kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


খুলনায় গাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকে ১০ লাখ টাকা জরিমানা

মালিকসহ তিন চিকিৎসক গ্রেপ্তার পরে মুক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা   

১৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



হাসপাতালে ব্লাড ব্যাংকের অনুমোদন নেই। মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় পাওয়া গেছে ২৩ ব্যাগ রক্ত, বিপুল পরিমাণ রি-এজেন্ট (প্যাথলজি কেমিক্যাল) ও ওষুধসামগ্রী।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরিবর্তে টেকনিশিয়ান দিয়ে করা হয় প্যাথলজি পরীক্ষা। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অকারণে রোগীকে সিসিইউতে রেখে বড় অঙ্কের অর্থ আদায় করা হয়। এসব ভয়াবহ অপরাধের দায়ে ১০ লাখ টাকা জরিমানা কারা হয়েছে খুলনার ‘সুপরিচিত’ গাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকে।

গত বুধবার দুপুরে র‍্যাব-১ ও ৬-এর যৌথ অভিযান শেষে ভ্রাম্যমাণ আদালত এ জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে হাসপাতালের মালিক ডা. গাজী মিজানুর রহমানসহ তিন চিকিৎসক ও দুই টেকনিশিয়ানকে তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তাত্ক্ষণিকভাবে পরিশোধ করতে না পারায় এ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জরিমানার অর্থ শোধ করে তাঁরা ছাড়া পান।

কণ্ঠশিল্পী হিসেবে পরিচিত ডা. গাজী মিজানুর রহমান বাংলাদেশ প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন খুলনার সভাপতি। দণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ ব্যক্তি হলেন হাসপাতলের মালিক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. গাজী মিজানুর রহমান, হাসপাতালের পরিচালক ডা. সুভাষ কুমার সাহা, উপপরিচালক (প্রশাসন) ডা. এ বি এম মাহবুবুল হক, প্যাথলজি ইনচার্জ জেমস তরুণ সরকার ও ল্যাব টেকনিশিয়ান মো. বাহারুল ইসলাম।

অভিযান পরিচালনাকারী র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে র‍্যাব-১ ও ৬-এর দুটি দল গাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় অভিযান শুরু করে। অভিযানে অনুমোদহীন ব্লাড ব্যাংক ছাড়াও অনেক অনিয়ম পাওয়া যায়।

এই হাসপাতালে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সিসিইউতে রোগী রেখে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করার অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। র‍্যাবের অভিযান পরিচালনাকালেও গোপালগঞ্জের গোবরা থেকে আসা এক রোগীর স্বজন মো. হারুনুর রশীদ চৌধুরী অভিযোগ করেন, তাঁর বাবা মো. ইমরান হোসেন চৌধুরীর (৫৮) রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ায় মঙ্গলবার রাতে গাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। কোনো চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই তাঁকে সিসিইউতে রাখা হয়। সিসিইউয়ের এক দিনের ভাড়া নেওয়া হয় ৯ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা। র‍্যাবের সহযোগিতায় তিনি তাঁর বাবাকে নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফিরোজ আহম্মেদ সাংবাদিকদের বলেন, গাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ব্লাড ব্যাংকের অনুমোদন না থাকলেও এখানে অবৈধভাবে ব্লাড ব্যাংক পরিচালনা করা হচ্ছিল। এমনকি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই প্রয়োজন না হলেও রোগীকে আইসিইউতে রেখে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করা হচ্ছিল। এ ছাড়া এখানে প্যাথলজি রিপোর্টে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরিবর্তে টেকনিশিয়ানের স্বাক্ষর করা রিপোর্ট রোগীকে দেওয়া হয়। হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগ থেকে বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ রি-এজেন্ট (প্যাথলজি পরীক্ষার কেমিক্যাল) ও ব্লাড জব্দ করা হয়েছে।

অভিযানে র‍্যাব-৬-এর পরিচালক অতিরিক্ত ডিআইজি খোন্দকার রফিকুল ইসলাম এবং স্পেশাল কম্পানি কমান্ডার সিনিয়র পুলিশ সুপার মো. এনায়েত হোসেন মান্নানসহ র‍্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রায় তিন ঘণ্টার অভিযান শেষে র‍্যাব সদস্যরা ডা. গাজী মিজানকে সংবাদমাধ্যমের সামনে উপস্থাপন করেন। এ সময় তিনি বেশ উত্ফুল্ল ছিলেন। তিনি এই অনিয়মের দায় কর্মচারীদের ওপর ঠেলে দেন। বলেন, ‘কর্মচারীরা যথাযথভাবে তাঁদের দায়িত্ব পালন না করায় এই অনিয়ম ঘটেছে। ’

এ ঘটনার মাত্র দুই দিন আগে খুলনার চর রূপসায় শিল্পপতি কাজী শাহনেওয়াজের হিমায়িত মত্স্য কারখানায় ভেজাল ওষুধ তৈরির কারখানা আবিষ্কৃত হয়। এ অভিযানেও নেতৃত্ব দেয় র‍্যাব-১।


মন্তব্য