kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সমুদ্রপথে অবৈধ অভিবাসন

পদে পদে লাঞ্ছনা বঞ্চনার শিকার বাংলাদেশিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



পদে পদে লাঞ্ছনা বঞ্চনার শিকার বাংলাদেশিরা

সমুদ্রপথে নিয়ম-বহির্ভূতভাবে বিদেশে যাওয়া বাংলাদেশি শ্রমিকরা ভালো নেই। বেসরকারি সংস্থা মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

এই শ্রমিকদের প্রায় ৭ শতাংশকে নিয়মিত সংশ্লিষ্ট দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ঘুষ দিতে হয়, ৩৮.৯৬ শতাংশ নিয়মিত বেতন পায় না, ১৪.০৬ শতাংশ জেল খাটছে, ২৮.৫১ শতাংশকে অতিরিক্ত কাজ করতে হচ্ছে, ১৫.২৬ শতাংশ বাইরে যেতে পারে না, ২৩.৭০ শতাংশ শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়, ১০.৮৪ শতাংশের কাজের নিশ্চয়তা নেই এবং খাওয়া-দাওয়া ও স্বাস্থ্যগত সমস্যায় রয়েছে ২১.২৮ শতাংশ।

গতকাল রবিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সংস্থাটি। সেখানে ‘সমুদ্রপথে অবৈধভাবে অভিবাসনের কারণ, ধরন ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

সমুদ্রপথে অবৈধভাবে বিদেশে যাওয়া ২৪৯ জন শ্রমিকের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়। তাদের পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে এসব তথ্য সংগ্রহ করা হয়। তারা কুমিল্লা, কক্সবাজার, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের অধিবাসী। তাদের অধিকাংশ মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডে অবস্থান করছে। কিছু লোক ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রয়েছে।

সংস্থাটির গবেষক মো. সালিম আহমেদ পারভেজ বলেন, নিরাপদ অভিবাসনে সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নেই বললেই চলে। সরকারি সুবিধায় বিদেশে যায় দেড় শতাংশেরও কম অভিবাসনেচ্ছু মানুষ। দালালদের মাধ্যমে যায় ৫২ শতাংশ। আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে যায় ২১ শতাংশ। নিবন্ধিত-অনিবন্ধিত প্রায় দেড় হাজার বেসরকারি জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যায় ১৮.৮৪ শতাংশ মানুষ।

গবেষক জানান, দেশের জনসংখ্যার প্রায় ৭ শতাংশ প্রবাসী। তাদের প্রায় ৮১ শতাংশ বিমানযোগে ও ০.২১ শতাংশ সড়কপথে বিদেশে গেছে। বাকিরা বিপজ্জনক সমুদ্রপথ ব্যবহার করে বিদেশে পাড়ি দিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই শ্রমিকদের ১০.৩৬ শতাংশ যাওয়ার সময় সীমান্তে আটক হয়েছে, ৪৭.৫০ শতাংশ চরম মানসিক যন্ত্রণায় সময় পার করেছে, ১০ শতাংশ জঙ্গলের ভেতর দিয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছে। অনেককে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়েছে, যদিও পরে তাদের উদ্ধার করা হয়েছে।

যাওয়ার আগে শ্রমিকদের ৬৩.৯২ শতাংশ অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিল, ২৩.৯২ শতাংশকে অগ্রিম টাকা দিতে হয়েছে, ১৭.৫০ শতাংশের কাছে একাধিকবার টাকা চাওয়া হয়েছে, ১০.৩৬ শতাংশের টাকা নিয়ে পালিয়েছে দালালচক্র।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, অবৈধভাবে সমুদ্রপথে মানবপাচারের ফলে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় অবৈধ অভিবাসন রোধে কাজ করছে। তিনি বলেন, অবৈধ অভিবাসনকে সরকার সমর্থন করে না। কারণ, জেনেশুনে কারো মৃত্যু চায় না সরকার।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব ড. মো. মোজাম্মেল হক খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. তাসনীম সিদ্দিকী প্রমুখ।


মন্তব্য