kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বজরঙ্গি ভাইজানের এবার মরণোত্তর দেহ ও চক্ষুদান

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



বজরঙ্গি ভাইজানের এবার মরণোত্তর দেহ ও চক্ষুদান

মরণোত্তর চক্ষু ও দেহদান উপলক্ষে গতকাল জাতীয় জাদুঘরের সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে বজরঙ্গি ভাইজান খ্যাত জামান ইবনে মুসাকে সংবর্ধনা দেয় জাতীয় চক্ষুদান সমিতি। ছবি : কালের কণ্ঠ

বাস্তব জীবনের ঘটনা কখনো কখনো চলচ্চিত্রের গল্পকেও হার মানায়। এর যথার্থ দৃষ্টান্ত বরগুনার জামান ইবনে মুসা।

মানবতাবাদী মানুষটিকে এখন বহুল আলোচিত ভারতীয় চলচ্চিত্র ‘বজরঙ্গি ভাইজান’-এর প্রেরণায় ডাকা হচ্ছে ‘বাংলাদেশি বজরঙ্গি ভাইজান’। চলচ্চিত্রের বজরঙ্গি ভাইজান (সালমান খান) নানা কষ্ট ও দুর্ভোগ মেনে নিয়ে পাকিস্তানি বাক্প্রতিবন্ধী শিশুকে তার পরিবারের কাছে পৌঁছে দেন। আর বাস্তবে হারিয়ে যাওয়া এক সন্তানকে ভারতীয় মা-বাবার কাছে পৌঁছে দিতে গিয়ে মুসাকে শিকার হতে হয়েছে আরো বেশি কষ্ট, যন্ত্রণা ও হয়রানির। তাঁর কষ্টকর অভিযাত্রাকে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে ‘বাংলাদেশি বজরঙ্গি ভাইজান’ হিসেবে বেশ গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরা হয়েছে।

এবার সেই মুসা মানবতার কল্যাণে আরেক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। মরণোত্তর দেহ ও চক্ষুদানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেন তিনি। গতকাল সোমবার জাতীয় জাদুঘরের কবি সুফিয়া কামাল মিলনায়তনে বরগুনার জামাল ইবনে মুসা কর্তৃক মানবতার কল্যাণে মরণোত্তর দেহ ও চক্ষুদান ঘোষণা উপলক্ষে ভিন্নধর্মী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতি। এতে মরণোত্তর দেহ ও চক্ষুদান করতে মানুষকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য মুসাকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।

সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতির সভাপতি ডা. এ কে এম সালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সমিতির মহাসচিব ডা. জয়নাল আবদিন। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন মরণোত্তর দেহদানবিষয়ক সংগঠন মৃত্যুঞ্জয়ের সমন্বয়ক সাগর লোহানী। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন জামাল ইবনে মুসা।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত এমপি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান প্রমুখ।

সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, মরণোত্তর দেহ ও চক্ষুদানের ঘোষণা অনুকরণীয়, অনুসরণীয়। এটি মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। এটি অনুসরণ করে সবাইকে মানবতার কল্যাণে এগিয়ে আসা উচিত। এ কাজে তিনি জামাল ইবনে মুসার মতো সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে জামাল ইবনে মুসা বলেন, ‘চলচ্চিত্রে দেখেছিলাম একটি অন্ধ শিশু অপরের চোখ পেয়ে, সেই চোখ দিয়ে পৃথিবী দেখে কত উচ্ছ্বসিত হয়েছিল। বিষয়টি আমাকে খুব প্রাণিত করেছিল। মৃত্যুর পর দেহ তো মিশেই যাবে মাটির সঙ্গে। যদি আমার চোখ দিয়ে, কিডনি দিয়ে কোনো অসহায় ও গরিব মানুষের উপকার হয়, তাহলে সবচেয়ে বড় উপকারটি করা হয়। ’ চক্ষুদানে মানুষকে উৎসাহিত করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমার পরিবারের বাকি সদস্যরাও মরণোত্তর চক্ষুদান করবে। ’


মন্তব্য