kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পুরনো আইনেই আস্থা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের

ওমর ফারুক   

১৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



পুরনো আইনেই আস্থা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের

পুলিশ আইনের একটি খসড়া ২০১৩ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিল পুলিশ সদর দপ্তর। এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আরেকটি খসড়া তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়।

কিন্তু এখনো হয়নি সে আইন। বিষয়টি ধামাচাপা পড়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করেন, ব্রিটিশের তৈরি পুলিশ আইন এখনো উপযোগী। সেটি বদলানোর প্রয়োজন নেই। পুরনো বলে এটি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

সূত্র জানায়, ২০১৩ সালের এপ্রিলে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ‘বাংলাদেশ পুলিশ আইন-২০১৩’-এর খসড়া পাঠানো হয়। এতে পুলিশের জন্য আলাদা বিভাগের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর প্রধানের পদবি হবে চিফ অব পুলিশ। নিয়োগ, বদলি—সব কিছুই হবে তাঁর নির্দেশে। পুলিশের সব কাজের দায়িত্ব তাঁর ওপর ন্যস্ত থাকবে। অপরাধের সংক্ষিপ্ত বিচারের জন্য এ বিভাগে ম্যাজিস্ট্রেট সংযুক্ত করার প্রস্তাবও করা হয়। বিশেষ কাজের জন্য বিশেষ পুলিশ নিয়োগের বিধানও রাখা হয়।

পুলিশ আইনের খসড়া পাওয়ার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সেটি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়। ২০১৩ সালের আগস্টে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিবকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি মূল্যায়ন কমিটি করা হয়। পরে আরো দুজনকে এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ওই কমিটি বিদ্যমান আইন, প্রস্তাবিত খসড়া ও যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া প্রভৃতি দেশের পুলিশ আইনের পর্যালোচনা করে। কিন্তু খসড়াটি আর চূড়ান্ত হয়নি।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, খসড়াটি নিয়ে এখন আর কাজ হচ্ছে না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ব্রিটিশরা যে আইন করেছে তার মধ্যে কী নেই যে নতুন আইন করতে হবে? মান্ধাতা আমলের বলে ওই আইনকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। ’

পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো খসড়ার বিভিন্ন ধারায় বলা হয়েছে, কোনো পুলিশ সদস্য তাঁর কর্তব্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হলে, নিয়মিত দায়িত্ব পালন বিঘ্নিত না হলে চিফ অব পুলিশের অনুমতি নিয়ে দ্বিতীয় পেশায় নিয়োজিত হতে পারবেন। পুলিশ কমিশনার, জেলা পুলিশ প্রধান বা চিফ অব পুলিশের কাছ থেকে ক্ষমতাপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা বিশেষ প্রয়োজনে উপযুক্ত কোনো ব্যক্তিকে বিশেষ পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিতে পারবেন। চিফ অব পুলিশ বিশেষ পুলিশের দায়িত্ব ও কর্তব্য এবং দায়িত্বকাল নির্ধারণ করবেন। তবে তা একবারে দুই বছরের বেশি হবে না। যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া বিশেষ পুলিশ হিসেবে দায়িত্ব পালনে অস্বীকৃতি দণ্ডনীয় অপরাধ গণ্য হবে।


মন্তব্য