kalerkantho

মঙ্গলবার। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ । ৯ ফাল্গুন ১৪২৩। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কর্ণফুলীর নিচে টানেল নির্মাণ প্রকল্প উদ্বোধন

আসিফ সিদ্দিকী, চট্টগ্রাম   

১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



কর্ণফুলীর নিচে টানেল নির্মাণ প্রকল্প উদ্বোধন

চট্টগ্রামে দেশের প্রথম টানেল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি এসেছিল ২০০৮ সালে। চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ প্রতিশ্রুতি দেন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে সম্ভাব্যতা যাচাই হয়েছে, নির্মাণের সমীক্ষা হয়েছে। অবশেষে গতকাল শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে কর্ণফুলী নদীর নিচে টানেল প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এ খবরে খুশির জোয়ার বইছে চট্টগ্রামে।

নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণে সার্কভুক্ত দেশের মধ্যে বাংলাদেশই প্রথম হতে যাচ্ছে। ভারতে সড়ক যোগাযোগে স্থলভাগে টানেল রয়েছে। আর মুম্বাই থেকে আহমেদাবাদ পর্যন্ত ৫০৮ কিলোমিটার হাইস্পিড রেল করিডর নির্মাণ করার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে ভারত। এর মধ্যে সাগরের নিচ দিয়ে ২১ কিলোমিটার টানেল নির্মাণ করা হবে। সে কাজ শুরু হবে ২০১৮ সালের শেষ দিকে। সে হিসেবে বাংলাদেশই টানেল নির্মাণে সার্কের মধ্যে প্রথম হতে যাচ্ছে।

জানা গেছে, আট হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা ব্যয়ে এ টানেলের নির্মাণকাজ শুরু হবে আগামী ডিসেম্বরে। ২০২০ সালের মধ্যে টানেল দিয়ে গাড়ি চলাচল শুরুর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

টানেল নির্মাণে চট্টগ্রামকেই কেন বেছে নেওয়া হলো জানতে চাইলে প্রকল্প এলাকার সংসদ সদস্য এম এ লতিফ কালের কণ্ঠকে বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে চট্টগ্রাম ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কিন্তু সেই বিনিয়োগ ধরে রাখার মতো জমি এখন চট্টগ্রাম শহরে নেই। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী চিন্তায় কর্ণফুলী নদীর ওপারকে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের হাব করতে চট্টগ্রামেই টানেলটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সরকারদলীয় সংসদ সদস্য এম এ লতিফ বলেন, ২০০৮ সালে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের জনসভায় চট্টগ্রামে টানেল নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু অনেকেই সেটি বিশ্বাস করতে চাননি। তবে এখন আর সেটি আশ্বাস নয়, বাস্তব।  

জানা গেছে, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর নিচে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এ টানেল নির্মাণের জন্য চায়না কমিউনিকেশন কনস্ট্রাকশন কম্পানির সঙ্গে অনেক আগে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। আগামী ডিসেম্বর থেকে ২০২০ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। চীন অর্থায়ন করবে প্রায় চার হাজার ৮০০ কোটি টাকা। বাকি টাকা সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেবে।

টানেল নির্মাণকে কেন্দ্র করে কর্ণফুলী নদীর ওপারে বিনিয়োগ সম্ভাবনার নতুন দুয়ার উন্মুক্ত হবে। বর্তমানে কর্ণফুলী নদীর ওপারে আংশিক চালু রয়েছে কোরীয় ইপিজেড। এ ছাড়া বিচ্ছিন্নভাবে কিছু শিল্প-কারখানা গড়ে উঠেছে। টানেল নির্মাণের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সরকার আনোয়ারায় একটি ইকোনমিক জোন স্থাপন করছে। পাশাপাশি চীনের বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ চায়না ইকোনমিক জোন বাস্তবায়িত হচ্ছে। গতকাল চীনের প্রেসিডেন্ট সেটির উদ্বোধন করেন। টানেল নির্মাণের ফলে সড়ক যোগাযোগে নতুন বিপ্লব হবে চট্টগ্রামে। চট্টগ্রামের সঙ্গে কক্সবাজারের দূরত্বও অনেক কমে যাবে।

টানেল নির্মাণ উদ্বোধন করায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম কালের কণ্ঠকে বলেন, টানেল নির্মাণের ফলে কর্ণফুলীর ওপার ঘিরে বিনিয়োগের নতুন দুয়ার উন্মুক্ত হবে। একে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চল হবে সেখানে। আর এশিয়ান হাইওয়ে ও নতুন সিল্ক রুটে প্রবেশ করবে চট্টগ্রাম। চট্টগ্রাম হয়ে উঠবে অর্থনৈতিক করিডর।


মন্তব্য