kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রংপুরে জাপানি খুন

বিচারের জন্য জজ আদালতে মামলা স্থানান্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর   

১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



বিচারের জন্য জজ আদালতে মামলা স্থানান্তর

রংপুরে জাপানি নাগরিক কুনিও হোশি হত্যা মামলা বিচারের জন্য জেলা ও দায়রা জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে জ্যেষ্ঠ বিচার বিভাগীয় হাকিম আদালতে শুনানির পর মামলাটি স্থানান্তরের আদেশ দেন বিচারক আরিফুল ইসলাম।

মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ২০ অক্টোবর।

আদালত সূত্র জানায়, জেলা ও দায়রা জজ আদালত অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে বিচারকার্যক্রম শুরু করতে পারেন। মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ৭ থেকে ১০ দিনের ব্যবধানে তারিখ পড়বে বলেও জানান আদালতের সরকারি কৌঁসুলি।

রংপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক জানান, হত্যাকাণ্ডের ১০ মাস সাত দিনের মাথায় গত ৭ আগস্ট রংপুর জ্যেষ্ঠ বিচার বিভাগীয় হাকিম আদালত জাপানি নাগরিক হত্যা মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।

এ মামলায় জেএমবির আট জঙ্গির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় অভিযোগপত্র দিয়েছেন কাউনিয়া থানার ওসি আব্দুল কাদের জিলানী। আসামিদের মধ্যে জেএমবির আঞ্চলিক কমান্ডার মাসুদ রানাসহ পাঁচ জঙ্গি কারাগারে আছে। বাকি তিন জঙ্গি পলাতক।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মামলার আসামিরা সবাই নিষিদ্ধ ঘোষিত জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্য। তাদের মধ্যে মাসুদ রানা (২১), ইছাহাক আলী (২৩), লিটন মিয়া (২৩), আবু সাঈদ (৩৫) ও খয়বর হোসেন রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে আছে। তাদের সবার বাড়ি রংপুরের পীরগাছা উপজেলায়।

অন্য আসামি কুড়িগ্রামের সাদ্দাম হোসেন (২১) ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আহসান উল্লাহ আনছারী (২৮) পলাতক। এ ছাড়া আরেক আসামি পঞ্চগড়ের নজরুল ইসলাম ওরফে বাইক হাসান রাজশাহীতে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আসামিদের অনুপস্থিতিতে বিচারকাজ শুরুর জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। পলাতক জঙ্গিদের আদালতে আত্মসমর্পণের জন্য ১৩ অক্টোবর চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। কিন্তু তারা আদালতে হাজির না হওয়ায় তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচারকাজ সম্পন্ন করার জন্য রংপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলার নথি পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন জ্যেষ্ঠ বিচার বিভাগীয় হাকিম আদালত।

সরকারি কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক জানান, এই মামলায় জেএমবি নেতা পীরগাছার মাসুদ রানা গত বছর ৭ ডিসেম্বর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এর পরই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উন্মোচন হয়। মাসুদ রানা নিজেই কুনিও হোশিকে গুলি করে হত্যা করে। এ সময় অন্য জেএমবি সদস্য বিজয় তার সঙ্গে ছিল। হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়। এই মামলায় জেএমবি সদস্য বিজয়ের পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা না পাওয়ায় তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে জানান অ্যাডভোকেট মালেক।

উল্লেখ্য, গত বছর ৩ অক্টোবর সকাল ১০টায় রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার সারাই ইউনিয়নের কাচু আলুটারী গ্রামে জাপানি নাগরিক কুনিওকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি রংপুর নগরীর মুন্সিপাড়ায় তাঁর ব্যবসায়িক সহযোগী জাকারিয়া বালার বাসায় ভাড়া থাকতেন। তিনি কাচু আলুটারী গ্রামে জমি ইজারা নিয়ে পরীক্ষামূলক একটি ঘাসের খামার করেন। ঘটনার দিন সকালে তিনি রংপুর শহর থেকে রিকশায় করে খামারের দিকে যাচ্ছিলেন।

 


মন্তব্য