kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


চাল রপ্তানি করে মূল্য পাচ্ছে না ভারতের ব্যবসায়ী

শেখ শাফায়াত হোসেন   

১৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



চাল রপ্তানি করে মূল্য পাচ্ছে না ভারতের ব্যবসায়ী

২০০ মেট্রিক টন বাসমতি চাল রপ্তানি করে মূল্য পাননি ভারতের এক ব্যবসায়ী। বাংলাদেশে যে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের কাছে তিনি ওই চাল বিক্রি করেছিলেন, সেই প্রতিষ্ঠান পণ্য খালাসের আগেই অন্য এক প্রতিষ্ঠান আরেকটি ঋণপত্রের মাধ্যমে ভোমরা স্থলবন্দর থেকে ওই চাল খালাস করে নিয়ে গেছে।

এ অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনা তদন্ত করে সাতক্ষীরা থানায় মামলা করেছে শুল্ক কর্তৃপক্ষ। আর চাল হাতে না পাওয়ায় প্রকৃত আমদানিকারক ওই চালের মূল্য পরিশোধ করতে অসম্মতি জানিয়েছেন। এ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছেও অভিযোগ করেছেন ভারতের ওই রপ্তানিকারক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কলকাতার মেসার্স পরেশ এক্সিম লিমিটেডের কাছ থেকে ২০০ মেট্রিক টন চাল আমদানির জন্য ন্যাশনাল ব্যাংকের সাতক্ষীরা শাখায় একটি এলসি (ঋণপত্র, নম্বর ০৯৫৪১৫০১০৬৮৮) খোলে স্থানীয় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান অমি এন্টারপ্রাইজ। ওই চালের মূল্য ছিল ৬০ হাজার ৪০০ ডলার। এক ডলারে ৭৮ টাকা করে ধরলে ওই চালের মূল্য দাঁড়ায় ৪৭ লাখ ১১ হাজার ২০০ টাকা। গত বছরের ৩ ডিসেম্বর ঋণপত্রটি খোলা হয়।

ঋণপত্রের চুক্তি অনুযায়ী, অমি এন্টারপ্রাইজের ওই চাল বন্দর থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার কথা ছিল। আর চাল ছাড়িয়ে নেওয়ার পর মেসার্স পরেশ এক্সিম লিমিটেডকে মূল্য পরিশোধ করার কথা ছিল ন্যাশনাল ব্যাংকের। কিন্তু একই সময়ে ভারতের অন্য এক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ভার্জিন ক্রিয়েশনের কাছ থেকে ২০০ মেট্রিক টন চাল আমদানির উদ্দেশ্যে মেঘনা ব্যাংকের গাজিপুর শাখায় ৩০ হাজার ডলারের দুটি ঋণপত্র খোলে মেসার্স সাতক্ষীরা এক্সিম লিমিটেড। গাজিপুর শাখার বিদেশি মুদ্রা লেনদেনের অনুমোদিত ডিলার শাখা না হওয়ায় পরে ওই এলসির কার্যক্রম পরিচালিত হয় মেঘনা ব্যাংকের গুলশানের প্রিন্সিপাল শাখা থেকে। ওই এলসির কাগজপত্র দেখিয়ে গত বছরের ৭ ডিসেম্বর থেকে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে বন্দর থেকে ২০০ মেট্রিক টন চাল ছাড়িয়ে নিয়ে যায় মেসার্স সাতক্ষীরা এক্সিম লিমিটেড।

পরে ভারতের মেসার্স পরেশ এক্সিম দাবি করে, মেসার্স সাতক্ষীরা এক্সিমকে বন্দর কর্তৃপক্ষ যে চাল দিয়েছে, তা অমি এন্টারপ্রাইজের নামে পাঠানো হয়েছে। মেসার্স সাতক্ষীরা এক্সিম ভুয়া ঋণপত্র তৈরি করে তা ছাড়িয়ে নিয়েছে। ভোমরা শুল্ক স্টেশন কর্তৃপক্ষ ওই অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে। পরে তারা ঋণপত্র জালের সঙ্গে মেসার্স সাতক্ষীরা এক্সিম লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী মো. লাভলু এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মেসার্স ট্রিম ট্রেডের স্থানীয় প্রতিনিধি মো. আলমগীরের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে অভিযোগে সাতক্ষীরা থানায় মামলা করে। গত ১৮ আগস্ট মামলাটি করেন ভোমরা শুল্ক স্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা ভূঁইয়া মফিজুর রহমান। সেটি বর্তমানে বিচারাধীন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, মেসার্স সাতক্ষীরা এক্সিমের স্বত্বাধিকারী মো. লাভলু এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মেসার্স ট্রিম ট্রেডের স্থানীয় প্রতিনিধি আলমগীর মূল্যবান দলিলপত্র জাল করে প্রতারণা করেছেন।

তবে মেসার্স সাতক্ষীরা এক্সিমের স্বত্বাধিকারী মো. লাভলু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা সঠিক নিয়মে এলসি খুলে চাল আমদানি করেছি। সঠিক কাগজপত্র দেখিয়ে বন্দর থেকে পণ্য খালাস করে নিয়েছি। পণ্য খালাসের পর চালের মূল্যও পরিশোধ করেছি। এখন ওই চাল আরেকজনের কী করে হয়, সেটা আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না। ’

মো. লাভলু আরো বলেন, ‘আমাদের কাগজপত্র সঠিক না থাকলে বন্দর কর্তৃপক্ষ আমাদের হাতে পণ্য কেন তুলে দেবে? তারা সব কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করেই চাল খালাস করেছে। বন্দর কর্তৃপক্ষের চোখ ফাঁকি দিয়ে একজনের পণ্য আরেকজনের পক্ষে ছাড়িয়ে আনা এতটা সহজ নয়। ’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শুল্ক কর্তৃপক্ষ মামলা করায় অভিযোগটির বিষয়ে এখন আর কোনো তদন্ত করবে না কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তা ছাড়া ব্যাংকে ঋণপত্র খুলে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে কিভাবে এ ধরনের অনিয়ম হলো, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে না। এতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অনিয়ম সংগঠিত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।

এর আগে ভারতের লিলিপুট কিডসওয়্যার নামের এক আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ থেকে ৫০ লাখ ডলারের (৪০ কোটি টাকা) পণ্য নিয়ে মূল্য পরিশোধ করেনি। এতে দেশের তৈরি পোশাক খাতের ২২টি প্রতিষ্ঠান বড় ধরনের লোকসানের শিকার হয়। পরে অবশ্য বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগের ফলে কিস্তিতে ওই টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেয় লিলিপুট। প্রথম কিস্তিতে সামান্য কিছু অর্থ পরিশোধ করলেও এরপর আর কোনো কিস্তি পরিশোধ করেনি প্রতিষ্ঠানটি।


মন্তব্য