kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


প্রতিবেদন ওয়েবসাইটে প্রকাশ

রামপাল প্রকল্প সরানোর পরামর্শে অটল ইউনেসকো

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২০ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



রামপাল প্রকল্প সরানোর পরামর্শে অটল ইউনেসকো

রামপালে নির্মিতব্য কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পটি সুবিধাজনক অন্য কোনো স্থানে সরিয়ে নিতে পরামর্শ দিয়ে সরকারের কাছে দেওয়া প্রতিবেদনটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে ইউনেসকো। মঙ্গলবার ইউনেসকোর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে বলা হয়, রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

প্রতিবেদনে ইউনেসকোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সেন্টার ও ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার (আইইউসিএন) যৌথভাবে এ আশঙ্কা প্রকাশ করে রামপালে বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল বা সরানোর দাবিতে অটল থাকার বিষয়টি আবারও জানিয়েছে।

এ বিষয়ে গত আগস্টেই সরকারকে চিঠি দিয়ে জবাব চেয়েছিল জাতিসংঘের সহযোগী সংস্থাটি। গত ১০ অক্টোবর ইউনেসকোর কাছে পাঠানো এক ফিরতি প্রতিবেদনে বাংলাদেশ জানিয়েছে, রামপাল প্রকল্পের কারণে সুন্দরবনের কোনো ক্ষতি হবে না। বিদ্যুৎকেন্দ্রর নির্মাণকাজ চলবে। সরকারের কাছ থেকে জবাব পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেদনটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করল ইউনেসকো।

ইউনেসকোর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সুন্দরবনের বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষিত স্থান থেকে মাত্র ১৪ কিলোমিটার দূরে কয়লাভিত্তিক এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে; যা বনের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ।

প্রতিবেদন মতে, বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হলে চারটি প্রধান দূষণের শিকার হবে সুন্দরবন। এগুলো হলো—কয়লার ছাইয়ের কারণে বায়ুদূষণ, বর্জ্য অবমুক্ত ছাই ও পানি থেকে দূষণ, জাহাজ চলাচল বৃদ্ধি ও অতিরিক্ত নদী খননে জলজ পরিবেশ ধ্বংস এবং শিল্প-কারখানা স্থাপন ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো তৈরির কারণে সমন্বিত নেতিবাচক প্রভাব বনের পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতি করবে। এ জন্য রামপাল তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পটি বাতিল অথবা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইউনেসকো।

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়ে সরকার নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নেবে কি না তা আগামী ১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন আকারে জানাতে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সেন্টারে দিতে বাংলাদেশ সরকারকে অনুরোধ করেছে ইউনেসকোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সেন্টার ও আইইউসিএন। একই সঙ্গে বিশ্ব ঐতিহ্য রক্ষায় বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের এক পৃষ্ঠার একটি সারাংশও প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ করা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রতিবেদনটি ২০১৭ সালে অনুষ্ঠেয় বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির ৪১তম অধিবেশনে পর্যালোচনা করা হবে। এর পরই সুন্দরবনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হবে কি না এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়।

১৯৯৭ সালে সুন্দরবনকে ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আগামী বছর এই স্বীকৃতির ২০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন করা হবে। সুন্দরবনের বর্তমান অবস্থা এবং বনের ওপর রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব খতিয়ে দেখতে চলতি বছরের মার্চে ইউনেসকো ও আইইউসিএনের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে আসে। তারা রামপাল প্রকল্প স্থান ও সুন্দরবন ঘুরে এবং সরকার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতামত নিয়ে গত জুন মাসে একটি প্রতিবেদন জমা দেয়। এই প্রতিবেদনে রামপালকে সুন্দরবনের জন্য মারাত্মক হুমকি উল্লেখ করে প্রকল্পটি বাতিল বা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।


মন্তব্য