kalerkantho

সোমবার । ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ । ৮ ফাল্গুন ১৪২৩। ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮।


এ পর্যন্ত ২০ দল ছেড়েছে ছয়টি দলের একাংশ

শফিক সাফি   

১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



এ পর্যন্ত ২০ দল ছেড়েছে ছয়টি দলের একাংশ

এ পর্যন্ত ছয়টি দল ভেঙে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট ছেড়েছে। শঙ্কা রয়েছে আরো কয়েকটি দল নিয়েও। তবে বিষয়টি সেভাবে আমলে নিচ্ছে না বিএনপি। দলটির নেতারা বলছেন, আগেও অনেক সময় প্রলোভন দেখিয়ে গোয়েন্দা দিয়ে নেতাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অনেক বড় নেতা-নেত্রীর গড়া দলও জোট ছেড়ে চলে গেছে। কিন্তু তারা কিছুই করতে পারেনি। তাই বিষয়টি সেভাবে আমলে নেওয়ার কিছু নেই।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, একদিকে ভাঙন, আরেক দিকে কৃত্রিম দল গঠন; এর সঙ্গে আছে দলাদলি, সন্দেহ, অবিশ্বাস। এই পরিস্থিতি বিরাজ করছে ২০ দলীয় জোটের শরিক বিভিন্ন দলের মধ্যে। এ কারণে এরই মধ্যে জোট ছেড়েছে ছয় দলের একাংশ। ন্যাপ ভাসানীর আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে থাকা দলটি এখন জোটে রয়েছে। বেরিয়ে গেছেন অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম। এনপিপি নিয়ে শওকত হোসেন নিলু বেরিয়ে গেলেও রয়ে গেছে ফরিদুজ্জামান ফরহাদের নেতৃত্বে থাকা গ্রুপ। ইসলামী ঐক্যজোটের আব্দুল লতিফ নেজামীর অংশ, এনপিডির আলমগীর মজুমদারের নেতৃত্বাধীন অংশ এবং মুসলিম লীগের আতিকুল ইসলামের নেতৃত্বে থাকা অংশ বেরিয়ে গেছে। রয়ে গেছে মাওলানা আব্দুল রকিবের নেতৃত্বে থাকা ইসলামী ঐক্যজোট, খন্দকার গোলাম মোর্তজার নেতৃত্বে থাকা এনডিপি এবং কামরুজ্জামান খানের নেতৃত্বে থাকা মুসলিম লীগ।

জোট ছাড়ার বিষয়টি মাঝেমধ্যেই সামনে চলে আসে। সর্বশেষ গত রবিবার শফিউল আলম প্রধানকে অব্যাহতি দিয়ে জাগপার নতুন কমিটি গঠন করা হয় দলটির সহসভাপতি এ কে এম মহিউদ্দিন আহাম্মেদকে সভাপতি ও অ্যাডভোকেট হাজী মো. মুজিবুর রহমানকে সাধারণ সম্পাদক করে। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, মূলত দুটি কারণে ভেঙে গেছে দলটি। প্রধান কারণ হচ্ছে, দলের মধ্যে শফিউল আলম প্রধানের একচ্ছত্র আধিপত্য। সম্প্রতি দলটির সম্মেলন হয়। তাতে বেরিয়ে যাওয়া অংশের সভাপতি মহিউদ্দিন আহাম্মেদ সাধারণ সম্পাদক পদের দাবিদার ছিলেন। কিন্তু তাঁকে সে পদ দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া প্রধানের অনুপস্থিতিতে তাঁর স্ত্রী রেহানা প্রধানকে দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। এ নিয়েও নাখোশ ছিলেন মহিউদ্দিন। এসবের সঙ্গে সরকারের একটি অংশের নানা আশ্বাসের হাতছানিও থাকতে পারে। ক্ষমতাসীন দলের এক প্রভাবশালী নেতার আত্মীয় মহিউদ্দিন আহাম্মেদ।

