kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে শুরু স্থাপনাশিল্পের প্রদর্শনী

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে শুরু স্থাপনাশিল্পের প্রদর্শনী

আলিঁয়স ফ্রঁসেজ দো ঢাকা গ্যালারিতে গতকাল শিল্পী কামরুজ্জামান স্বাধীনের একক শিল্প প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। ছবি : কালের কণ্ঠ

হাজার হাজার ইঁদুর ছড়িয়ে রয়েছে গ্যালারিতে। ঢোকার মুখেও দেখা মিলল ইঁদুরের।

এর মধ্য দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মানুষের আত্মকেন্দ্রিকতা, যা পৃথিবীকে ঠেলে দিচ্ছে ধ্বংসাত্মক ভবিষ্যতের দিকে। এ ভাবনা থেকেই ভিন্নধর্মী স্থাপনাশিল্প প্রদর্শনীটি সাজিয়েছেন শিল্পী কামরুজ্জামান স্বাধীন। তিনি বললেন, ‘মানুষ এমন লোভে ডুবে আছে যে সব কিছু খেয়ে ফেলতে চায়। বন, পশু-পাখি, সাগর, বাতাস এমনকি নিজেদেরও। ’

রাজধানীর ধানমণ্ডির আলিয়ঁস ফ্রঁসেজে শুরু হয়েছে এই ভিন্নধর্মী স্থাপনাশিল্পের প্রদর্শনী। গতকাল শুক্রবার এ প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। এতে অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত সোফি অবের। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিল্পী ও চিত্র সমালোচক মোস্তফা জামান এবং জায়ান্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক হাসান। স্বাগত বক্তব্য দেন আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ ঢাকার পরিচালক ব্রুনো প্লাস।

উদ্বোধনকালে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রকৃতি ধ্বংস করে আমরা নিজেদের ধ্বংস করছি। চারপাশে জঞ্জাল তৈরি করে মানুষের বিরোধী শক্তিকে আরো শক্তিশালী করে ফেলছি। এ প্রদর্শনীর ফলে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি হলে শিল্পী সার্থক হবে। ’ তিনি বলেন, ‘স্থাপনাশিল্প নিয়ে আমার দুঃখবোধ রয়েছে। শিল্পী এত কষ্ট করে কাজ করে, কিন্তু সাত বা দশ দিন পর এটির আলোকচিত্র ছাড়া আর কিছুই থাকবে না। স্থায়িত্বের কথা না ভেবে শিল্পী যে এমন কাজ করেছে, তার জন্য তাকে ধন্যবাদ। ’

কামরুজ্জামান স্বাধীনের ছোটবেলা কেটেছে ঠাকুরগাঁওয়ে। সেই সূত্রে ছোটবেলা থেকেই সাঁওতালদের তিনি দেখেছেন খুব কাছ থেকে। সাঁওতালদের জীবনধারার পরিবর্তন শিল্পী দেখেছেন। তিনি দেখেছেন, কিভাবে ধীরে ধীরে শিকার ছেড়ে আধুনিক কৃষিকাজ সাঁওতালদের প্রধান জীবিকা হয়ে উঠল। তাদের জীবনধারা পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে তাদের চারপাশ—হাইব্রিড ফসল আর কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার তাড়িয়ে দিয়েছে ইঁদুর, শিয়াল, পেঁচা, ইগল ও আরো অনেক প্রাণী। এসব প্রাণী প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষার জন্য ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সেই উপলব্ধি থেকেই শিল্পী গড়ে তুলেছেন এ স্থাপনাশিল্প।

প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে কয়েক হাজার পোড়ামাটির ইঁদুর নিয়ে ইনস্টলেশন, শত শত তীর নিয়ে একটি ভিডিও ইনস্টলেশন এবং কিছু চিত্রকর্ম যা তৈরি হয়েছে সাঁওতালদের ঘর লেপার পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহার করে।

প্রদর্শনীটি চলবে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত। সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা, শুক্র ও শনিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা এবং বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রদর্শনী খোলা থাকবে। রবিবার সাপ্তাহিক বন্ধ। প্রদর্শনীটি সবার জন্য উন্মুক্ত।


মন্তব্য