kalerkantho


‘আগামীর ঢাকা’ আলোচনায় বক্তারা

বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেছেন, ‘ঢাকা শহর নিয়ে আমাদের স্বপ্ন অনেক। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে। ’ তিনি বলেন, ‘রাজধানীর সার্বিকভাবে পরিবর্তন হচ্ছে। আরো পরিবর্তন হবে। গুরুত্ব বিবেচনা করে আগে বুড়িগঙ্গা, পরে কারওয়ান বাজার আর গুলশান নিয়ে কাজ করতে হবে। ’ সরকারের সক্ষমতা বৃদ্ধির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী জাতীয় বাজেট প্রায় পাঁঁচ লাখ কোটি টাকা করার চিন্তাভাবনা রয়েছে।

গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘আগামীর ঢাকা : গবেষণা, নকশা এবং ফলাফল’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের ঢাকা নিয়ে পরিকল্পনার একটি চিত্র তুলে ধরা হয়।

আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, গুলশান সোসাইটির সভাপতি এ টি এম সামসুল হুদা, ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমান, বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের লিটু প্রমুখ।

ডিএনসিসির মেয়র আনিসুল হক বলেন, ‘আমাদের শহর নিয়ে পরিকল্পনা করা যায়, কিন্তু তা বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত মুশকিল। আমাদের শহরের জনসংখ্যার ঘনত্ব এত বেশি যে তা নিয়ে কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়ে। ’ এ সময় তিনি বারবার বলা সত্ত্বেও গুলশানে রাজউকের পার্ক ডিএনসিসির অনুকূলে বুঝিয়ে না দেওয়ার বিষয়ে আক্ষেপ করেন।

ডিএসসিসির মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, “শহরের মানুষ স্বপ্ন দেখে; আমরাও কাজ শুরু করেছি। কিন্তু ডিএসসিসির বাস্তবতা হলো, আমরা প্রতি মাসে বেতন দিতে হিমশিম খাচ্ছি। সরকার থেকে বরাদ্দ পাওয়া তহবিল নিতে ৩০ ভাগ ‘ম্যাচিং ফান্ড’ ডিএসসিসির দেওয়ার কথা রয়েছে। সেই ফান্ডও আমরা দিতে পারছি না। ”

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ঢাকার কোনো সুনির্দিষ্ট ‘চরিত্র’ দাঁড়ায় না। বিশ্বের অন্য শহরের সঙ্গে তুলনা করে পরিকল্পনা করা হয়। ঐতিহ্যের এ শহরের একটি নিজস্ব চরিত্রে রূপ দেওয়া উচিত। তিনি বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের পরিকল্পনা যেন ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যানের (ড্যাপ) সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয় সেদিকে নজর দিতে বলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ঢাকার ওপর একটি বিস্তারিত গবেষণা তুলে ধরা হয়। এখানে বুড়িগঙ্গা, কারওয়ান বাজার, গুলশানসহ বেশ কিছু এলাকা নিয়ে বিশদ পরিকল্পনার চিত্র তুলে ধরা হয়। যানবাহনের শৃঙ্খলা, আবাসন স্থান, জল ও সবুজের উৎসগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার ওপর গুরুত্বারোপের কথাও বলা হয়।


মন্তব্য