kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


স্বাস্থ্যের যত্নে উপোস

১৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



স্বাস্থ্যের যত্নে উপোস

ইসলাম ধর্মে রমজান মাসে রোজা রাখা ফরজ। ধর্মীয় হিসেবে শুধু নেক লাভই নয়, রোজার রয়েছে স্বাস্থ্যগত উপকারিতাও।

সেই প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ না খেয়ে থাকা বা উপোস থাকার মাধ্যমে স্বাস্থ্যের দেখভাল করে আসছে। বিভিন্ন নিয়ম ও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ উপোস রয়েছে। কোনোটা ওজন কমাতে সহায়তা করে, কোনোটি রোগ নিরাময়ে কার্যকর। বিভিন্ন গবেষণায় বলা হয়, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হ্রাস ও আরো অনেক কাজে উপোস পথ্য হিসেবে কাজ করে।

বর্তমানে উপোস থেকে স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার বিষয়টি অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। একে আরো ইতিবাচক করে তুলে ধরছে বিভিন্ন গবেষণা। অনেকের মতে, দীর্ঘায়ু পেতে এ উপোস দারুণ কাজের। উপোস বা না খেয়ে থাকার কথাটি এলেই তা ধর্ম, জাতি ও গোত্রভেদে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে। এখানে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন বেশ কয়েক ধরনের উপোসের কথা। এগুলো স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী।

কেবল পানির উপোস : শূন্য ক্যালরির পানি খেয়ে থাকাটাই পানির উপোস। এটা উপোসের সবচেয়ে প্রাচীন পদ্ধতির একটি। এ সময় একটানা কয়েক দিন বা সপ্তাহ ধরে পানি ছাড়া অন্য কোনো খাবার গ্রহণ করা হয় না। অবশ্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির সরবরাহ থাকতে হয় নিরাপদে উপোস পালন করতে। এই উপোসে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। প্রদাহজনিত কারণে উপকারী। তবে একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর তা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

ক্যালরিকে ‘না’ : ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণ কমিয়ে আনার মাধ্যমে দীর্ঘায়ু মেলে বলে অনেক গবেষণায় বলা হয়। বেশ কয়েক ধরনের প্রাণিজ খাবারে দ্রুত বুড়িয়ে যায় মানুষ। তবে মানুষ এ বিষয় তেমন খেয়াল করতে পারে না। এ ধরনের বিশেষ ক্যালরিমুক্ত থাকাটাই মূল উদ্দেশ্য থাকে। এসব প্রাণিজ খাবার বেশ কিছু দিন পরিত্যাগ করা আরেক ধরনের উপোস।

বিশেষায়িত উপোস : ইউএসসি লংজিভিটি ইনস্টিটিউটের পরিচালক এবং জেরন্টোলজি ও বায়োলজিক্যাল সায়েন্সের প্রফেসর ভল্টার লঙ্গো এই উপোসের নিয়মটি তৈরি করেছেন। মূলত উপোস থাকার সময়কে সীমাবদ্ধ কিন্তু নিয়মিত করেছেন তিনি। প্রতি মাসে পর পর পাঁচ দিন ক্যালরি গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে হবে। এতে করে মোট ক্যালরি গ্রহণ নাটকীয়ভাবে দুই-তৃতীয়াংশ কমে আসবে। লঙ্গোর মতে, এই উপোসের মাধ্যমে ক্যান্সার, হৃদরোগ, আলঝেইমার ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

থেমে থেমে উপোস : এ পদ্ধতিতে কয়েক ধরনের উপোস একযোগে পালন করা যায়। খাদ্যের ওপর নির্ভরশীলতা অনেক কমে আসে। অনেক মানুষ ১২-১৬ ঘণ্টা উপোস থাকে। আবার অনেকে প্রতি সপ্তাহে দু-তিন দিন না খেয়ে কাটিয়ে দেয়। গবেষণায় বলা হয়, এ পদ্ধতিতে ওজন কমানো সহজ হয়। এমনকি কয়েক ধরনের ক্যান্সার প্রতিরোধেও সহায়তা করে এই প্রক্রিয়ার উপোস। তবে এতে এখনো বিস্তর গবেষণা প্রয়োজন বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

বিজনেস ইনসাইডার অবলম্বনে সাকিব সিকান্দার।


মন্তব্য