kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


চেক প্রতারণার মামলা

সাজাপ্রাপ্ত আসামির অস্বাভাবিক জামিন

আশরাফ-উল-আলম   

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



চেক প্রতারণার একটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে অস্বাভাবিকভাবে জামিন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঢাকার সপ্তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আবু সালেহ মো. সালাহ উদ্দিন খাঁ এ জামিন দেন।

ওই আদালতের ১৯০৬/২০১৩ নম্বর মেট্রো দায়রা মামলার নথি থেকে জানা গেছে, একমাত্র আসামি মো. আলমগীর ভূঁইয়াকে গত ১০ আগস্ট জামিন দেওয়া হয়। গত ৭ এপ্রিল তাঁকে চেক প্রতারণার দায়ে ‘দ্য নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট অ্যাক্ট-১৮৮১’-এর ১৩৮ ধারায় এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয় ও ৬৭ লাখ ৫১ হাজার ৪০০ টাকা জরিমানা করা হয়। রায়ে বলা হয়, জরিমানার টাকা মামলার বাদী পাবেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। গত ৬ আগস্ট তাঁকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। চার দিন পর তিনি জামিনের আবেদন করেন। চেকে উল্লিখিত টাকার অর্ধেক জমা দেওয়া ও উচ্চ আদালতে আপিল করার শর্তে তাঁকে জামিন দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, উপর্যুক্ত আইনের ১৩৮ ধারায় সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি একই আইনের ১৩৮ক ধারা অনুযায়ী যত টাকার চেক প্রতারণার দায়ে অভিযুক্ত তার অর্ধেক বিচারিক আদালতে জমা দিয়ে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারেন।

ওই মামলার বাদীর আইনজীবী ফারুক আহমেদ বলেন, চেকের টাকার অর্ধেক পরিমাণ জমা দিয়ে আপিল করতে হবে। টাকা জমা দেওয়ার পর আদালত জামিন দেবেন। আইনে বিষয়টি স্পষ্ট না থাকলেও এটি রেওয়াজ। কিন্তু আসামি টাকা জমা দেননি, আপিলও করেননি। তাই তাঁকে জামিন দেওয়ার বিষয়টি অস্বাভাবিক।

ঢাকার আদালতের ফৌজদারি মামলার আইনজীবী সাইফুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে অর্ধেক টাকা জমা দেওয়া ও আপিল করার শর্তে জামিন দেওয়া হয়। এটিই প্রথা। প্রথা ভেঙে আদেশ দেওয়া হলে তা অস্বাভাবিকই হবে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, এগ্রোবাংলা ফিড মিলস লিমিটেডের পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য মো. আলমগীর ভূঁইয়া ২০১২ সালের ৭ অক্টোবর পূবালী ব্যাংক লিমিটেডের ছয়টি চেক দেন।


মন্তব্য