kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জয়পুরহাটে স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যা

জয়পুরহাট ও সাতক্ষীরা প্রতিনিধি   

১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



জয়পুরহাটে স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যা

জয়পুরহাটের সদর উপজেলার আমদই ইউনিয়নের হাঁটুভাঙ্গা গ্রামে দাম্পত্য কলহের জের ধরে স্ত্রীকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেছেন এক স্বামী। গত বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন স্ত্রী নাসিমা আখতার (৪২), স্বামী আব্দুল হামিদ (৪৮)। গতকাল শুক্রবার সকালে তাঁদের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

এদিকে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার বালিয়া গ্রামে পারিবারিক কলহের জের ধরে শিশুসন্তানকে বিষপানে হত্যার পর মা আত্মহত্যা করেছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো ময়না বেগম (২৪) ও তাঁর তিন বছরের ছেলে হাসানুর রহমান।

জয়পুরহাটের ঘটনায় পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হাঁটুভাঙ্গা গ্রামে মুদি ব্যবসায়ী আব্দুল হামিদের সঙ্গে স্ত্রী নাসিমা আখতারের দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল। গত এক মাস ধরে নাসিমা বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এর মধ্যে গত ৯ অক্টোবর সালিসের মাধ্যমে আবার তাঁরা একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার রাতে স্বামী-স্ত্রী এক ঘরে ঘুমিয়ে পড়ে। শুক্রবার সকালে ছোট ছেলে রাকিব হাসান বাবা-মাকে ডাকতে গিয়ে দেখতে পায় বাবা ঘরের তীরে ঝুলছেন আর মা খাটের ওপর গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় পড়ে আছেন। পরে বাড়ির লোকজন ও স্থানীয় ইউপি সদস্য পুলিশকে খবর দেন।

আমদই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাহানুর আলম সাবু জানান, নিহতদের দাম্পত্য কলহের কারণেই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। তাঁদের কলহ পরিষদে সালিস বসিয়ে মেটানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তার পরও তাঁদের শেষ রক্ষা করা গেল না।

জয়পুরহাট সদর থানার ওসি রায়হান হোসেন জানান, ওই ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।  

জয়পুরহাট সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) অশোক কুমার পাল জানান, দাম্পত্য কলহের জের ধরে স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামী আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সাতক্ষীরার ঘটনায় পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার স্ত্রী ময়না বেগম ও সন্তান হাসানুর রহমানকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি তালা উপজেলার বালিয়া গ্রামে যান স্বামী শহিদুল মোড়ল। একপর্যায়ে শহিদুল শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সামনে স্ত্রীকে গালমন্দ করেন। এতে স্ত্রী ময়না বেগম অপমানিত বোধ করেন। পরে হাসানুরকে নিয়ে পাশের ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। রাতের কোনো একসময় ঘুমিয়ে থাকা শিশুকে ময়না বিষপান করিয়ে নিজেও বিষপান করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।  

তালা থানার ওসি ছগির মিঞা জানান, প্রাথমিক তদন্তে বিষাক্রান্ত হয়ে শিশুসহ তার মায়ের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। সুরতহাল রিপোর্ট তৈরির সময় দুটি মৃতদেহে আঘাত বা কোনো ক্ষতচিহ্ন দেখা যায়নি। এ নিয়ে কোনো পক্ষই অভিযোগ করেনি।


মন্তব্য