kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আলী হোসেন হত্যাকাণ্ড

খুন করে দুই কর্মচারী, ড্রাইভার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



খুন করে দুই কর্মচারী, ড্রাইভার

রাজধানীর বনানীতে ওল্ড ডিওএইচএস এলাকায় ইডেন মহিলা কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ আলী হোসেন মালিক হত্যার রহস্য উদ্ঘাটিত হয়েছে। টাকা লুটের জন্যই নির্মাণাধীন ভবনটির তিন কর্মচারী মিলে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর পুরো বিষয়টির রহস্য উন্মোচিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন র‍্যাবের কর্মকর্তারা।

অধ্যাপক আলী হোসেন হত্যার দায়ে গত সোমবার রাতে নির্মাণাধীন ভবনটির কর্মচারী সায়েদ ফকির সাইফুল ও সুজনকে বরিশালের গৌরনদী থেকে এবং গাড়িচালক মাসুদ মল্লিককে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার ইসিবি চত্বর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে এক লাখ ২৭ হাজার টাকা ও তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাব কর্মকর্তারা বলছেন, গাড়িচালক মাসুদের পরিকল্পনায় আলী হোসেনকে খুন করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে। এদিকে ঘটনার পর ভবনটি থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক অফিস সহকারী সেলিম মিয়াকে গতকাল আবারও তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, সেলিমকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে টাকার জন্যই কয়েকজন কর্মচারী মিলে অধ্যাপক আলী হোসেনকে হত্যা করে। তাদের তিনজনকে র‍্যাব গ্রেপ্তার করেছে। সেলিম ঘটনায় সম্পৃক্ত কি না তা নিশ্চিত হতে তাকে দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-৪-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি খন্দকার লুত্ফুল কবির জানান, গত ৯ অক্টোবর আলী হোসেন একটি ব্যাংক থেকে ১৯ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। গাড়িচালক মাসুদ তা জানত। পরে মাসুদ ওই ভবনের কেয়ারটেকার সাইফুল ও তার চাচাতো ভাই সুজনকে নিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করে। ঘটনার দিন বিকেলে বাড়িতে থাকা অন্যান্য কর্মচারী, বাবুর্চি আলমগীর হোসেন, সিকিউরিটি গার্ড জুয়েল, বাসার কুকুর পালনকারী আশিকুল ও সেলিমকে কোকের সঙ্গে তারা ঘুমের ওষুধ খাওয়ায়।

র‍্যাব-৪ প্রধান জানান, ওই রাতে আলী হোসেন অফিসে না থেকে বাসায় চলে যান। দুর্বৃত্তরা ১১ অক্টোবর আবারও অন্য স্টাফদের কোকের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ায়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে সাইফুল ও সুজন চারতলায় আলী হোসেনের দরজায় নক করে। দরজা খোলার পরই তারা ভেতরে ঢুকে আলী হোসেনের হাত-পা বেঁধে মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে ছুরিকাঘাতে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর সিন্দুকের চাবি নিয়ে আসে। গাড়িচালক মাসুদ নিচে ছিল। চাবি দিয়ে তারা নিচতলার অফিসকক্ষের সিন্দুক খুলে এক লাখ ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। আলী হোসেনের মানিব্যাগ থেকেও দুই হাজার ৫০০ টাকা হাতিয়ে নেয়। টাকা ভাগ-বাটোয়ারা শেষে তারা ভোরে বাসা থেকে বেরিয়ে যায়। লুত্ফুল কবির আরো জানান, ছায়া তদন্তে নেমে এই ঘটনায় জড়িতদের ব্যাপারে তথ্য পাওয়া যায়। এরপর তাদের অবস্থান শনাক্ত করে গত সোমবার অভিযান চালায় র‍্যাব।  

আমাদের আদালত প্রতিবেদক জানান, আলী হোসেন হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাসানটেক থানার উপপরিদর্শক আশিক ইকবাল পাঁচ দিন রিমান্ড শেষে আসামি সেলিমকে গতকাল আদালতে হাজির করে ফের পাঁচ দিন রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম সাব্বির ইয়াসির আহসান চৌধুরী তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তবে গতকাল র‍্যাবের গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়নি।

জানতে চাইলে ভাসানটেক থানার ওসি নজরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘র‍্যাব যাদের ধরেছে তারাই ঘটনা ঘটিয়েছে বলে আমরা তথ্য পেয়েছি। সেলিমও তাদের কথাই বলছে। ’


মন্তব্য