kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প

মোদিকে চিঠি দিতে যাওয়ার মিছিলে পুলিশের হামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



মোদিকে চিঠি দিতে যাওয়ার মিছিলে পুলিশের হামলা

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প বাতিলের দাবিতে নরেন্দ্র মোদিকে খোলা চিঠি দেওয়ার জন্য তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ভারতীয় হাইকমিশন অভিমুখী মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে পুলিশ। তাদের লাঠিপেটায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে সমাবেশ করার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে খোলা চিঠি দেওয়ার জন্য মিছিল নিয়ে ভারতের হাইকমিশনের দিকে রওনা দেয় জাতীয় কমিটি। পথে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস, জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ।

মিছিল বাধাপ্রাপ্ত হলেও বিকেল ৩টার দিকে জাতীয় কমিটির একটি প্রতিনিধিদল গুলশানে ভারতীয় হাইকমিশনে গিয়ে চিঠি দিয়ে আসে। দলে ছিলেন বি ডি রহমতুল্লাহ, তানজীম উদ্দিন খান, রেহনুমা আহমেদ, মোশাইদা সুলতানা, কফিল আহমেদ ও কল্লোল মোস্তফা।

কল্লোল মোস্তফা জানান, জাতীয় কমিটির পক্ষে বি ডি রহমতুল্লাহ হাইকমিশনের ভেতরে গিয়ে এক কর্মকর্তার কাছে চিঠিটি পৌঁছে দেন।

পুলিশের এ আচরণকে অগণতান্ত্রিক আখ্যা দিয়েছেন জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে লেখা একটি চিঠি ভারতের হাইকমিশনকে দিতে যাওয়া একটি স্বাভাবিক ঘটনা। এটি গণতান্ত্রিক অধিকার। অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে আমরা আমাদের দাবি তুলে ধরছি। পুলিশের এ বাধা বাড়াবাড়ি। ’

রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প বাতিলের দাবিতে আন্দোলন চলবে জানিয়ে আনু মুহাম্মদ বলেন, তাঁদের প্রতিনিধিরা চিঠিটি হাইকমিশনে পৌঁছে দিয়েছে।

মিছিলে পুলিশের বাধার কারণে মালিবাগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে জাতীয় কমিটি। সেখান থেকে আগামীকাল ২০ অক্টোবর ঢাকাসহ সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। ওই দিন বিকেল ৪টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হবে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে জাতীয় কমিটির নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে বিজয়নগর, শান্তিনগর হয়ে গুলশানের দিকে যায়। দুপুর ১টার দিকে মিছিল মৌচাক মোড়ে পৌঁছলে পুলিশ বাধা দেয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে কিছু ধস্তাধস্তি হয়। এরপর মিছিলকারীরা সামনে এগোতে চাইলে পুলিশ হামলা চালায়, কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। এতে মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। অন্তত ১৫ জন আহত হয়। সজীব নামের ছাত্র ইউনিয়নের এক নেতাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মালিবাগের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঘটনাস্থলে থাকা ঢাকা মহানগর পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার আনোয়ার হোসেন বলেন, মিছিলটিকে মৌচাক মার্কেটের সামনে থামতে বলা হয়। কিন্তু বাধা উপেক্ষা করে তারা মালিবাগের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। তখন পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী শেখ মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক তানজীম উদ্দিন খান প্রমুখ।

সমাবেশে নেতারা বলেন, সুন্দরবন দুই দেশেরই সম্পদ। এটি ধ্বংস করার অধিকার কারোর নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সুন্দরবনধ্বংসী রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিলের আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রকল্পের সঙ্গে ভারতের সরকার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান জড়িত। ভারতীয় আইন সুন্দরবনের কাছে এ ধরনের প্রকল্প অনুমোদন করে না। তাই ভারতের প্রধানমন্ত্রীকেও প্রকল্পবিষয়ক উদ্বেগের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে খোলা চিঠি দেওয়া হচ্ছে। সমাবেশে খোলা চিঠি পাঠ করে শোনান অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।

মোদিকে খোলা চিঠি ভারতীয় আন্দোলনকারীদের : ভারতের বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, সুন্দরবনের অপূরণীয় ক্ষতি হবে—এ কথা উল্লেখ করে প্রস্তাবিত রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাতিলের দাবি জানিয়েছেন ভারতীয় পরিবেশ ও নাগরিক অধিকার রক্ষা আন্দোলনকারীরা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশে লেখা খোলা চিঠিতে তাঁরা বলেছেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সুন্দরবনের ভারতীয় অংশও ক্ষতির মুখে পড়বে। গতকাল নয়া দিল্লিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে খোলা চিঠিটি প্রকাশ করেন ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স অব পিপলস মুভমেন্টসহ বেশ কয়েকটি সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

অল ইন্ডিয়া ইউনিয়ন অব ফরেস্ট ওয়ার্কিং পিপলের নেতা অশোক চৌধুরী সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বাংলাদেশের আন্দোলনকারীদের নিয়ে দিল্লিতে যৌথভাবে রামপাল প্রকল্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ করার কথা ছিল। কিন্তু ভিসা সমস্যায় তা করা সম্ভব হলো না। নেতারা বলেন, তাঁরা উন্নয়নের বিরুদ্ধে নন। তবে প্রস্তাবিত জায়গায় এ প্রকল্পের বিরুদ্ধে তাঁরা সরব হয়েছেন, কারণ সুন্দরবনের পরিবেশ এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।


মন্তব্য