kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


২০ ডিসেম্বর কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা

তিন মাসের মধ্যে সীমানা সম্প্রসারণ করে ভোটের নির্দেশ হাইকোর্টের

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা   

১৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



তিন মাসের মধ্যে সীমানা সম্প্রসারণ করে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে মহানগরীসংলগ্ন এলাকা কেন সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত হবে না—এই মর্মে রুল জারি করা হয়েছে।

ফলে সময়মতো কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নির্বাচন কমিশন আগামী ২০ ডিসেম্বর কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করেছে।

একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৫ অক্টোবর এই আদেশ ও রুল জারি করেন বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী মো. এজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, জেলা প্রশাসক, আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাসহ ছয়জনকে চার সাপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। গত শুক্রবার রিট আবেদনকারীদের মাধ্যমে হাইকোর্টের এই রায়ের অনুলিপি হাতে পান কালের কণ্ঠ’র এ প্রতিবেদক।

ওই দিনই রিট আবেদনটি করেছিলেন সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও নগরীর মধ্যম আশ্রাফপুরের বাসিন্দা কাজী মাহাবুবুর রহমান এবং শুভপুর এলাকার বাসিন্দা খুরশিদ আলমের ছেলে হাবিব মিয়া। অভিযোগ উঠেছে, নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে সক্রিয় হয়ে উঠেছে এখনই নির্বাচনে অনাগ্রহী একটি অংশ। কাউন্সিলর মাহাবুব বিএনপির উপদেষ্টা ও সাবেক হুইপ মনিরুল হক চৌধুরী সমর্থিত নেতা। সম্প্রতি কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে তাঁদের মধ্যে একটি বৈঠকও হয়েছে বলে জানা গেছে।

রিট আবেদনে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী সিটি করপোরেশনের পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলো নির্বাচনের আগেই সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্তির নির্দেশ দেওয়ার জন্য আবেদন জানানো হয়। আবেদনে পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোর নামও উল্লেখ করা হয়।

যেসব এলাকা অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব : গত ২৯ সেপ্টেম্বর মেয়র মনিরুল হক সাক্কু স্বাক্ষরিত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক চিঠিতে সিটি এলাকা সম্প্রসারণের জন্য প্রস্তাবিত মৌজাগুলো উল্লেখ করা হয়। বিজয়পুর ইউনিয়নের চাঁদপুর, শিকারপুর, মোহনপুর, সাবেক চৌয়ারা দক্ষিণ গোপীনাথপুর (অংশ), দক্ষিণ রামপুর ও বড় দুর্গাপুর, লালমাই ও শালবন, সুলতানপুর, শ্যাওড়াতুলি, কৃষ্ণপুর, হাড়াতলী, ঘোষগাঁও, তুলাতলী, সানন্দা, গাবতলী ও কিসমত। চৌয়ারা ইউনিয়নের উত্তর গোপালনগর, দক্ষিণ গোপালনগর, মোস্তফাপুর বড় দুর্গাপুর, রামচন্দ্রপুর, শ্রীমন্তপুর, হরকল (প্রতাপপুর), নলচর ও চাষাপাড়া। গলিয়ারা ইউনিয়নে ফুলতী ও রাজাপুর। পশ্চিম জোড়কানন ইউনিয়নে বানিপুর, উলুইন। জগন্নাথপুর ইউনিয়নে কুচাইতলী, বারপাড়া, চাঁপাপুর, রঘুপুর, ধনপুর, বালুতুপা ও দুর্গাপুর। পাঁচথুবি ইউনিয়নের ডমুরিয়া চাঁন্দপুর, শুভপুর (অংশ), শালদা (অংশ), উত্তর শ্রীপুর ও উত্তর মাঝিগাছা (অংশ), নিজ বানাসুয়া (অংশ), বানাসুয়া (অংশ) ও আমড়াতলী। দুর্গাপুর উত্তর ইউনিয়নের প্রস্তাবিত মৌজা উত্তর রসুলপুর, আড়াইওড়া, শাসনগাছা, পশ্চিম নোয়াপাড়া, চম্পকনগর, দক্ষিণ বলরামপুর, শুভকরপুর, রহিমপুর। দুর্গাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নে আহমেদপুর, পশ্চিম রাজেন্দ্রপুর, শ্রীধরপুর, বড় আলমপুর, ছোট আলমপুর, ভাংতা, আমতলী, বালিখাড়া, উত্তর দুর্গাপুর, আড়াইওরা, উত্তর রসুলপুর, শামাজাদিপুর, আলেখারচর, শভকরপুর, গুনান্দি, রহিমপুর, আহমেদপুর ও দৌলতপুর। বিজয়পুর ইউনিয়নে প্রস্তাবিত মৌজা।

রিট আবেদনকারী কাউন্সিলর কাজী মাহাবুবুর রহমান জানান, সিটি করপোরেশনের টাকা খরচ করা হয় সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকায় মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করার জন্য। কিন্তু সিটি করপোরেশন কোনো ট্যাক্স পায় না। আর কিছু কিছু এলাকা আছে যেগুলো ইউনিয়নেও নেই, সিটি করপোরেশনেও নেই। তারা আছে নো ম্যান্স ল্যান্ডে। তা ছাড়া ভোটারের সমন্বয় নেই। এক এলাকায় বেশি এক এলাকায় কম। অথচ অর্থ বরাদ্দ একই। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই রিট করেছেন কি না এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে এই রিট করা হয়নি। সব কাউন্সিলর মাসিক সভায় বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জনগণের প্রতি যাদের দরদ আছে, তারাই এই রিটের পক্ষে।

এই রিট আবেদনকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন না হওয়ার শঙ্কার খবরে সচেতন নাগরিক কমিটির সাবেক সভাপতি আলহাজ শাহ মো. আলমগীর খান বলেন, নিয়ম অনুযায়ী পাঁচ বছর পর নির্বাচন হওয়া উচিত। এতে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকে।


মন্তব্য