kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সেবায় সমুজ্জ্বল ‘জীবনতরী’ নোঙর করেছে স্বরূপকাঠিতে

চিকিৎসা নিতে প্রত্যন্ত এলাকা থেকে ছুটে আসছে রোগীরা

মঈনুল ইসলাম সবুজ, বরিশাল   

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



সেবায় সমুজ্জ্বল ‘জীবনতরী’ নোঙর করেছে স্বরূপকাঠিতে

ভাসমান হাসপাতাল ইম্প্যাক্ট জীবনতরী পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠির বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন সন্ধ্যা নদীর তীরে নোঙর করে দক্ষিণাঞ্চলের সাধারণ মানুষের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

স্বরূপকাঠির সন্ধ্যা নদীর তীরে স্থির নৌযানটি ঘিরে দিনভর ব্যস্ততা। শত শত মানুষ ছুটছে বিশেষায়িত নৌযান ‘জীবনতরী’র দিকে।

ভাসমান হাসপাতালের সুবাদে হাতের নাগালে উন্নত চিকিৎসাসেবা পেয়ে উচ্ছ্বসিত এলাকাবাসী। শুধু ঝালকাঠি নয় বরিশালের অনেক প্রত্যন্ত এলাকা থেকে রোগীরা ছুটে আসছে এখানে। আর সামর্থ্যহীনদের পাশাপাশি বিত্তবানরাও উন্নত চিকিৎসাসেবার প্রত্যাশায় ভিড় করছে সেখানে। সন্তুষ্ট চিত্তেই ফিরছে সবাই। গত ছয় মাস ধরে এর তীরে অবস্থান করা ভাসমান হাসপাতালটি আরো তিন মাস সন্ধ্যা নদীতে থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রান্তিক চিকিৎসাসেবার অনন্য এ প্রচেষ্টায় স্বরূপকাঠিসহ বরিশালের প্রায় ২৫ হাজার রোগী ইতিমধ্যে উপকৃত হয়েছে।

ব্রিটিশ নাগরিক স্যার উইলসন প্রতিষ্ঠিত ইউকে ইমপ্যাক্টের অর্থায়নে পরিচালিত ইমপ্যাক্ট জীবনতরী নামের ভাসমান হাসপাতালটি আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামে সজ্জিত। ৪০ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১০ মিটার প্রস্থের তিনতলা নৌযানটি ১৯৯৯ সাল থেকে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে। বাংলাদেশে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মনসুর আহমদ চৌধুরী ও ডা. রেজাউল হক হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করেন। হাসপাতালটি নদীতে ভেসে ভেসে দেশের বিভিন্ন এলাকায় চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ এবং সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে।

সূত্র জানায়, গত ১০ এপ্রিল ভাসমান হাসপাতালটি নোঙর ফেলেছে পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠি বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন সন্ধ্যা নদীর তীরে। অন্যান্য কর্মকাণ্ডশেষে চিকিৎসাসেবা শুরু হয় পরের সপ্তাহে। এরপর সরকারি ছুটি ও শুক্রবার ব্যতীত প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম। চোখ, নাক, কান, গলাসহ প্রায় সব ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দরিদ্র রোগীদের মধ্যে বিনা মূল্যে ওষুধ বিতরণও করা হচ্ছে। ৪০ টাকার বিনিময়ে বহির্বিভাগে রোগী দেখে চিকিৎসাপত্র হচ্ছে। আর জটিল রোগীদের অপারেশনের জন্য বাছাই করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অপারেশনে অংশ নিচ্ছেন দেশের বাইরে থেকে আসা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও।

স্বরূপকাঠি পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ইব্রাহীম হাওলাদার বলেন, ভাসমান হাসপাতালটি পৌঁছার পর প্রতিদিনই প্রচুর রোগী আসছে বিভিন্ন এলাকা থেকে। তারা সুফল পেয়েছে বলে জানাচ্ছে।

স্বরূপকাঠি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মো. ডালিম আহমেদ বলেন, ভাসমান হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা অনেক মানুষকেই উপকৃত করছে। জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে যে ধরনের ব্যবস্থা নেই তা হাতের নাগালেই পাচ্ছে সাধারণ মানুষ।

জীবনতরীর প্রশাসক মো. আলাউদ্দিন জানান, স্বল্প মূল্যে ২৪ হাজার ২৯৫ জন রোগীকে ইতিমধ্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চোখের চিকিৎসা করিয়েছে ১৩ হাজার ১৭৭ জন। মুগুর পা রোগীর সংখ্যা ছিল তিন হাজার ৭৯১ জন। প্লাস্টিক সার্জারি করা হয়েছে ৫৯ জনের। এ ছাড়া কৃত্রিম অঙ্গ সংযোজন করা হয়েছে ১৪৯ জনের। এ সময় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩২০ জনের দৃষ্টি পরীক্ষা করে ৫২ জনকে ফ্রি চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। সামাজিক সচেতনতার জন্য ৭৬ জন জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক কর্মী, ১৫০ জন ধাত্রী, ৫২ জন শিক্ষকসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

১৫ শয্যার হাসপাতালটিতে সার্বক্ষণিক তিনজন চিকিৎসক, দুজন মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট, পাঁচজন নার্সসহ ৩৬ জন স্টাফ রয়েছেন। সার্বক্ষণিক বিদ্যুতের পাশাপাশি হাসপাতালে রয়েছে লিফট সুবিধাও। একটি অ্যাম্বুল্যান্স ও দুটি স্পিডবোট রয়েছে রোগী আনা-নেওয়ার জন্য।


মন্তব্য