kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মাদক মামলা

আসামি সেজে আদালতে হাজিরা সহযোগী জেলে

নাটোর প্রতিনিধি   

১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



নাটোরে মাদক মামলার আসামি কলিমুদ্দিন সেজে আদালতে হাজিরা দিতে এসে জেলহাজতে গেছে ওই আসামির এক ‘শুভাকাঙ্ক্ষী’। তার নাম আজাদুল ইসলাম (৩২)।

তার বাড়ি সিংড়া উপজেলার গুটিয়া গ্রামে, বাবার নাম আবদুল গনি। ঘটনা জানার পর প্রকৃত আসামি কলিমুদ্দিনকে আটকের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সিংড়া থানা পুলিশ গত ২৪ ফেব্রুয়ারি উপজেলার গুটিয়া গ্রামের আখের প্রামাণিকের ছেলে কলিমুদ্দিনের বাড়ি থেকে ১০০ লিটার মদ উদ্ধার করে। বাড়ির মালিক পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও আটক করা হয় আমির হামজা নামের এক মাদকসেবীকে। এ ঘটনায় বাড়ির মালিক কলিমুদ্দিন, তাঁর স্ত্রী মর্জিনা বেগম ও আমির হামজার বিরুদ্ধে ওই দিনই সিংড়া থানায় মামলা করা হয়।

৭ এপ্রিল ওই আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। শুনানি শেষে আদালত ১০ মে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। কিন্তু অভিযুক্তরা আদালতে হাজির না হওয়ায় ২০ সেপ্টেম্বর আদালত আসামিদের বাড়ির মালামাল ক্রোক করার নির্দেশ দেন।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর পলাতক আসামি কলিমুদ্দিন ও তাঁর স্ত্রী মর্জিনা বেগম আইনজীবীর মাধ্যমে অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। আবেদন নামঞ্জুর করে আদালত তাঁদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সাত দিনের মাথায় ৪ অক্টোবর ধরা পড়ে জেলে আটক কলিমুদ্দিন আসল কলিমুদ্দিন নয়। আসল কলিমুদ্দিন আদালতে হাজিরই হয়নি। কলিমুদ্দিন সেজে আদালতে ওই দিন হাজির হয়েছিল আজাদুল ইসলাম!

এ বিষয়ে জিআরও (কোর্ট দারোগা) শরিফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন বৃহস্পতিবার দুপুরে আজাদুলের লোকজনের কাছ থেকে ঘটনাটি জানার পর তিনি বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন।

এদিকে কলিমুদ্দিনের পরিবর্তে আজাদুলকে আদালতে হাজির হওয়ার পরামর্শ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিম উদ্দিন বলেন, তাঁর কাছে আসামি যে পরিচয় দিয়েছে, সেই পরিচয়েই তিনি জামিনের আবেদন করেছেন। পরে প্রতারণার বিষয়টি জানার পর তিনি তা তদন্ত করে দেখার জন্য আদালতের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।

এ বিষয়ে সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন মণ্ডল বলেন, তদন্তে আসামি কলিমুদ্দিনের পরিবর্তে তাঁর শিষ্য আজাদুলের জেল খাটার বিষয়টি সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। প্রকৃত আসামিকে ধরার চেষ্টা চলছে।


মন্তব্য