বিএনপির একাধিক সূত্রে জানা গেছে, জোটের বিষয়টি দেখভাল করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জাগপা ভাঙার পর তিনি দলের সংশ্লিষ্ট নেতাদের কাছে বিষয়টি জানতে চান। জোটের শীর্ষ এক নেতা জানান, বিষয়টি বিএনপির হাইকমান্ড খুব একটা আমলে না নিলেও শিগগিরই ২০ দলীয় জোটের বৈঠক ডাকবেন খালেদা জিয়া।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘কথা নেই বার্তা নেই একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়ে দিল জাগপার তোমরা কেউ নও, আমরা নেতা। এটা সরকারের চালে হয়েছে, এটা তাদের ঘৃণ্য খেলা। এ সরকার স্বাভাবিক সরকার নয়, তাই তাদের কাজও অস্বাভাবিক। এসব কর্মকাণ্ডে বিএনপির, ২০ দলীয় জোট বা গণতন্ত্রের কোনো ক্ষতি হবে না। বরং সরকার যে ইচ্ছায় ২০ দলীয় জোটকে ভাঙার চেষ্টা করছে তা কখনোই সফল হবে না। ’

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরে ষড়যন্ত্র, বিবাদ, ভাঙন, পাল্টাপাল্টি বহিষ্কার নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। এতে মূলধারায় কোনো ক্ষতি হবে না। আর যাঁরা বেরিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা রাজনৈতিক উচ্ছিষ্টে পরিণত হবেন। ’

জানা গেছে, ভাঙন আর দলাদলিতে জড়িয়ে ক্ষয়িষ্ণু হয়ে পড়েছে কয়েকটি দল। সঙ্গে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ২০ দলীয় জোট থেকে এসব দলকে বের করে আনার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। কেউ কেউ ক্ষমতাসীনদের কাছে নতিও স্বীকার করছে নানা কারণে। আবার ২০ দলীয় জোটে মূল্যায়ন হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেছেন শরিক দলের নেতারা।

জোটের শরিক কয়েকটি দলের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জামায়াতে ইসলামীর পৃষ্ঠপোষকতায় যেসব দল কর্মকাণ্ড চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে তারাই মূলত এখন একাধিক ভাগে বিভক্ত হচ্ছে। জামায়াতের প্রভাবমুক্ত দলগুলো যাওয়ার কারণ হচ্ছে জোটে মূল্যায়ন না পাওয়া এবং সরকারি দলের দিক থেকে নানা সুবিধার হাতছানি। এনপিপির যে অংশ এখন জোটে রয়েছে তাতে পাঁচজন মূলত নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সেখানে মতের অমিল রয়েছে। এ ছাড়া জোটের ধর্মভিত্তিক ও বামপন্থী হিসেবে পরিচিত কয়েকটি দলের মধ্যে রয়েছে মতের অমিল।

লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান কালের কণ্ঠকে বলেন, জোটকে সক্রিয় করতে বিএনপিকে আরো দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। জোটের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে খোলামেলা মনোভাব ও সম্পর্ক উন্নয়নে আরো আন্তরিক হতে হবে। না হলে জোটের মধ্যে ভাঙাগড়ার অপচেষ্টা আরো জটিল রূপ নেবে।

বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), খেলাফত মজলিস, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), কল্যাণ পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) একাংশ, বাংলাদেশ ন্যাপ, মুসলিম লীগ (একাংশ), জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) একাংশ, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) একাংশ, লেবার পার্টি, ইসলামিক পার্টি (একাংশ), ন্যাপ ভাসানী (একাংশ), পিপলস লীগ, ডেমোক্রেটিক লীগ, কাজী জাফর আহমেদের নেতত্বাধীন জাতীয় পার্টি, সাম্যবাদী দলের একাংশ, ইসলামী ঐক্যজোট (একাংশ)। এসব দলের মধ্যে ১০টি ছাড়া বাকি দলগুলোর নিবন্ধন নেই।


মন্তব্য