kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পর্যটন নগরীকে সাজাতে বিনিয়োগের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



পর্যটন নগরীকে সাজাতে বিনিয়োগের আহ্বান

‘আজ শুক্রবার সকালে কক্সবাজার সৈকতে গিয়েছিলাম। সঙ্গী টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেনসহ সৈকতের পর্যটন ছাতার চেয়ারে বসলাম।

ইচ্ছে ছিল ঘণ্টাখানেক সাগরের ঢেউয়ের সঙ্গেই কাটাব। কিন্তু বিধি বাম। দুই বন্ধু যখন চেয়ারে বসে সাগরের ঢেউ উপভোগ করছিলাম তখনই শুরু হয় একের পর এক বিরক্তিকর ব্যাপার। হকার এসে বলে—চা খাবেন, কফি খাবেন? কিশোরের দল এসে বলে—শরীর ম্যাসাজ করা লাগবে? আরেকজন এসে বলে—পানি খাবেন? অগত্যা আমরা চলে আসতে বাধ্য হলাম। ’

গতকাল শুক্রবার কক্সবাজারে আয়োজিত ‘কক্সবাজার পর্যটন সিটির উন্নয়ন : সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে কথাগুলো বললেন চট্টগ্রাম-৩ আসনের (সন্দ্বীপ) সংসদ সদস্য মাহফুজুর রহমান।

সংসদ সদস্যরা তাঁদের বক্তব্যে বিশ্বের দীর্ঘতম সৈকতে ভ্রমণে আসা পর্যটকদের কাছে এ রকম বিরক্তিকর ও অবাঞ্ছিত বিষয়গুলোর ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নিতে কক্সবাজারের প্রশাসন এবং কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) ২৫তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কক্সবাজার সাগর পারের তারকা হোটেল কক্স টুডের সম্মেলন কক্ষে গতকাল আয়োজন করা হয় এই অনুষ্ঠানের। মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামীন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রিহ্যাবের সহসভাপতি (অ্যাডমিন) প্রকৌশলী সরদার মো. আমিন। তিনি বলেন, রাজধানী ঢাকা ও বন্দর নগরী চট্টগ্রাম ছেড়ে রিহ্যাব সদস্যরা পর্যটনবান্ধব আবাসন গড়তে সাগর পারের শহর কক্সবাজারে পা ফেলেছিলেন। আর তখনই রাজপথে শুরু হয় জ্বালাও-পোড়াও। সেই ২০১৩ সালের রাজনীতির নামে জ্বালাও-পোড়াও ২০১৫ সালে এসে টানা ৯২ দিন অবরোধের কারণে পুরো দেশ অচল হয়ে যায়। এ অবস্থায় মেরুদণ্ড ভেঙে যায় কক্সবাজারমুখী সম্ভাবনাময় আবাসন শিল্পেরও। সেই অবস্থান থেকে রিহ্যাব আবার মাথা তুলে দাঁড়াতে চায়। পর্যটন ব্যবসায়ী তথা দেশবাসীর সঙ্গে রিহ্যাবও চায় দেশের প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে নতুন সাজে সাজাতে।

মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় কক্সবাজার সদর-রামু আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল বলেন, পর্যটন শহর কক্সবাজারে গত তিন বছরে ব্যাপক উন্নতি ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজার পর্যন্ত সরাসরি রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীতকরণের প্রকল্পও দ্রুত এগিয়ে চলেছে। এ সবই হচ্ছে পর্যটনের বিকাশে। তিনি রিহ্যাবকে কক্সবাজারের উন্নয়নে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) ফোরকান আহমদ বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে রিহ্যাবের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নুরুন্নবী চৌধুরী (শাওন) এমপি এবং অন্যদের মধ্যে নাটোর-২ আসনের এমপি শফিকুল ইসলাম, রাজশাহী-৩ এমপি আসনের আয়েন উদ্দিন, ময়মনসিংহ-৯ আসনের এমপি আনোয়ারুল আবেদীন খান, ময়মনসিংহ-১০ আসনের এমপি ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল ও ভোলা-২ আসনের এমপি আলী আজমসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।


মন্তব্য