kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অভিযানে নিহত শুভর বাবা বললেন

রাষ্ট্রের কাছে এমন অ্যাওয়ার্ড চাইনি

নওগাঁ প্রতিনিধি   

১৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



সরকার আমাকে একটা গ্রেট অ্যাওয়ার্ড দিয়েছে। আমি পেয়েছি জঙ্গি আখ্যায়িত র‍্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত আমার একমাত্র সন্তানের লাশ।

আমি ও আমার ভাই মুক্তিযোদ্ধা। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সারা দিয়ে জীবন বাজি রেখে দেশ স্বাধীন করেছি। আমি তো রাষ্ট্রের পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছিলাম। এমন অ্যাওয়ার্ড তো চাইনি। আমার নিখোঁজ সন্তানকে খুঁজে বের করে দেওয়ার জন্য তাদের কাছে কতবার যে গিয়েছি। গত বছর ৭ জুলাই রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলাম। কিন্তু এ ব্যাপারে পুলিশের ভূমিকা ছিল নীরব। তারা যদি দায়িত্ব নিয়ে আমার ছেলেকে খুঁজে বের করত তবে আজ তাকে জঙ্গি অপবাদে মরতে হতো না। আমার ছেলের মতো আর কোনো মা-বাবার ছেলেকে যেন এভাবে মরতে না হয়। কেউ অপরাধ করে থাকলে তাকে গ্রেপ্তার করে দেশের প্রচলিত আইনে বিচারের সম্মুখীন করা হোক। চরম আক্ষেপ নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন, টাঙ্গাইলে র‍্যাবের অভিযানে নিহত নওগাঁর রানীনগর উপজেলার দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের আহসান হাবীবের বাবা মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ হোসেন।

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা সদরের দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ হোসেনের ছেলে আহসান হাবীব শুভ (২৫) টাঙ্গাইল শহরের কাগমারা মির্জামাঠ এলাকায় অভিযানে নিহত হয় গত ৮ অক্টোবর। আহসান হাবীব রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে পড়ালেখা করত। বর্তমানে রাণীনগর রাজাপুর গ্রামে তাদের আত্মীয়স্বজন বসবাস করলেও শুভর বাবা আলতাফ হোসেন থাকেন পরিবার নিয়ে শহরের জনকল্যাণ পাড়ার ভাড়া বাসায়।

আহসান হাবীব শুভর খালু সানোয়ার হোসেন জানান, মুক্তিযোদ্ধা আলতাফ হোসেন ও আঞ্জুমান আরা দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ে। আহসান হাবীব ছোট। আলতাফ হোসেন সোমবার রাতে রাণীনগর থানার মাধ্যমে র‍্যাব সূত্রে জানতে পারেন তাঁর ছেলের এমন পরিণতির কথা। এ সংবাদে স্তম্ভিত হয়ে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

আহসান হাবিব নওগাঁ কে ডি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০৭ সালে এসএসসি ও ২০০৯ সালে নওগাঁ সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে। পরবর্তী সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষার পর গত বছর নিখোঁজ হয়। রাবিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় ২০১৪ সালে ৯ ডিসেম্বর সে অস্ত্রসহ গোদাগাড়ী থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়। তিন মাস জেলহাজতে থাকার পর জামিনে মুক্তি পায় শুভ। ২০১৫ সালে এপ্রিল মাসের শেষ দিকে নিখোঁজ হয় শুভ। এর পর থেকে পরিবারের সঙ্গে তার আর কোনো যোগাযোগ ছিল না। ছেলের খোঁজ পেতে শুভর বাবা রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পাশাপাশি তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগেও শুভকে খুঁজতে থাকেন। পুলিশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন তিনি।

শুভর চাচা রাণীনগর থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফ হোসেন বলেন, ‘আমরা কখনো জানতে পারিনি যে আহসান হাবীব জঙ্গি সংগঠনে যুক্ত হয়ে পড়েছে।

আহসান হাবীবের বাবা আলতাফ হোসেন বুধবার টাঙ্গাইল থেকে ছেলের লাশ নিয়ে তাদের গ্রামের বাড়ি রাণীনগর উপজেলার দক্ষিণ রাজাপুরে ফিরে আসেন। রাত ৮টায় জানাজা শেষে শুভর লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।


মন্তব্য