kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


শি চিনপিং আসছেন শুক্রবার

চীনের সঙ্গে বেশ কিছু চুক্তি সইয়ে প্রস্তুত বাংলাদেশ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



চীনের সঙ্গে বেশ কিছু চুক্তি সইয়ে প্রস্তুত বাংলাদেশ

চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং দুই দিনের সরকারি সফরে আগামী শুক্রবার সকালে ঢাকায় আসছেন। তাঁর এই সফরের মধ্য দিয়ে বড় ধরনের চীনা বিনিয়োগ আশা করছে বাংলাদেশ।

অন্তত ২৫টি বড় প্রকল্পের জন্য দুই বিলিয়ন ডলার ঋণের বিষয়ে চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে। প্রায় তিন দশক পর চীনের কোনো প্রেসিডেন্টের এটিই প্রথম বাংলাদেশ সফর।

চীনা প্রেসিডেন্টকে সর্বোচ্চ সম্মান জানাতে এরই মধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে সরকারের নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন। কেবল সরকার নয়, তাঁর এই সফরকে বেশ গুরুত্ব দিচ্ছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগও। তাঁকে লাল গালিচা অভ্যর্থনা জানাতে বিমানবন্দরে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, শি চিনপিং শুক্রবার সকালে কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেন থেকে ঢাকায় আসছেন। সফরকালে তিনি রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে পৃথকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবেন। এ ছাড়া তাঁর সঙ্গে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সৌজন্য সাক্ষাৎ হওয়ার কথা রয়েছে।

চীনের সরকারি দৈনিক গ্লোবাল টাইমস জানিয়েছে, সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী কং জুয়ানিউ বলেছেন, শি চিনপিংয়ের ঢাকা সফর দুই দেশের সম্পর্কে মাইলফলক হবে। এই সফরের জন্য দুই পক্ষ বেশ কিছু চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত করেছে। ঢাকা থেকে ভারতের গোয়ায় ব্রিকস-বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দেবেন চীনের প্রেসিডেন্ট।

সরকারের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, শি চিনপিংয়ের এই সফরে সরকার পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ প্রকল্প, পায়রায় বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, সীতাকুণ্ড-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূল সুরক্ষা ও মেরিন ড্রাইভ এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও জোরদার প্রকল্প, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ, চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনের জন্য বিশেষায়িত শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠাসহ ২৫টি মেগাপ্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে সহযোগিতার জন্য প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের এই সফরে চীনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই হবে। এসব চুক্তি হলে আর্থসামাজিক উন্নয়ন যেমন ঘটবে, তেমনি জনপ্রিয়তা বাড়বে আওয়ামী লীগের। আর এই জনপ্রিয়তা শেখ হাসিনার নেতৃত্বকে দেশ-বিদেশে আরো প্রশংসিত করবে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘চীনের প্রেসিডেন্টের এই সফরে দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো উচ্চতায় পৌঁছবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তারই স্বীকৃতি এটা। এই সফরে বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে চীনের সহযোগিতা আরো প্রসারিত হবে। আওয়ামী লীগের রাজনীতির জন্যও একটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘চীন সবদিক থেকেই বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দেশ। শি চিনপিংয়ের এই সফরে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো জোরদার ও সহযোগিতা বাড়বে। চীনের এখানে বিনিয়োগের প্রসার ঘটবে। আমাদের সরকারের জন্য এ সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ বলেন, ‘শি চিনপিংয়ের সফর আওয়ামী লীগের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সরকার চীনকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করতে চায়। এতে সফল হলে এক নতুন যুগের সূচনা হবে। ’

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা জানান, বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে চীন অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী দেশ। বিশ্ব রাজনীতিতেও চীনের বড় ধরনের প্রভাব রয়েছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে চীন ও ভারত এরই মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই দুই দেশকেই সমানভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে আওয়ামী লীগ।


মন্তব্য