

কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামী ২ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে। গতকাল বুধবার ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আবু আহম্মেদ জমাদ্দার আসামিপক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে এ দিন ধার্য করেন।

  গতকাল জামিনে থাকা আসামি বদি আদালতে হাজির ছিলেন। আইনজীবী মাহবুব আহমেদ তাঁর পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা এই মামলায় চার্জশিটভুক্ত ১৫ জনের মধ্যে ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর আসামির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ২৬(২) ও ২৭(২) ধারায় অভিযোগ গঠন করেন একই আদালত।

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনপূর্বক মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানি লন্ডারিং আইনের বিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে গত বছর ৭ মে দুদকের উপপরিচালক মঞ্জুর মোর্শেদ এই চার্জশিট দাখিল করেন। এর আগে ২০১৪ সালের ২১ আগস্ট রমনা থানায় দুদকের উপপরিচালক মোহাম্মদ আবদুস সোবহান মামলাটি দায়ের করেন।

চার্জশিটে বলা হয়, সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি নির্বাচন কমিশনে গত বছরের ২০ মার্চ জমা দেওয়া হলফনামায় বলেছেন, তাঁর বার্ষিক আয় সাত কোটি ৩৯ লাখ ৩৯ হাজার ৮০৮ টাকা। আর বার্ষিক ব্যয় দুই কোটি ৮১ লাখ ২৯ হাজার ৯২৮ টাকা। তাঁর নিজের ও সন্তানদের নামে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ পাঁচ কোটি ২০ লাখ ১৪ হাজার ৫৩৮ টাকা। পাঁচ বছরে তাঁর আয় ৩৬ কোটি ৯৬ লাখ ৯৯ হাজার ৪০ টাকা। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীর সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামা মোতাবেক তাঁর বার্ষিক আয় ছিল দুই লাখ ১০ হাজার ৪৮০ টাকা। ব্যয় ছিল দুই লাখ ১৮ হাজার ৭২৮ টাকা। ওই সময় বিভিন্ন ব্যাংকে তাঁর মোট জমা ও সঞ্চয়ী আমানত ছিল ৯১ হাজার ৯৮ টাকা।

তদন্তে দেখা গেছে, বদি ২০১৩ সালের ৩০ জুন থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ের আয়কর রিটার্ন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) দাখিল করেন। ওই রিটার্ন থেকে জানা গেছে, তাঁর স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ছয় কোটি ৮৭ লাখ ২৮ হাজার ৬৪২ টাকা এবং অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৯ কোটি ১৯ লাখ ৬৭ হাজার ৫৬৫ টাকা। অর্থাৎ মোট সম্পদের পরিমাণ ১৬ কোটি ছয় লাখ ৯৬ হাজার ২০৭ টাকা।

সার্বিক তদন্তে দেখা গেছে, আবদুর রহমান বদি তাঁর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ১০ কোটি ৮৬ লাখ ৮১ হাজার ৬৬৯ টাকা মূল্যমানের সম্পদ গোপন করে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। এ ছাড়া অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের বৈধতা দেখানোর জন্য দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে কম মূল্যের সম্পদ ক্রয় দেখিয়ে এক কোটি ৯৮ লাখ তিন হাজার ৩৭৫ টাকা বেশি মূল্যে বিক্রি দেখিয়েছেন। এ ছাড়া ২০০৮ ও ২০১৩ সালে নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা সম্পদ বিবরণী পর্যালোচনায় দেখা গেছে, তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৩৫১ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রসঙ্গত, এ মামলায় বদি ২০১৪ সালের ১২ অক্টোবর ঢাকা সিএমএম আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে তা নাকচ করে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন পান।


মন্তব্য