kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জাতীয় কমিটির সিলেট বিভাগীয় সমাবেশ

বনের বিকল্প গাছ হতে পারে না

সিলেট অফিস   

১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সিলেট বিভাগীয় সমাবেশে আবারও কয়লাভিত্তিক রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে। কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, গাছ লাগিয়ে আরেকটি সুন্দরবন বানানো সম্ভব নয়।

বনের বিকল্প গাছ হতে পারে না।

রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পবিরোধী আন্দোলন দমাতে যুক্তিতে পরাজিত হয়ে সরকার এখন শক্তি প্রদর্শন করছে বলে অভিযোগ করেন জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব। তিনি বলেন, ‘এটা সরকারের শক্ত অবস্থানের পরিচয় নয় বরং এটা তাদের ভীত হওয়ার লক্ষণ। যুক্তি নেই বলেই রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে বিজ্ঞাপন দিতে হচ্ছে, ভয় দেখাতে হচ্ছে, শক্তি প্রদর্শন করতে হচ্ছে। কিন্তু তাতে কাজ হবে না। সুন্দরবনকে ধ্বংস করে কয়লাভিত্তিক রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যাবে না। ’

গতকাল শুক্রবার বিকেলে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে তেল-গ্যাস রক্ষা জাতীয় কমিটির সিলেট বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে আনু মুহাম্মদ এসব কথা বলেন।

এই সমাবেশের আয়োজন করে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সিলেট শাখা।

সমাবেশে আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘বাংলাদেশ, ভারত এবং পৃথিবীতে আমরা একজনও বিজ্ঞানী পাইনি যিনি বলেছেন, রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে সুন্দরবনের ক্ষতি হবে না। যাঁরা বলছেন ক্ষতি হবে না তাঁরা ভাড়া খাটা বিজ্ঞানী। ভাড়াটে বিশেষজ্ঞরা বলেন নানা বিশ্লেষণের কথা। কিন্তু এটা বোঝার জন্য বিশ্লেষণের দরকার পড়ে না। যে কেউ বিষয়টি নিয়ে ভাবলে এটা বুঝতে পারবে।

যুক্তি তুলে ধরে জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব বলেন, রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রতিবছর ৪৭ লাখ টন কয়লা পোড়ানো হবে। প্রতিদিন কয়লা পোড়ানো এবং প্রতিদিন কয়লা পরিবহন করলে এর ফলাফল কী হতে পারে তা বুঝতে বিশেষজ্ঞ হওয়ার দরকার নেই।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি সিলেট জেলা শাখার সভাপতি ব্যারিস্টার আরশ আলী।

কমিটির জেলা সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন সুমনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বজলুর রশিদ ফিরোজ, গণসংহতি আন্দোলনের সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকী, বাসদ (মার্কসবাদী) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফকরুদ্দিন কবির আতিক, জাতীয় কমিটির কেন্দ্রীয় সদস্য কল্লোল মোস্তফা, জাতীয় গণফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আমিরুন নুজহাত মনীষা, সাম্যবাদী দল সিলেট জেলার সাধারণ সম্পাদক ধীরেন সিংহ প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, মার্কারি দূষণ রোধে সারা পৃথিবীতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অথচ সরকার সুন্দরবনে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প চালু করতে যাচ্ছে।

রামপাল প্রকল্পে পরিবেশের ক্ষতি হবে না বলে সরকারের যুক্তিকে ভুল দাবি করে বক্তারা বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে সরকার আসমান থেকে প্রযুক্তি এনেছে, যেটায় নাকি কোনো দূষণ হবে না।

বক্তারা বলেন, এই প্রকল্পের ক্ষতির কথা চিন্তা করে ভারতের সাধারণ মানুষ, বুদ্ধিজীবীরাও কমিটির দাবির সঙ্গে একমত হয়ে আন্দোলন করছেন। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের এই আন্দোলনে তাঁরা অংশগ্রহণের কথা জানিয়েছেন।

বক্তারা বলেন, ইউনেসকো বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে সম্প্রতি সরকারকে দেখিয়েছে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে সুন্দরবন কিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারা রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ সুন্দরবনের জন্য হুমকি হবে এ রকম সব বাণিজ্যিক তৎপরতা বন্ধ করতে বলেছে।


মন্তব্য