kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পেন পুরস্কার পেলেন শুদ্ধস্বর প্রকাশক টুটুল

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



পেন পুরস্কার পেলেন শুদ্ধস্বর প্রকাশক টুটুল

এবার পেন ইন্টারন্যাশনাল রাইটার অব কারেজ পুরস্কার পেয়েছেন বাংলাদেশে জঙ্গি হামলায় আহত শুদ্ধস্বরের প্রকাশক ও লেখক আহমেদুর রশিদ চৌধুরী টুটুল। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাতে কানাডার জনপ্রিয় লেখিকা মার্গারেট অ্যাটউড এ পুরস্কারের জন্য টুটুলের নাম ঘোষণা করেন।

যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  

বর্তমানে নরওয়েতে নির্বাসিত জীবন যাপন করছেন টুটুল। জঙ্গি হামলার পর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হয়েই দেশ ছাড়েন তিনি।

২০০৯ সাল থেকে পেন ইন্টারন্যাশনাল রাইটার অব কারেজ পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। সাহিত্যে নোবেলজয়ী প্রয়াত হ্যারল্ড পিন্টারের সম্মানে দেওয়া এ পুরস্কারকে পেন পিন্টার প্রাইজও বলা হয়ে থাকে। এর আগে ভারতের নির্বাসিত সাহিত্যিক সালমান রুশদী, ক্যারল অ্যান ডাফি, সৌদি ব্লগার রাইফ বাদাওয়ি এই পুরস্কার পেয়েছেন। চলতি বছরের গোড়ার দিকে মার্গারেট অ্যাটউডও এ পুরস্কার পেয়েছেন।

মার্গারেট অ্যাটউড বলেন, ‘বাংলাদেশি একজন প্রকাশককে এই পুরস্কার দিতে পারায় সম্মানিত বোধ করছি। ’ তিনি আরো বলেন, ‘দুর্বিপাকের মধ্যে টুটুল শুধু ব্যক্তিগত সাহসই দেখাননি, সহিংসতার কারণে যারা নিশ্চুপ হয়ে যাওয়ার হুমকির মধ্যে রয়েছে, এমন অনেক বাংলাদেশির মুখে স্বর ফোটানোর ঝুঁকি নিতে সব কাজই করেছেন। এমন এক সময়ে টুটুলকে এই পুরস্কার দেওয়া হলো, যখন আমাদের কিছু বন্ধু কাগজে স্রেফ দু কথা লিখে প্রাণ খোয়ানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। তাঁদের এই চলমান দুর্দশা তুলে ধরতেই এই পুরস্কার প্রদানকে যৌক্তিক বলে মনে করি। ’

পুরস্কার প্রাপ্তির অনুভূতি জানিয়ে আহমেদুর রশিদ টুটুল বলেন, ‘এই পুরস্কার প্রাপ্তি আমাকে উৎসাহ দেবে। ভবিষ্যতে আমার লেখালেখি ও প্রকাশনায় তা শক্তি হয়ে দাঁড়াবে। ’ তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে আমার কাজ করা সম্ভব নয়। আমি স্বপ্ন দেখছি আর ভাবছি, বিকল্প পথে কিভাবে আমার কাজগুলো এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি। আমার বইগুলো ই-বুক, প্রকাশনাগুলো ই-প্রকাশনায় রূপ দেব। কারণ বাংলাদেশে মুক্তচিন্তার বই প্রকাশ করা এখন আর সহজ নয়। ’

টুটুল বলেন, ‘দেশের কথা খুব মনে পড়ে। সেখানেই আমি কাজগুলো করেছিলাম। এখন অন্য দেশে কাজ করাটা একটু কষ্টকর। আমি সব সময় স্বপ্ন দেখি, এমন একদিন আসবে, যেদিন আমি দেশে ফিরে যাব। ’


মন্তব্য