kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সম্পর্ক সুদূরপ্রসারী

চীনের প্রেসিডেন্টের ঢাকা সফর নিয়ে পররাষ্ট্রসচিবের প্রেস ব্রিফিং

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফরকে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেছেন পররাষ্ট্রসচিব শহীদুল হক। এই সফরকালে ‘সফল’ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা ও অংশীদারির ‘নতুন দিগন্ত’ উন্মোচিত হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।

গতকাল শুক্রবার চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রসচিব এ মন্তব্য করেন।

গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা মিলনায়তনে ওই ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রসচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর ২৭টি সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি সই হয়েছে।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠক প্রসঙ্গে শহীদুল হক বলেন, ‘একটা সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এই আলোচনাটা হয়েছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও চীনের প্রেসিডেন্ট সেটা উল্লেখ করেছেন। এই সফর একটা ঐতিহাসিক সফর। এর মধ্য দিয়ে দুই দেশের সুসম্পর্ক একটা নতুন যুগে প্রবেশ করবে। প্রধানমন্ত্রী ও চীনের প্রেসিডেন্ট দুজনেই বলেছেন যে দুই দেশের সম্পর্ক আগে যেটা ক্লোজার কম্প্রিহেনসিভ কো-অপারেশন (ঘনিষ্ঠ সমন্বিত সহযোগিতা) ছিল, সেখান থেকে এখন স্ট্র্যাটেজিক রিলেশনশিপে (সুদূরপ্রসারী সামগ্রিক লক্ষ্যাভিমুখী সম্পর্ক) প্রবেশ করেছে। স্ট্র্যাটেজিক রিলেশনশিপের ফলে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরো গভীর হবে এবং এর ব্যপ্তি বাড়বে। বিভিন্ন পর্যায়ে আমরা এখন দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের একটা নতুন অবয়ব দেখব। ’ তিনি আরো বলেন, ‘চীনের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, দুই দেশের সম্পর্ক এখন বিশ্বস্ততার জায়গায় গেছে। ’

পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘দুই পক্ষের মধ্যে যে আলোচনা হয়েছে সেখানে দুই দেশের সম্পর্কের সব দিকই উঠে এসেছে। রাজনৈতিক পর্যায়ে আরো বেশি আলোচনা ও যোগাযোগ বিশেষ করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এবং দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের বিষয়ে দুজনই খুব গভীরভাবে উপলব্ধি করেছেন। আমরা আগামী দিনগুলোতে দেখব যে দুই দেশের মধ্যে অনেক সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ’

শহীদুল হক বলেন, ‘দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে নিয়মিত পরামর্শ বিনিময়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে। যে জিনিসটা আমরা দেখেছি যে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্যের একটা দীর্ঘ ইতিহাস আছে। কিন্তু এবারে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে যেসব ক্ষেত্রে ব্যবসা-বাণিজ্য হবে সেগুলোর নতুন কিছু ক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। বিশেষ করে আইসিটি ক্ষেত্রে একটি বড় চুক্তির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যের যে ক্ষেত্রগুলো রয়েছে, যেমন—কৃষি ও অন্যান্য বিষয়, সেগুলো আরো গভীর ও প্রশস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চীনারা পাট খাতে বিনিয়োগের ইঙ্গিত দিয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে উত্পাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে একটি কাঠামোগত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতের উত্পাদন সামর্থ্য বাড়ানোর জন্য চীন প্রযুক্তিগতসহ নানা বিষয়ে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে আইটি খাতে একটি বড় বিনিয়োগ করবে। এর মধ্য দিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ ও ডিজিটাল কানেক্টিভিটি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে দুই দেশ একমত হয়েছে। ’

চীনের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের নানা অর্জনের প্রশংসা করেছেন বলে জানান শহীদুল হক। তিনি বলেন, ‘অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। চীনের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর যে নেতৃত্ব ও বাংলাদেশের যে অর্জন সে বিষয়টি অন্তত তিনবার বলেছেন। উনি বলেছেন, নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের যে ইতিহাস সেখান থেকে চীনের অনেক কিছু শেখার আছে। ’

দুই দেশের মধ্যে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই বিষয়ে শহীদুল হক বলেন, “নতুন যে ক্ষেত্রগুলো আবিষ্কৃত হয়েছে তার মধ্যে মেরিটাইম সেক্টরে একটা বড় ধরনের সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। ‘ওয়ান বেল্ট, ওয়ান রোড’ চীনা প্রেসিডেন্টের কানেক্টিভিটির যে উদ্যোগ তাকে বাংলাদেশ প্রমোট করার জন্য একটা সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়েছে। ” তিনি বলেন, ‘এই বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে চীনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের যে বহুমাত্রিকতা আছে তা আরো গভীর ও প্রশস্ত হবে। ’

সামরিক ক্ষেত্রে কোনো সহযোগিতার চুক্তি হয়েছে কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ‘আমরা এখন ওই প্রসঙ্গে বলছি না। আমরা আপাতত দুই দেশের মানুষের উন্নয়নের জন্য যেটা প্রয়োজন সেসবের কথা বলছি। ’

কী কী খাতে সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি সই হয়েছে জানতে চাইলে শহীদুল হক বলেন, ‘সব এখন বলতে পারছি না। বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতার জন্যও একটা সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমনে দুই দেশের একসঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে দুই নেতা সম্মত হয়েছেন। বিশেষ করে সামর্থ্য বাড়ানো, তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়ে একটা সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। ১৫টি সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে দুই দেশের সরকারের মধ্যে এবং ১২টি ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। একটি চুক্তিতে কিছুটা সমস্যা থাকায় তা আপাতত বাদ রাখা হয়েছে। ’ তিনি বলেন, ‘ইকোনমিক্যাল ও টেকনিক্যাল খাতে সহযোগিতার জন্য একটি চুক্তি ও একটি কাঠামোগত চুক্তি সই হয়েছে। কর্ণফুলী টানেলের বিষয়ে একটি কাঠামোগত চুক্তি হয়েছে। দাশেরকান্তি পয়োনিষ্কাশন প্রকল্পের বিষয়ে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ’


মন্তব্য