kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


এমপিকে ফেসবুকে হুমকির জেরে গ্রেপ্তার

সখীপুরের সেই শিক্ষার্থীকে খালাস দিলেন হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



টাঙ্গাইল জেলার সখীপুর উপজেলার প্রতীমা পাবলিক হাই স্কুলের শিক্ষার্থী সাব্বির শিকদারকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের দেওয়া সাজা অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এবং একই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাকসুদুল আলমকে সখীপুর থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দুজনকে ঢাকা বিভাগের বাইরে বদলি করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। জনপ্রশাসনসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব ও পুলিশের মহাপরিদর্শককে এ নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া ওই শিক্ষার্থীর ওপর নির্যাতন, স্থানীয় সংসদ সদস্য অনুপম শাহজাহান জয়ের করা জিডির পরিপ্রেক্ষিতে আটকের পর মাদকের মামলায় সাজা দেওয়াসহ পুরো ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত করতে বলা হয়। টাঙ্গাইলের মুখ্য বিচারিক হাকিমকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীম ও বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাসের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এ রায় দেন। রায়ের আগে গতকালও আদালতে দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে শুনানি চলে। আদালতে ওসির পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন এমপি, ইউএনওর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম। ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার তানজিব-উল আলম, পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনা আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শশাংক শেখর, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল বশির আহমেদ। এ সময় আদালতে সেই শিক্ষার্থী সাব্বির শিকদার, তার পিতা শাহিনুর আলম উপস্থিত ছিলেন।

গতকাল শুনানিকালে ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনের সত্যতা প্রমাণের জন্য একই বিষয়ে গত ১৮ সেপ্টেম্বর প্রথম আলো ও যুগান্তর, ১৯ সেপ্টেম্বর মানবজমিন ও আমাদের সময় এবং ২০ সেপ্টেম্বর ইত্তেফাকে প্রকাশিত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয় আদালতে। এ ছাড়া ১৯ সেপ্টেম্বর ইউএনও ও ওসির সঙ্গে ডেইলি স্টারের প্রতিবেদকের মোবাইল ফোনে কথা বলার সত্যতা হিসেবে ফোন কললিস্ট জমা দেওয়া হয়।

গতকাল শুনানিতে আদালত আইনজীবীদের কাছে জানতে চান, দুই বছরের বেশি সাজা হতে পারে এমন মাদকের মামলায় ভ্রাম্যমাণ আদালত বিচার করতে পারেন কি না। জবাবে আইনজীবীরা দুই রকম মত দেন। তবে সব আইনজীবীই ভ্রাম্যমাণ আদালত আইনের ব্যাপক অসংগতি তুলে ধরেন।

আদালতের রায়ের পর অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, মাদকের মামলায় সাব্বিরকে দেওয়া সাজা অবৈধ ঘোষণা করে তাকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট।


মন্তব্য