kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ

হাসিনার উন্নয়ন পরিকল্পনায় পূর্ণ সমর্থন কিমের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



শেখ হাসিনার সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনায় পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ্কালে কিম এ সমর্থন জানান।

 

সাক্ষাতের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের এ বিষয়ে বিস্তারিত অবহিত করেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, বাংলাদেশের উন্নয়নে শেখ হাসিনার সরকার যে পদক্ষেপগুলো নিচ্ছে, তার সঙ্গে তিনি সম্পূর্ণ একমত। ’ 

প্রেসসচিব জানান, জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সহায়তার জন্য বিশ্বব্যাংকের পূর্ণ অঙ্গীকারের কথাও বলেছেন জিম ইয়ং কিম। এ খাতে তহবিল সংগ্রহে বাংলাদেশকে সহযোগিতার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি।

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশকে দারুণ সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে উল্লেখ করেন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট। বাংলাদেশে সহজে ব্যবসা করার সুযোগ থাকার বিষয়টি অন্যদের কাছে তুলে ধরবেন বলেও জানান তিনি।

প্রায় পৌনে এক ঘণ্টার সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকারের মূল লক্ষ্য জনগণের জন্য খাদ্য ও বাসস্থানসহ মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করা। তিনি বলেন, ‘দেশের দ্রুত উন্নয়নের লক্ষ্যে আমাদের সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ’

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকারের বিভিন্ন বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের ব্যাপারে বিএনপির মনোভাব উল্লেখ করে বলেন, ওই দলটি অতীতে জাতীয় সংসদে বলেছিল, দেশ যদি খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয় তাহলে বিদেশি সহায়তা পাওয়া সহজ হবে না।

নারীর ক্ষমতায়নের ব্যাপারে তাঁর সরকারের পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেককে উন্নয়ন প্রক্রিয়ার বাইরে রেখে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। ’ তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকার কাঠামোর ৩০ শতাংশ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত। স্থানীয় সরকারের সর্বনিম্ন স্তর, ইউনিয়ন পরিষদের বিগত নির্বাচনে প্রায় ৪৫ হাজার নারী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের সর্বত্র নারীরা সাফল্য লাভ করছে এবং বর্তমানে তারা শিক্ষা, খেলাধুলা এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে তাদের পুরুষ অংশীদারদের সঙ্গে একই সঙ্গে সমান অবস্থানে রয়েছে। তিনি আরো বলেন, দেশের নারীরা বর্তমানে প্রশাসন, বিচার বিভাগ, শিক্ষা, ক্রীড়া এবং সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সব ক্ষেত্রের উচ্চপদে রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বাংলাদেশের অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। সে সময় ঘাতকরা কাউকে জাতির পিতার নামটি পর্যন্ত উচ্চারণ করতে দেয়নি।

শেখ হাসিনা দেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সম্পর্কে বলেন, ১৯৯৬ সালে তাঁর সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথমবারের মতো বেসরকারি টিভি চ্যানেলের লাইসেন্সের অনুমোদন দেয়। ফলে বর্তমানে দেশে ২৪টি চ্যানেল চলছে এবং আরো অনেক চ্যানেল চালুর অপেক্ষায় রয়েছে। এতে এ সেক্টরে অনেক কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী টেলিকম সেক্টরের উন্নয়ন সম্পর্কে বলেন, তাঁর সরকার ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি মন্ত্রীর মালিকানাধীন মাত্র একটি কম্পানির একচেটিয়া ব্যবসা ভেঙে দিয়ে এ সেক্টরে আরো কম্পানি করার সুযোগ করে দেয়। তিনি বলেন, এ খাতে ব্যবসা আরো প্রতিযোগিতাপূর্ণ হয় এবং কলরেট উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কমে যায়।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, ইআরডি সিনিয়র সচিব মেজবাউদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম, বিশ্বব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক সুভাষ চন্দ্র গ্রেগ ও বিকল্প নির্বাহী পরিচালক মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : বাসস।


মন্তব্য