kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বাগমারায় যুবলীগ নেতা ও বিএনপির দুই কর্মী নিখোঁজ

বগুড়ায় ইমাম-মুয়াজ্জিন

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী ও বগুড়া   

১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



রাজশাহীর বাগমারায় এক যুবলীগ নেতা ও বিএনপির দুই কর্মীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে তিনজনকে তুলে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল শুক্রবার সকালে সংবাদ সম্মেলন করে নিখোঁজদের সন্ধান চেয়ে প্রধানমন্ত্রীসহ প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছে স্বজনরা।

এদিকে বগুড়া শহরের কৈপাড়া এলাকার বারিধারা জামে মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিন নিখোঁজ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে এশার নামাজের পর থেকে তাঁদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

বাগমারা মাড়িয়ার বালিয়া গ্রামের নিখোঁজ আনিসুর রহমানের বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ২৯ সেপ্টেম্বর বিএনপির কর্মী আনিসুর রহমান ও মোস্তাক হোসেন এবং ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি শাহ আলম ইমনকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিচয়ে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরের দিন থেকে নিখোঁজ তিনজনের স্বজনরা বিভিন্ন বাহিনীর দপ্তরে গিয়ে খোঁজখবর নিতে থাকে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাঁদের আর কোনো সন্ধ্যান পায়নি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নিখোঁজ আনিসুর রহমানের বড় ভাই শামসুল ইসলাম, যুবলীগের নেতা শাহ আলমের বড় ভাই একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা শাহনেওয়াজ, মোস্তাকের বৃদ্ধ মা মাহমুদা বেগমসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা। তাঁদের দাবি, যদি তাঁরা কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকেন তাহলে দেশের প্রচলিত আইনের মাধ্যমে বিচার করা হোক। কিন্তু তাঁদের দ্রুত হাজির করা হোক।

বাগমারা থানার ওসি সেলিম হোসেন জানান, নিখোঁজদের স্বজনদের পক্ষ থেকে জিডি করা হয়েছে। তাঁদের উদ্ধারের জন্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

বগুড়ায় ইমাম-মুয়াজ্জিন নিখোঁজ : বগুড়া শহরের কৈপাড়া এলাকার বারিধারা জামে মসজিদের ইমাম আব্দুল্লাহ (৪৫) ও মুয়াজ্জিন রমজান আলী (২৬) নিখোঁজ হয়েছেন। তাঁদের বাড়ি সোনাতলা উপজেলার মহেশপুর গ্রামে। তাঁরা সম্পর্কে শ্বশুর-জামাই।

স্থানীয়রা জানায়, আব্দুল্লাহ পাঁচ বছর থেকে ওই মসজিদের ইমামতি করেন। তিনি পরিবার নিয়ে মসজিদের পাশেই একটি বাড়িতে বসবাস করেন। কিছুদিন আগে তাঁর মেয়ে জামাই রমজান আলীও ওই মসজিদে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব নেন। বৃহস্পতিবার এশার নামাজের সময় ইমাম ও মুয়াজ্জিন দুজনই মসজিদে ছিলেন। কিন্তু নামাজ শেষ হলে তাঁরা আর বাড়ি ফেরেননি। তাঁদের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।

মসজিদ কমিটির সদস্য খন্দকার মামুন জানান, শুক্রবার সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন পুলিশ ফাঁড়ি, সদর থানা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অফিসে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। কিন্তু দুপুর পর্যন্ত কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে সদর থানার ওসি (তদন্ত) আসলাম আলী জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি পুলিশ গুরুত্ব সহকারে দেখছে।


মন্তব্য