kalerkantho


ডোমারে ১০ টাকার চালে চালিয়াতি

পরিদর্শনে এসে অভিযোগের সত্যতা পেলেন উপসচিব

নীলফামারী প্রতিনিধি   

১৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



নীলফামারীর ডোমারে ১০ টাকার চালে চালিয়াতির সত্যতা পেয়েছেন তদন্তে আসা খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি। গতকাল বৃহস্পতিবার এলাকা পরিদর্শনে এসে বিভিন্নজনের সঙ্গে কথা বলে চাল নিয়ে অভিযোগের সত্যতা পান ওই প্রতিনিধি।

নীলফামারী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাজী সাইফুদ্দিন অভি বলেন, সরকারের খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ঘটনা তদন্তে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শিরিনা বেলহুর বৃহস্পতিবার ডোমার এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবিহা সুলতানা, উপজেলার সব ইউনিয়নের কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি, বিভিন্ন এলাকার উপকারভোগী এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের সত্যতা পান।

পরে তিনি (উপসচিব) উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে সব ইউনিয়নের কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতির উপস্থিতিতে কর্মসূচির নীতিমালা অনুসরণের পরামর্শ প্রদান করেন।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাজী সাইফুদ্দিন অভি বলেন, ‘অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় চাল বিতরণ স্থগিত রাখা হয়েছে। আগামী ১৬ অক্টোবরের মধ্যে তালিকা যাচাই-বাছাই করে সংশোধনের পর পরবর্তী বরাদ্দের চাল প্রদান করা হবে। ’

গত ৬ অক্টোবর ‘১০ টাকার চালে চালিয়াতি’ শিরোনামে কালের কণ্ঠের প্রথম পাতায় হতদরিদ্র পরিবারের জন্য স্বল্প মূল্যে চাল বিতরণ কর্মসূচিতে সম্পদশালীদের নাম থাকাসহ নানা অনিয়মের সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘নীলফামারীর ডোমার উপজেলার হরিণচড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শালমারা গ্রামের রশিদুল ইসলাম চাল কল এবং বিশাল এলাকাজুড়ে চাতাল ও আধাপাকা বাড়ির মালিক। একই গ্রামের বনমালী রায়ও পাকা বাড়ি, ১২ বিঘা জমি ও মোটরসাইকেলের মালিক। কিন্তু এদের দুজনের নামেই জুটেছে ১০ টাকা কেজি দরের চাল। ’

এমন অনিয়মের চিত্র প্রকাশিত হলে নড়েচড়ে বসে খাদ্য মন্ত্রণালয়সহ উপজেলা প্রশাসন। রিপোর্টের সূত্র ধরে ৬ অক্টোবর রাতে ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবিহা সুলতানা সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পান।

পরে গভীর রাতে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মৃত্যুঞ্জয় রায় বর্মণ বাদী হয়ে ডোমার থানায় সম্পদশালী কার্ডধারী হরিণচড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শালমারা গ্রামের রশিদুল ইসলাম, একই গ্রামের বনমালী রায়, হরিণচড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আহসান হাবীবকে আসামি করে একটি মামলা করেন। সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগ আনা হয় ওই মামলায়।


মন্তব্য