kalerkantho


চিকিৎসকের অবহেলায় রোগী ও নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



চিকিৎসকের অবহেলায় রোগী ও নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ

সিজারিয়ান সেকশন অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান জন্মদানের পরই মারা গেলেন ২৬ বছর বয়সী খাদিজা বেগম। দুই দিনের ব্যবধানে মারা গেল নবজাতকও।

ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় এনে চিকিৎসা করালেও চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যথেষ্ট গাফলতি ছিল—এমন অভিযোগ পরিবারের। গত ১১ অক্টোবর ঘটনাটি ঘটেছে মিরপুর কলওয়ালা পাড়ায় অবস্থিত ডা. আমানত খান হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে।

জানা গেছে, গর্ভকালীন খিচুনি (একলাম্পশিয়া) রোগে আক্রান্ত ৩৪ সপ্তাহের গর্ভবতী খাদিজা বেগম ভর্তি ছিলেন ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। সেখান থেকে তাঁকে ঢাকা মেডিক্যালে রেফার করা হয়। কিন্তু তাঁকে ঢাকায় এনে ১১ অক্টোবর ভর্তি করা হয় ডা. আমানত খান হাসপাতালে। ওই দিন সকালেই সিজারিয়ান সেকশন অপারেশনের মাধ্যমে একটি ছেলেসন্তান জন্ম দেন খাদিজা। আর রাতে তিনি মারা যান। দুই দিন পর ১৩ অক্টোবর মারা যায় ঢাকা শিশু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নবজাতকটিও।

খাদিজার স্বামী মাসুদের অভিযোগ, ডা. আমানত খান হাসপাতালে আনার পরই কর্তৃপক্ষ কল করে আনে অন্য হাসপাতালের চিকিৎসক নুুরুন নাহার লিপিকে।

তিনি রোগী দেখে স্বজনদের জানিয়ে দেন, তাড়াতাড়ি অপারেশন না করালে নবজাতক ও মা দুজনেরই ক্ষতি হতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনায় মাসুদ তাতে সম্মতি দেন। এরপর ময়মনসিংহ থেকে আনা পুরনো রিপোর্ট দেখেই রোগীকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়। মাসুদ বলেন, ‘অপারেশনের পরই আমাদের জানানো হয় যে নবজাতকের অবস্থা ভালো নয়, শ্বাসকষ্ট হচ্ছে। লাইফ সাপোর্টের জন্য অন্য কোনো হাসপাতালে নিয়ে যান। আমরা ঢাকা শিশু হাসপাতালের নবজাতক বিভাগে শিশুটিকে ভর্তি করি। এদিকে ক্লিনিকের লোকজন বরাবরই বলে আসছিল যে আমার স্ত্রী সুস্থ আছে। কিন্তু রোগীর সঙ্গে কাউকে সাক্ষাৎ করতে দেওয়া হয়নি। সন্ধ্যা ৭টার দিকে ক্লিনিক থেকে জানানো হয়, খাদিজার অবস্থাও ভালো নয়। তাকে অন্য কোনো হাসপাতালে নিতে হবে। এরপর অ্যাম্বুল্যান্সে তোলার পরই আমার স্ত্রী মারা যায়। ’ কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই এ ধরনের একলাম্পশিয়া রোগীর অপারেশন করতে গেলেন কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. নুরুন নাহার লিপি বলেন, ‘জেনারেল অ্যানেসথেসিয়া দিয়ে করালে পরীক্ষার দরকার হয় না। আমি আগের রিপোর্টগুলো দেখেছি। তা ছাড়া অ্যানেসথেসিওলজিস্ট ডা. হুমায়ুন কবির নিশ্চিত করেছেন যে রোগী অপারেশনযোগ্য। রোগীর স্বামীও দ্রুত অপারেশন করতে বলেছেন। তারা বন্ড সই দিয়েছেন বলে আমি অপারেশন করেছি। ’

একলাম্পশিয়া রোগীদের সিজারিয়ান অপারেশন সম্পর্কে জানতে চাইলে বিএসএমএমইউর ফিটো ম্যাটারনিটি মেডিসিন বিভাগের প্রধান, হাই রিস্ক প্রেগনেন্সি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ফিরোজা বেগম কালের কণ্ঠ’কে বলেন, একলাম্পশিয়া রোগীর অপারেশনের ক্ষেত্রে লিভার, কিডনি, হার্ট ও ফুসফুসের সমস্যা হতে পারে। ব্লাড ডিফিসিয়েন্সিও হতে পারে। এ জন্য আইসিইউ রেডি আছে এমন হাসপাতালেই এ ধরনের রোগীর সিজার করা উচিত। সে ক্ষেত্রে বিএসএমএমইউ, ঢাকা মেডিক্যালের মতো হাসপাতালে সিজার করালে হয়তো সঠিক ব্যবস্থাপনা করা যেত।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. এ কে এম সাইদুর রহমান বলেন, অভিযোগকারীরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ করলে তদন্ত করে ওই হাসপাতালের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওই হাসপাতালের প্রয়োজনীয় অনুমতি রয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা তিনি জানাতে পারেননি।


মন্তব্য