kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


লিবিয়ায় মানবপাচারের চেষ্টাকালে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে আটক ৩৯

চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে র‍্যাব

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



লিবিয়ায় মানবপাচারের চেষ্টাকালে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৩৯ জনকে আটক করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-৭)। তাদের দুবাইগামী এয়ার এরাবিয়ার দুটি ফ্লাইটে করে দুবাই-তুরস্ক হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল।

গত বুধবার রাতে বিমানবন্দর থেকে তাদের আটক করা হয় বলে জানান র‍্যাব কর্মকর্তারা।

র‍্যাবের চট্টগ্রাম জোনের পরিচালক লে. কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ভুয়া ভিসা দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে একটি মানবপাচারকারী চক্র ৩৯ জনকে লিবিয়া পাঠানোর চেষ্টা করেছিল। আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের আটকের পাশাপাশি মানবপাচারকারী চক্রটিকেও শনাক্ত করেছি। ’

র‍্যাব-৭ কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রাম থেকে গত বুধবার রাত ১০টা ১০ মিনিটে দুবাইগামী এয়ার এরাবিয়া ফ্লাইট নং-G9522 এবং রাত সাড়ে ১২টায় ফ্লাইট নম্বর G9524-তে কিছু লোক অবৈধভাবে লিবিয়ায় যাচ্ছে—গোপন সংবাদে এই তথ্য পেয়ে ওই রাত সাড়ে ৯টায় শুরু করে ভোর রাত ৪টা পর্যন্ত একটি বিশেষ দল বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে ৩৯ জনকে আটক করে।

র‍্যাব ৭-এর সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এএসপি চন্দন দেবনাথ বলেন, ‘এয়ার এরাবিয়ার বিমানে দুবাই হয়ে তাদের লিবিয়া যাওয়ার কথা ছিল। আটক ব্যক্তিদের কাছে ভুয়া ভিসা ছিল। তারা মানবপাচারের শিকার। পাচারকারী চক্রটির সন্ধানও আমরা পেয়েছি। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ’

এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গণমাধ্যমকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘটনাটি ব্রিফ করা হয়। এতে জানানো হয়, মানবপাচারের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দালালদের মাধ্যমে লোকজন সংগ্রহ করে নিয়ে এসে ঢাকার ফকিরাপুলের হোটেল ড্রিমল্যান্ড, আলিজা, ইসলামপুর, শেল্টার, হোটেল এশিয়া, প্রবাস ইত্যাদি এবং চট্টগ্রামের হোটেল সুইসপার্ক, অলংকার ও রেয়াজউদ্দিন বাজারে হোটেল আল ছালামতসহ অন্যান্য আবাসিক হোটেলে ওঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে অপরিচিত কিছু লোক এসে তাদের ভিসা এবং পাসপোর্ট দিয়ে যায়। বিমানের টিকিট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তাদের যাতায়াতের রুট হলো চট্টগ্রাম-দুবাই-তুরস্ক (ইস্তাম্বুল/আংকারা) লিবিয়া (ত্রিপোলি)।

র‍্যাব কর্মকর্তারা জানান, মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে দালালের মাধ্যমে মাথাপিছু চার লাখ ২০ হাজার টাকা চুক্তির মাধ্যমে লিবিয়ায় পাঠানোর জন্য লোকজনদের প্রলুব্ধ করে। আটক ৩৯ জনের মধ্যে শুধু একজন এক লাখ টাকা এবং আরেকজন ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করে। এ ছাড়া অন্যরা লিবিয়া পৌঁছানোর পর টাকা পরিশোধ করবে বলে জানায়। লিবিয়া পৌঁছানোর পর কারো নিজ উদ্যোগে এবং আবার কারো দালালের মাধ্যমে ইতালি যাওয়ার কথা ছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঢাকা, শরীয়তপুর, ফরিদপুর, সিলেট, মৌলভীবাজার এবং সুনামগঞ্জ অঞ্চলের মোট ৩০ জন দালাল এবং দুটি ট্রাভেল এজেন্সি (আল মামুন ট্রাভেলস, পূর্ব জিন্দাবাজার, গ্যালারি মার্কেট, সিলেট) এবং শামিম ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস (সিলেট ব্রাঞ্চ) শনাক্ত করেন।

র‍্যাব কর্মকর্তারা আরো জানান, আটক ব্যক্তিদের পাসপোর্ট এবং ভিসা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ইমিগ্রেশন সম্পন্ন হওয়া ১৯ জন ভিকটিমের ভিসা ইস্যুর তারিখ একই দিন (০৫ অক্টোবর ২০১৬) এবং মেয়াদ ৩০ দিন। বাইরে অপেক্ষারত বাকি ২০ জনের ভিসার অনুলিপি থেকে প্রতীয়মান হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, মানবপাচারকারীদের সঙ্গে আন্তর্জাতিক চক্রের যোগসাজশ রয়েছে।


মন্তব্য