kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


চিকিৎসার অভাবে অন্ধ হবেন কবি হেলাল হাফিজ!

নওশাদ জামিল   

১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



চিকিৎসার অভাবে অন্ধ হবেন কবি হেলাল হাফিজ!

কবিতাই তাঁর ধ্যান-জ্ঞান, আরাধনা। কবিতার জন্যই স্বেচ্ছায় বিসর্জন দিয়েছেন জীবনের নানা চাওয়া-পাওয়া।

অনেকটা ‘একা ও নিঃসঙ্গ’ই কাটিয়েছেন জীবনের ৬৮ বছর। ১৯৮৬ সালে বেরিয়েছে তাঁর প্রথম ও একমাত্র কাব্যগ্রন্থ ‘যে জলে আগুন জ্বলে’। ৫৬টি কবিতার এই গ্রন্থ তিন দশক ধরে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে আছে। অথচ চিকিৎসার অভাবে নিজের দুই চোখ হারাতে বসেছেন পাঠকনন্দিত সেই কবি হেলাল হাফিজ।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের মিডিয়া সেন্টারে বসে দীর্ঘক্ষণ কথা হয় এই কবির সঙ্গে। তিনি কালের কণ্ঠকে জানান, গ্লুকোমা আক্রান্ত হয়ে তাঁর বাঁ চোখটি নষ্ট হয়ে গেছে। ডান চোখের দৃষ্টিশক্তিও ধীরে ধীরে নষ্ট হওয়ার পথে। ঝাপসা দেখেন। শুধু তাই নয়, তাঁর শারীরিক অন্যান্য সমস্যাও প্রকট আকার ধারণ করেছে। তিনি ডায়াবেটিস, অ্যাজমাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন।

আবেগতাড়িত কণ্ঠে কবি হেলাল হাফিজ বলেন, “কয়েক বছর ধরে ভাবছিলাম, দ্বিতীয় কবিতার বইটা প্রকাশ করব। নামও ঠিক করেছি ‘বেদনাকে বলেছি কেঁদো না’। কিন্তু চোখের সমস্যার জন্য পাণ্ডুলিপি গোছাতে পারছি না। আমি লেখালেখির মানুষ, কিন্তু চোখের সমস্যার জন্য লিখতেই পারছি না। ”

তিনি বলেন, ‘আমার চলতি বছরটা গেল শারীরিক সমস্যা নিয়ে। চোখের সমস্যা, হার্টের ঝামেলা, শারীরিক দুর্বলতা, ডায়াবেটিস—এসব কারণে লেখা বা পড়ায় মন দিতে পারছি না। ’

তিনি জানান, রাজধানীর ধানমণ্ডির হারুন আই ফাউন্ডেশন এবং জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে ডাক্তার দেখিয়েছেন তিনি। দুটি প্রতিষ্ঠানে ডাক্তাররা অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। চিকিৎসা করেছেন। কিন্তু বাঁ চোখের আলো ফেরাতে পারেননি। চোখের চিকিৎসা করতে করতে তিনি প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।

হেলাল হাফিজ বলেন, ‘কিছুদিন আগে আমার চোখে ছানি ধরা পড়ে। ধানমণ্ডির আল নূর হাসপাতালে চিকিৎসা করাই। কয়েক মাস ভালো দেখতে পারছিলাম। কিন্তু এর পরে বাঁ চোখে কম দেখতে শুরু করি। একপর্যায়ে বাঁ চোখ পুরোপুরি অন্ধ হয়ে যায়। ’

দেশের কবি-সাহিত্যিকসহ সংস্কৃতি অঙ্গনের বিভিন্নজনের সহায়তায় বহুবার এগিয়ে এসেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চিকিৎসার বিষয়ে সরকার কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে কি না জানতে চাইলে অভিমানী কবি হেলাল হাফিজ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমার অসুস্থতার কথা জানেন বলে শুনেছি। তাঁর এক বিশেষ সহকারী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি আমাকে প্রধানমন্ত্রী বরাবর দরখাস্ত করতে বলেছেন, কিন্তু আমি কোনো দরখাস্ত করব না। সাহায্যের আবেদন করব না। আমি কারো করুণার পাত্র হতে চাই না। ’

হেলাল হাফিজ দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘আমার অর্থ নেই, কিন্তু আমি কারো করুণার পাত্র হতে চাই না। আমার আত্মসম্মান রয়েছে। সেই আত্মসম্মান নিয়েই বেঁচে আছি। কোনো ব্যক্তি, কোনো প্রতিষ্ঠান যদি সম্মানের সঙ্গে সহযোগিতা করেন, তবে তাঁর সহযোগিতা আমি গ্রহণ করব। ’


মন্তব্য