kalerkantho


কিশোরকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যা, বস্তায় লাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



রাজধানীর ডেমরায় গত সোমবার রাতে এক কিশোরকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার নাম জাহিদ হোসেন (১৬)। গতকাল মঙ্গলবার তুরাগের বাউনিয়া জামিয়া আব্বাসিয়া মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসার পাশ থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক তরুণীর বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাঁর বয়স আনুমানিক ২৫ বছর। পুলিশ বলছে, তাঁকে ধর্ষণের পরে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে।

আহত অবস্থায় উদ্ধার করে গতকাল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর জাহিদের মৃত্যু হয়। তার বাবার নাম আবদুল বারেক। পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, জাহিদ উত্তর বাড্ডার শাহজাদপুরে পরিবারের সঙ্গে থাকত। একটি হার্ডওয়্যারের দোকানে কাজ করত সে। দূরসম্পর্কের চাচা সিদ্দিক ও তাঁর ছেলে মোসলেমের বিরুদ্ধে জাহিদকে হত্যার অভিযোগ করেছে স্বজনরা। সিদ্দিকের বাসা ডেমরা এলাকায়।

 

জাহিদের ভাই রিয়াজ হোসেন বলেন, ‘সিদ্দিকের মেয়ের সঙ্গে জাহিদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। এই কারণে তাকে (জাহিদ) পিটিয়ে হত্যা করেছে সিদ্দিক, তার ছেলে মোসলেমসহ আরো কয়েকজন। ’

রিয়াজের ভাষ্য মতে, ‘কয়েক দিন আগে জাহিদ মেয়েটির মা-বাবার কাছে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু দুই পরিবার রাজি হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে তাদের দুজনকে কোনো ধরনের যোগাযোগ না রাখতে বলা হয়। সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাহিদ বাসা থেকে বের হওয়ার পর রাত পৌনে ১২টার দিকে মেয়েটির বাসা থেকে ফোন করে বলা হয়, জাহিদ তাদের বাসায় আছে। আমাদের সেখানে যেতে বলা হয়। সেখানে গেলে মোসলেম একটি সাদা কাগজে সই করতে বলে। যেন জাহিদ তার বোনের সঙ্গে আর যোগাযোগ না করে সে জন্যই সই করতে হবে বলে জানায় তারা। তবে জাহিদ কোথায় আছে সে কথা বলছিল না তারা। শেষে ভোরে জাহিদকে আমাদের কাছে তুলে দেওয়া হয়। তখনো ওর হাত-পা নড়ছিল না। চোখ বন্ধ ছিল, মুখটা খোলা থাকলেও জ্ঞান ছিল না। এরপর জাহিদকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ’

ডেমরা থানার ওসি কাউসার আহমেদ বলেন, থানায় অভিযোগ আসার পর খোঁজ নিয়ে তাঁরা জাহিদকে পিটিয়ে হত্যার বিষয়টি জানতে পেরেছেন। এ বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।

তুরাগ থানার এসআই মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাউনিয়া জামিয়া আব্বাসিয়া মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসার কাছে খোলা জায়গা থেকে ওই তরুণীর লাশ উদ্ধার করা হয়। তাঁর পরনে ছিল সবুজ, খয়েরি ও হলুদ প্রিন্টের জামা এবং গোলাপি রঙের পায়জামা। গলায় কালো দাগ ছিল। তাঁর পরিচয় শনাক্ত ও ঘটনার ব্যাপারে তদন্ত শুরু হয়েছে।


মন্তব্য