kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়নি, বেড়েছে শুধু অভিযান ও মামলা

নিখিল ভদ্র   

১৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



সুপারিশ বাস্তবায়িত হয়নি, বেড়েছে শুধু অভিযান ও মামলা

মাদক নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকে দুই বছর আগে সংশ্লিষ্ট আইন যুগোপযোগী করাসহ ১০ দফা সুপারিশ করা হলেও এখনো তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। তবে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার হয়েছে।

ফলে মাদক-সংক্রান্ত মামলা দুই বছরে বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। সংসদীয় কমিটির কাছে গত মাসে মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও আসামিদের গ্রেপ্তার করার পর পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৫১ হাজারের বেশি মামলা করেছে ২০১৫ সালে। এর আগের বছর এ ধরনের মামলা হয়েছিল ৪৫ হাজারের বেশি। এর আগের ১২ বছরে মোট মামলা হয়েছিল তিন লাখের কম। অর্থাৎ বছরে গড়ে ২৫ হাজারের কম। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, ২০১৪ সালের আগস্টে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির পক্ষ থেকে প্রচলিত আইনের দুর্বল দিকগুলো চিহ্নিত করে তা সংশোধনের মাধ্যমে আইনগুলো যুগোপযোগী করতে বলা হয়েছিল। এ ছাড়া ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করে মাদকের অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদকের অনুপ্রবেশ বন্ধ, অভিযান পরিচালনার জন্য অধিদপ্তরের জনবল ও লজিস্টিক সাপোর্ট বাড়ানো, অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের উপযোগী করে গড়ে তুলতে দেশে-বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মাদক নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মদক্ষতা বাড়ানো, সিনথেটিক ও সেমি-সিনথেটিক জাতীয় ড্রাগসের ব্যবহার বন্ধ করার জন্য গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো, মাদকের ব্যবহার ও বিপণনের ওপর মনিটরিং জোরদার করা, উপজেলা পর্যায়ে অধিদপ্তরের সার্কেল সম্প্রসারণ করে সেখানে যানবাহনসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহের ব্যবস্থা করা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মতো মাদক নিয়ন্ত্রণকাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ঝুঁকিভাতা, তদন্ত ভাতা ও রেশনের ব্যবস্থা করা এবং সর্বোপরি মাদকের কুফল সম্পর্কে ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে জনগণকে মাদক নিয়ন্ত্রণকাজে সম্পৃক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছিল।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব নিরোদ চন্দ্র মণ্ডলের সই করা যে প্রতিবেদন গত মাসে সংসদীয় কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে তাতে উল্লেখ আছে, ২০০২ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ১২ বছরে মাদক-সংক্রান্ত মামলার মোট সংখ্যা ছিল দুই লাখ ৯৩ হাজার ৪৮৫। এরপর ২০১৪ সালে এক বছরে মামলা হয় ৪৫ হাজার ৬৩৭টি। আর ২০১৫ সালে ৫১ হাজার ৩২০টি মামলা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দুই বছরে শুধু বিদেশি মদ উদ্ধার হয়েছে পাঁচ লাখ বোতলের বেশি। আর সাড়ে ৯ লাখ বোতল ফেনসিডিল আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া অন্যান্য মাদক উদ্ধারের তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মন্ত্রণালয়ের ওই প্রতিবেদনে খুশি নয় সংসদীয় কমিটি। কারণ ২০১৪ সালের ১৯ আগস্ট সংসদীয় কমিটির বৈঠকে মাদকের বিস্তার নিয়ে আলোচনার পর মন্ত্রণালয়ের দেওয়া প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতেই মাদক নিয়ন্ত্রণে ১০ দফা সুপারিশ চূড়ান্ত করেছিল কমিটি। কমিটির পক্ষ থেকে দ্রুত সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের তাগিদও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এরই মধ্যে দুই বছরের বেশি সময় পার হলেও বেশির ভাগ সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়নি।

এ বিষয়ে কমিটির সদস্য মো. মোজাম্মেল হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, জঙ্গি দমনের পাশাপাশি মাদক নিয়ন্ত্রণে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়কে তাগাদা দেওয়া হচ্ছে। গত বৈঠকে মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দিয়েছে। আগামী বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শেষে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়ন করা হবে। এ ক্ষেত্রে বিগত দিনের সুপারিশ কতটা কার্যকর হয়েছে তাও পর্যালোচনা করা হবে।


মন্তব্য