kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বিমানবন্দর সড়ক ফার্মগেট এলাকায় যাত্রী দুর্ভোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



মিরপুরের মাটিকাটা থেকে কালশী পর্যন্ত সারি সারি বিভিন্ন ধরনের গাড়ি আটকে থাকতে দেখা যায় গতকাল শুক্রবার বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে। গাড়ি থেকে নেমে সামনের দিকে হাঁটছিল কেউ কেউ।

সিএনজি অটোরিকশার যাত্রীরা মিটারে ভাড়া বেড়ে যাচ্ছে দেখে জ্বলে উঠছিল তেলেবেগুনে। এই জট দেখতে দেখতে জিল্লুর রহমান উড়াল সেতুতে ওঠার আগে দেখা গেল পুলিশ কোনো গাড়িই উঠতে দিচ্ছে না। চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে লা মেরিডিয়ান হোটেলে যাবেন বলে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পরে গাড়ি চলতে দেওয়া হয় বিকেল ৫টার দিকে। সন্ধ্যার পর চীনা প্রেসিডেন্টের বঙ্গভবনে যাওয়ার কর্মসূচি থাকায় আবার বন্ধ করে দেওয়া হয় যান চলাচল। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে ওঠে। একই অবস্থা দেখা যায় ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, মানিক মিয়া এভিনিউ, রোকেয়া সরণিসহ অনেক এলাকায়।

গতকাল ছুটির দিন হলেও সকাল থেকেই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়ক হয়ে দফায় দফায় যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এই সড়ক হয়ে চলাচল করে এমন অর্ধশতাধিক রুটের গণপরিবহনের বেশির ভাগই বন্ধ ছিল। চীনা প্রেসিডেন্টের যাতায়াতের নির্ধারিত সময়ের অনেক আগে থেকেই যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় সাধারণ যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়ে। বিকেলে দুই ঘণ্টা আটকে থাকার পর কুড়িলে বাস থেকে নেমে পড়া তুরাগ পরিবহনের যাত্রী শফিকুল ইসলাম সরল বলেন, ‘বিমানবন্দর সড়কে যাওয়া যাবে না। তাই নেমে পড়লাম। ’

ফার্মগেট এলাকায় বিকেল ৩টার দিকে দেখা যায়, গুলশান ও উত্তরাগামী বাসসহ সব যানবাহন রোকেয়া সরণি দিয়ে ডাইভার্ট করা হয়। কিন্তু ঘণ্টা দেড়েকের মধ্যে কোনো যানবাহনই বিজয় সরণি মোড় পেরোতে পারেনি।

প্রেসিডেন্টের চলাচল সহজ করতে এবং নিরাপত্তার প্রয়োজনে বিমানবন্দর সড়কের স্থায়ী ?বিভাজন দেয়াল ভেঙে দুটি ইউটার্ন তৈরি করা হয়। তুলে ফেলা হয় সড়কে থাকা গতিরোধকও। এতে করে বিমানবন্দর সড়কে যানজট গতকাল বেড়ে গিয়েছিল। চীনের প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফর উপলক্ষে গতকাল সকাল ১০টা থেকে আজ শনিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত বিমানবন্দর সড়কের খিলক্ষেত ক্রসিং থেকে পদ্মা অয়েল ক্রসিং পর্যন্ত সড়কের পশ্চিম অংশ বন্ধ রেখে পূর্ব অংশে যান চলাচল করার ঘোষণা আগেই দেওয়া হয়েছিল। তবে এই সড়কের পূর্ব অংশ দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। অবশ্য ওই সময়ে সড়কটি দিয়ে দূরপাল্লার বাস-ট্রাক চলাচল করতে পারবে না। এসব ভারী যানবাহনকে বিকল্প সড়ক দিয়ে চলাচল করতে বলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেয় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

নির্দেশনায় বলা হয়, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অতিথির বাংলাদেশ সফর উপলক্ষে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৪ অক্টোবর শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে পরদিন ১৫ অক্টোবর শনিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত বিমানবন্দর সড়কে খিলক্ষেত ক্রসিং থেকে মুনমুন কাবাব (পদ্মা অয়েল) ক্রসিং পর্যন্ত রাস্তার পশ্চিম অংশ (আউটগোয়িং) বন্ধ রেখে পূর্ব অংশ দিয়ে গাড়িগুলোর আসা-যাওয়া চালু রাখা হবে। এ সময় ঢাকামুখী দূরপাল্লার বাস ও ট্রাক আবদুল্লাহপুর দিয়ে বিমানবন্দর সড়ক ব্যবহার করে ঢাকায় ঢুকতে পারবে না। এর পরিবর্তে এসব যানবাহনকে আবদুল্লাহপুর ও ধউর থেকে বেড়িবাঁধ-মাজার রোড অথবা গাবতলী রোড ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।


মন্তব্য