kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


এমপি লিটনের বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত শুরু

গাইবান্ধা প্রতিনিধি   

১৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



এমপি লিটনের বিরুদ্ধে দুদকের তদন্ত শুরু

গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের আলোচিত সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। জেলা পরিষদের বিশেষ বরাদ্দের এক কোটি টাকা এবং টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন কাজে দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ তদন্ত শুরু হয়েছে।

দুদকের রংপুরের আঞ্চলিক উপপরিচালক মো. মোজাহার আলী সরদারের তত্ত্বাবধানে গত ৯ অক্টোবর থেকে সরেজমিনে গিয়ে এ তদন্তকাজ শুরু হয়। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে তদন্তের স্বার্থে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, তদন্তকারী কর্মকর্তারা জেলা পরিষদের এডিপির অর্থে সোলার প্যানেল বিতরণ এবং ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে কাবিখা, কাবিটা ও টেস্ট রিলিফের আওতায় বিতরণ করা সোলার প্যানেল বিতরণে ‘ওভার ল্যাপিং’ (একই উদ্দেশ্যে বারবার খরচ) বা অন্য কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া সড়ক উন্নয়ন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংস্কার ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের নামে বরাদ্দ করা অর্থের সাহায্যে গৃহীত প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে কি না তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের বিরুদ্ধে দুদকের এই তদন্তের ঘটনায় দলীয় এবং বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

দুদকের একটি সূত্র জানিয়েছে, সুন্দরগঞ্জ থেকে চন্দন কুমার রায় নামে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা এমপি লিটনের অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়ে অভিযোগ এনে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন রংপুর আঞ্চলিক অফিসকে বিষয়টি তদন্ত করে দেখার নির্দেশনা দেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এ তদন্তকাজ শুরু হয়েছে। এ তদন্তের আওতায় জেলা পরিষদের বিশেষ বরাদ্দের এক কোটি টাকা ছাড়াও ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫ ও ২০১৫-১৬ অর্থবছরের টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়টি সরেজমিন পরিদর্শন করে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বরাদ্দ গ্রহণকারীদের মাঠপর্যায়ে কাজের নমুনাও পরীক্ষা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে তা রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের মাধ্যমে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো হবে।

২০১৫ সালের ২ অক্টোবর ভোরে সুন্দরগঞ্জের দহবন্দ ইউনিয়নের গোপালচরণ গ্রামের সাজু মিয়ার ছেলে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র শাহাদত হোসেন সৌরভকে পিস্তল দিয়ে গুলি করে আহত করেন এমপি লিটন। এ নিয়ে সারা দেশে নিন্দা ও সুন্দরগঞ্জে লাগাতার আন্দোলন শুরু হলে তিনি পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন এবং দীর্ঘদিন কারাভোগ করেন। এ ছাড়া নানা ঘটনার জন্ম দিয়েও তিনি ব্যাপক আলোচিত হন।


মন্তব্য