kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


গ্রেপ্তারের পর ‘বন্দুকযুদ্ধে’ জামায়াতকর্মী নিহত

সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

১৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



গ্রেপ্তারের পর ‘বন্দুকযুদ্ধে’ জামায়াতকর্মী নিহত

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় গ্রেপ্তারের পর পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ২৫ মামলার আসামি জামায়াতের এক কর্মী নিহত হয়েছেন। তাঁর নাম আবুল বশর (৪০)।

গতকাল রবিবার ভোরে উপজেলার এঁওচিয়া ইউনিয়নের ছনখোলার পাহাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

উপজেলা জামায়াতের নেতারা দাবি করেছেন, বশরকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছে।

আবুল বশর উপজেলার কাঞ্চনা ইউনিয়নের মধ্যম কাঞ্চনার লতাপীরের বাজার এলাকার মৃত দুদু মিয়ার ছেলে।

পুলিশ বলছে, আবুল বশর একজন দুর্ধর্ষ জামায়াত ক্যাডার। তাঁর বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা নুরুল কবির, ইউসুফ কাদেরী, হাফেজ আহমদ, যুবলীগ নেতা আলমগীর, জামাল ও হাসান হত্যা মামলাসহ মোট ২৫টি মামলা রয়েছে।

সাতকানিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন খন্দকার জানান, পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে বশরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। গতকাল ভোরে তিনি বাঁশখালীর পুকুরিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীগাঁও গ্রামের আবদুল করিমের বাড়িতে যাচ্ছেন—এমন খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। গ্রেপ্তারের পর বশর নিজের হেফাজতে অবৈধ অস্ত্র থাকার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেন এবং ছনখোলার পাহাড়ি এলাকায় লুকিয়ে রাখার বিষয়টি জানান। তখন তাঁকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য ছনখোলায় যায়।

ওসি জানান, ছনখোলা পাহাড়ি এলাকায় যাওয়ার পর ওত পেতে থাকা বশরের সহযোগী জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং তাঁকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। তখন পুলিশও পাল্টা গুলি করে। দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় ৩০ মিনিট বন্দুকযুদ্ধ চলে। উভয় পক্ষের মধ্যে অন্তত ৩৫ রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়। বন্দুুকযুদ্ধের একপর্যায়ে বশর পালিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর সহযোগীদের গুলিতে আহত হন। তখন তাঁর সহযোগীরা পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় সাতকানিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন খন্দকার, উপপরিদর্শক (এসআই) ফজলুল হক, জুলুস খান পাঠান, হিরু বিকাশ দে, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আনছারুল হক, তাপস চাকমা, কনস্টেবল মানিক শর্মা ও কামরুল ইসলাম আহত হন।

পুলিশ জানায়, গুলিবিদ্ধ আবুল বশরকে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত পুলিশ সদস্যদের সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ আরো জানায়, ‘বন্দুকযুদ্ধের’ পর ঘটনাস্থল থেকে দুটি একনলা বন্দুক, একটি হালকা বন্দুক (এলজি) ও তিনটি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

ওসি ফরিদ উদ্দিন জানান, ‘বন্দুকযুদ্ধে’ পুলিশ ১৫ রাউন্ড গুলি ছুড়েছে। বশরের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ওসি আরো জানান, এ ঘটনায় জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের করা হবে।

সাতকানিয়া উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আবুল ফয়েজ দাবি করেছেন, পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের কর্মীদের বন্দুকযুদ্ধের ঘটনাটি পুলিশের সাজানো নাটক। তিনি বলেন, ‘এখানে কোনো ধরনের বন্দুকযুদ্ধ হয়নি। আমাদের সক্রিয় কর্মী আবুল বশরকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ গুলি করে হত্যা করেছে। ’


মন্তব্য