kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


খুলনায় বেসরকারি চিকিৎসায় ধর্মঘট

রোগীদের দুর্ভোগে ফেলে প্রতিবাদ

খুলনা অফিস   

১৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



‘যেখানেই যাই বন্ধ, কিন্তু জরুরিভাবে আল্ট্রাসনোগ্রাম ও রক্তের কয়েকটি পরীক্ষা করানো দরকার। কিছুতে পারছি না।

পুরো শহর ঘুরেও কোনো কাজ হয়নি। দুপুর হয়ে যাওয়ায় সরকারি হাসপাতালে যাওয়ার সুযোগ নেই। বড়ই বিপদে পড়েছি। অন্যায় করলে তো বিচার হবে। কিন্তু তার প্রতিবাদ করতে জনগণকে এমন দুর্ভোগে ফেলতে হবে কেন?’

গতকাল শনিবার খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে নিজের অসহায় অবস্থার পাশাপাশি ক্ষোভ প্রকাশ করে এসব কথা বলছিলেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন প্রিন্স। চিকিৎসকের পরামর্শে রোগ পরীক্ষা করাতে তিনি গ্রাম থেকে খুলনা নগরীতে এসে এমন বিড়ম্বনায় পড়েছেন।

শুধু প্রিন্সই নন, চিকিৎসকদের আকস্মিক ধর্মঘটে হাজারো মানুষ ভোগান্তির শিকার হয়।

বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ), বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিক্যাল প্র্যাকটিশনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএমপিএ), বাংলাদেশ প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিসিডিওএ) ডাকে শুক্রবার সকাল থেকে ধর্মঘট চলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য গতকাল রাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ধর্মঘটীদের বৈঠক চলছিল।

গত বুধবার বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে র‍্যাব-১ ও র‍্যাব-৬ যৌথভাবে বেসরকারি গাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা হেলথ গার্ডেনে অভিযান পরিচালনা করে। পরদিন বৃহস্পতিবার নগরীর নিরালা এলাকায় অনুমোদনহীন ওষুধ তৈরির অপরাধে ইউনিটি ফার্মাসিউটিক্যালস ও  দৌলতপুরের বলাকা ফার্মেসি নামের একটি ওষুধের দোকানে অভিযান চালায়। অভিযানে ওই সব প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা ও কয়েকজনকে কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এ ঘটনায় বেসরকারি ক্লিনিক মালিক, ওষুধ ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনের নেতারা বিএমএ দপ্তরে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে শুক্রবার থেকে ধর্মঘট আহ্বান করা হয়। এই ধর্মঘটের কারণে দুর্ভোগে পড়েছে রোগীরা।

খুলনার ফুলতলার বাসিন্দা ময়নুদ্দিন ময়না বলেন, ‘শনিবার ছুটি থাকায় চিকিৎসক দেখাতে এসেছিলাম চেম্বারে। এখানে আসার পর জানলাম ওই ডাক্তার রোগী দেখবেন না। এখন তো সমস্যায় পড়েছি। আবার কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হবে। এভাবে আসলে দেশ চলে না। ’

এদিকে গতকাল দুপুরে আন্দোলনকারী চিকিৎসক ও ক্লিনিক ব্যবসায়ীরা খুলনা প্রেস ক্লাবের হুমায়ূন কবির বালু মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন। এতে বিএমএর কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও খুলনা জেলা শাখার সভাপতি ডা. শেখ বাহারুল আলম নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জেলা ও বিভাগীয় স্বাস্থ্য প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের এ ধরনের অভিযান আতঙ্ক সৃষ্টির শামিল।

এই চিকিৎসক নেতা বলেন, চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সংকট ও সমস্যা থাকলে তা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনেরই দেখভাল করা উচিত। জেলা স্বাস্থ্যসেবা মনিটরিং কমিটিও বিষয়টি দেখতে পারে।

ডা. বাহারুল আরো বলেন, বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ওষুধের দোকানে ভোক্তা অধিকার আইনের অজুহাতে যে অভিযান চালানো হচ্ছে সেটা গোটা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করে তুলবে। বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবার ত্রুটি বা অসংগতির বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হলেও একই ধরনের পরিস্থিতি থাকলেও সরকারি হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এ অবস্থা চলতে থাকলে চিকিৎসকরা যেমন সেবা দিতে কুণ্ঠিত হবেন, তেমনি সাধারণ মানুষও চিকিৎসকদের ওপর আস্থা হারাবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন চিকিৎসক নেতা গাজী মিজানুর রহমান, আর কে নাথ, শওকত আলী লস্কর, বঙ্গকমল বসু, ওষুধ ব্যবসায়ী এস এম কবির উদ্দিন বাবলু প্রমুখ।


মন্তব্য