kalerkantho


রাসেলের জন্মদিনে শিশু-কিশোরদের প্রধানমন্ত্রী

মন দিয়ে পড়ালেখা করে মানুষের মতো মানুষ হতে হবে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



মন দিয়ে পড়ালেখা করে মানুষের মতো মানুষ হতে হবে

রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে গতকাল বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ও এসএসসি পরীক্ষায় কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : পিআইডি

মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে নিজেকে আগামী দিনের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিশু-কিশোরদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘সবাইকে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করে মানুষের মতো মানুষ হতে হবে।

কারণ এ দেশের ভবিষ্যৎ কর্ণধার তোমরাই। সুতরাং আজকের বিশ্বের সঙ্গে তোমাদের তাল মিলিয়ে চলতে হবে। ’

ছোট ভাই শেখ রাসেলের ৫২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শিশু-কিশোর সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পরিবারের অধিকাংশ সদস্যের সঙ্গে ঘাতকরা হত্যা করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট ছেলে শিশু রাসেলকেও। তখন ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়তেন ১১ বছরের রাসেল।

অনুষ্ঠানে রাসেলের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের শিশু-কিশোরদের মাঝেই নিজের হারানো ছোট ভাই রাসেলকে দেখতে পান জানিয়ে তাদের জন্য সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে নিজের প্রচেষ্টার কথা জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা দিয়ে প্রযুক্তি শিক্ষার ওপর সরকার যে এখন গুরুত্ব দিচ্ছে, তা দেশের ভবিষ্যৎ কর্ণধার শিশু-কিশোরদের জন্যই। তিনি বলেন, ‘তোমাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ দেওয়ার জন্য আজকে প্রযুক্তি শিক্ষাটাকে সব থেকে গুরুত্ব দিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের একটা মানুষও ক্ষুধার্ত থাকবে না, গৃহহারা থাকবে না। প্রতিটি শিশু স্কুলে যাবে, পড়াশোনা করবে। নিজেদের মেধা বিকাশের সুযোগ পাবে, সে ধরনের সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য। ’ তিনি বলেন, ‘আমি চাই না এ দেশে কোনো জঙ্গিবাদ বা সন্ত্রাসবাদ থাকুক। কারণ এই জঙ্গিবাদের সত্যিকার আঘাতটা আমরাই পেয়েছি। ’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি চাই এ দেশ একটি শান্তির দেশ হবে। উন্নত ও সমৃদ্ধশালী দেশ হবে। আমি জানি এটা অর্জন করা খুব কঠিন। আজকে বাংলাদেশ যে পর্যায়ে এসেছে সে অবস্থানে আনতে প্রচণ্ড কষ্ট করতে হয়েছে। অনেক সংগ্রাম-ত্যাগ করতে হয়েছে। ’ তিনি বলেন, ‘সে জন্য আজকের শিশু এবং আগামী দিনের কর্ণধারদের আমি বলব, দেশের জন্য জাতির জন্য সব সময় যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত থাকতে হবে। কারণ মহান ত্যাগের মধ্য দিয়েই যেকোনো মহান উদ্দেশ্য অর্জন করা যায়, জাতির পিতা এটাই আমাদের শিখিয়েছেন। ’

গুরুজনকে সম্মান জানানোর জন্য আগামী প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘পিতা-মাতা ও শিক্ষকদের সম্মান করতে হবে। বড়দের কথা শুনতে হবে। নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। আর মনোযোগ দিয়ে পড়তে হবে। ’

স্নেহের রাসেলকে স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা সব সময় ব্যস্ত থাকতাম লেখাপড়া নিয়ে, বাবা কারাগারের বাইরে থাকলে ব্যস্ত থাকতেন তাঁর সংগঠন নিয়ে, মা সংসার সামলানো ছাড়াও বাবার মামলা-মোকদ্দমা নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। কাজেই রাসেলকে অনেক সময় একা বাড়িতে থাকতে হতো, সেই সময়টা ওর জন্য খুবই কষ্টকর ছিল। ’ তিনি বলেন, ‘তার পরও আমরা যতটুকু সময় পেতাম ওকে (রাসেলকে) দিতে চেষ্টা করতাম। আজকে বেঁচে থাকলে কত বড় হতো? সেটা মাঝেমধ্যেই ভাবি। ’

শেখ হাসিনা ১৫ আগস্টের বিয়োগান্ত অধ্যায় স্মরণ করে বলেন, ‘ধানমণ্ডির ওই বাড়ির সিঁড়িতে পড়ে আছে পিতার লাশ, নিচে পড়ে আছে ভাইয়ের লাশ, মায়ের লাশ, সেখান থেকে নিয়ে রাসেলকেও হত্যা করা হলো। বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনা ঘটুক আমরা চাই না। কারণ ১৫ আগস্ট যে ঘটনা ঘটেছে একমাত্র কারবালার ঘটনার সঙ্গেই এর তুলনা চলে। কারবালাতেও হয়তো শিশুদের এভাবে হত্যা করা হয়নি। কিন্তু এখানে অসহায় নারী, সন্তানসম্ভবা স্ত্রী, শিশু কাউকেই বাদ দেওয়া হয়নি। ’

শেখ রাসেলের মিলাদে প্রধানমন্ত্রী : ছোট ভাই শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষে গতকাল বাদ মাগরিব ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনে এক মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত ছিলেন। সুত্র : বাসস।


মন্তব্য