kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দেড় বছরে ভুয়া পাসপোর্টে দেশ ছেড়েছে দুই হাজার ব্যক্তি

ওমর ফারুক   

১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



দেড় বছরে ভুয়া পাসপোর্টে দেশ ছেড়েছে দুই হাজার ব্যক্তি

সরকারি কর্মকর্তা সাজিয়ে ভুয়া পাসপোর্টে প্রায় দুই হাজার ব্যক্তিকে তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপসহ কয়েকটি দেশে পাঠানো হয়েছে। এই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত খোদ পাসপোর্ট অফিসেরই কয়েকজন কর্মকর্তা।

আর সরকারি কর্মকর্তা বানিয়ে পাসপোর্ট করে দেওয়ার বিনিময়ে তাঁরা প্রতিজনের কাছ আদায় করেছেন তিন লাখ টাকার বেশি। সেই চক্রেরই একজন পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক এস এম শাহজামান। গত রবিবার তাঁকে চাকরিচ্যুত করে আদেশ জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সূত্র জানায়, বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিসে কর্মরত থাকাকালে এস এম শাহজামানের বিরুদ্ধে জাল এনওসির ভিত্তিতে সাধারণ পাসপোর্টের পরিবর্তে অফিশিয়াল পাসপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। এ অভিযোগ তদন্তে গঠন করা হয় তিন সদস্যের একটি কমিটি। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গত বছরের ২০ মে তাঁকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। আর গত রবিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোজাম্মেল হক খান স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের শেষের দিক থেকে ২০১৫ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার ব্যক্তিকে অফিশিয়াল পাসপোর্ট দেওয়া হয়েছে। এস এম শাহজামানের সহযোগিতায় জালিয়াতির মাধ্যমে এসব বেসরকারি পাসপোর্টকে সরকারি (অফিশিয়াল) পাসপোর্টে রূপান্তর করা হয়। প্রতিটি পাসপোর্টের জন্য শাহজামানসহ পাসপোর্ট অফিসের চক্রের সদস্যরা তিন লাখ টাকার বেশি করে আদায় করেন। এভাবে পাসপোর্ট জালিয়াতি করে চক্রটি অর্ধশত কোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নিয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপসহ ২৭টি দেশের পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশের পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষের সমঝোতা স্মারক রয়েছে। এসব দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিনা ভিসায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে যাতায়াত করতে পারেন। আর এই সুযোগ নিয়ে পাসপোর্ট অফিসের চক্রের সদস্যরা তাঁদের এসব দেশে পাঠিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেন। জানা গেছে, এসব ভুয়া পাসপোর্টধারীর বেশির ভাগই প্রথমে গেছে তুরস্কে। পরে সেখান থেকে ভিসা নিয়ে তারা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমিয়েছে। ওই সময়ে অফিশিয়াল পাসপোর্ট নিয়ে প্রতিদিন শত শত লোক তুরস্কে যাওয়ার কারণে তুরস্ক সরকারের সন্দেহ হয়। তারা গত বছরের এপ্রিলে বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারকে অবহিত করে। এর পরই সরকার ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা নড়েচড়ে বসেন। তাঁরা তথ্য সংগ্রহে নেমে জানতে পারেন, খোদ পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তাদের সহযোগিতায়ই এসব জালিয়াতি করা হয়েছে। তাঁরা এমআরপি প্রকল্পের আর্কাইভ ঘেঁটে সংগ্রহ করেন তথ্য। দেখতে পান অফিশিয়াল পাসপোর্টে রূপান্তরের জালিয়াতিটা করা হয়েছে অত্যন্ত দক্ষভাবে। জালিয়াতি করে সরকারি চাকরিজীবীর অনুকূলে নকল ‘বহিঃবাংলাদেশ ছুটির সনদ’ও উপস্থাপন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ব্যবহার করে নকল জন্মনিবন্ধন সনদও তৈরি করা হয়েছে। নকল সিল, স্বাক্ষর ও অফিশিয়াল পরিচয় ব্যবহার করে এনওসি তৈরি করা হয়। পরে গোয়েন্দা সংস্থার তরফ থেকে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানায়। এরই অংশ হিসেবে গত রবিবার এস এম শাহজামানকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

 


মন্তব্য