kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জঙ্গি রহমান নিয়ে কাটছে না বিভ্রান্তি

রেজোয়ান বিশ্বাস   

১৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



নব্য জেএমবির কথিত ‘ক্যাশিয়ার’ আবদুর রহমানের পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি কাটছে না। পাসপোর্টে উল্লেখ করা ঠিকানায় মিলছে না স্বজন।

এমনকি স্ত্রীও বলতে পারছেন না নিহত এ জঙ্গি নেতার ‘প্রকৃত’ নাম-ঠিকানা। পুলিশ ও র‍্যাব অনুসন্ধানে তার অনেক সাংগঠনিক নাম জানলেও বিস্তারিত তথ্য মিলছে না। রহমানের স্ত্রী শাহনাজ আক্তার রুমিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি তথ্য লুকাচ্ছেন বলে ধারণা তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের।

র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান বলেন, রহমানের আসল নাম-পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। নব্য জেএমবির অর্থের জোগানদাতা হিসেবে চিহ্নিত এ ব্যক্তি সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। তা যাচাই করা হচ্ছে।

পুলিশ ও র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ অক্টোবর আশুলিয়ার গাজীরচটে অভিযানের সময় আবদুর রহমান বহুতল ভবন থেকে লাফিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। এ বাসাটি তল্লাশি করে নগদ ৩০ লাখ টাকাসহ বেশ কিছু আলামত জব্দ করা হয়। জব্দ করা মালামালের মধ্যে সাতক্ষীরার ঠিকানাসংবলিত একটি মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (এমআরপি) পাওয়া যায়। ২০১৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ইস্যু করা পাসপোর্টে আবদুর রহমানের বাবার নাম আব্দুল্লাহ আর মায়ের নাম রাজিয়া খাতুন উল্লেখ রয়েছে। উল্লিখিত ঠিকানায় আব্দুল্লাহ-রাজিয়া দম্পতির সন্ধান পাওয়া গেলেও তাঁরা জানান, নিহত ব্যক্তি তাঁদের সন্তান নয়। সাতক্ষীরার কুশখালীর এই দম্পতির সন্তান রাকিবুল ইসলাম (২৪) গ্রামের মক্তবে লেখাপড়া শেষে ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পরে হেফাজতে ইসলামে যোগ দিয়ে অনেক মামলার আসামি হয়। এ অবস্থায় পলাতক রাকিবুল জীবন যাপন করছে। অন্যদিকে জঙ্গি নেতা রহমানের যোগাযোগ ছিল নব্য জেএমবির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে।

র‍্যাব-৪ নবীনগর সিপিসি ক্যাম্পের তদন্ত কর্মকর্তা সহকারী পুলিশ সুপার উনু মং বলেন, রহমানের পাসপোর্ট দালালচক্রের মাধ্যমে করা হতে পারে। তাকে মিথ্যা তথ্যে এমআরপি পেতে যারা সহায়তা করেছে তাদের খোঁজা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, আশুলিয়ার বাড়ি থেকে দুটি ড্রাইভিং লাইসেন্স উদ্ধার করা হয়েছে। তার একটিতে রহমানের ছবি থাকলেও নাম লেখা নাজমুল হোসেইন। আরেকটি একই তথ্য রেখে ছবি আরেকজনের। নাজমুল নামের ব্যক্তির লাইসেন্স এ ক্ষেত্রে কপি করা হয়েছে বলে ধারণা তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের। আব্দুর রহমানের এমআরপি নম্বর বিসি-০০৪০২৫০। তার পাসপোর্টের বইয়ে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের উপসহকারী পরিচালক আলী আশরাফের স্বাক্ষর রয়েছে। পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ যে আইডি নম্বরে আব্দুর রহমানের ভেরিফিকেশন করে তা হলো-২৬০১০০০০২৯২২৬২০। ২০০৯ সাল থেকে জঙ্গিবাদে সক্রিয় রহমানের অনেক ছদ্মনাম আছে। মোক্তারুল ইসলাম মুক্তার, নাজমুল, এনামুল, বাবু, রকিবুল ও প্রকাশ হিসেবে সে বিভিন্ন স্থানে নিজেকে পরিচিত করেছে।

সাতক্ষীরা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ এম আরিফুল হক বলেন, গ্রামের বাড়ির যে ঠিকানা দিয়ে রহমান ভুয়া পাসপোর্ট তৈরি করেছে, তা যাচাই করা হয়েছে। পাসপোর্টের তথ্য কবে ভেরিফিকেশন করা হয়েছে জানা নেই।

এদিকে অভিযানকালে রহমানের স্ত্রী শাহনাজ আক্তার রুমি ও তিন সন্তানকে র‍্যাব  হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। পরে দায়ের করা দুটি মামলায় রুমিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ইতিমধ্যে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্তভার র‍্যাবের কাছে হস্তান্তর হওয়ায় রুমিকে র‍্যাব জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

সূত্র জানায়, জঙ্গি নেতা রহমান টাঙ্গাইলে দীর্ঘদিন বসবাস করেছে। ছয় মাস আগে দ্বিতীয় স্ত্রী রুমিকে নিয়ে আশুলিয়ার বাসায় ওঠে। কয়েক বছরে সে অন্তত ২০টি বাসা পরিবর্তন করেছে বলে স্ত্রীর দাবি। বিয়ের সময় রহমান বগুড়াতে গ্রামের বাড়ি বলে জানিয়েছিল। কিন্তু তার বাবা আশুলিয়ার বাসায় বেড়াতে এসে জানিয়েছিল, তাদের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ।


মন্তব্য