kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ব্যাংক হিসাব খোলা পেতে মরিয়া হিযবুত নেতা মহিউদ্দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ব্যাংক হিসাব খোলা পেতে মরিয়া হিযবুত নেতা মহিউদ্দিন

নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহ্রীর নেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মহিউদ্দিন আহমেদ তাঁর ব্যাংক হিসাব খুলে দিতে আইনের আশ্রয় নিয়েছেন। সোনালী ব্যাংক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখায় তাঁর সঞ্চয়ী হিসাবটি ২০০৯ সালের অক্টোবর থেকে বন্ধ রয়েছে।

হিসাবটি খুলে দিতে সম্প্রতি তিনি হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে হিসাবটি খুলে দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। তবে আদালতের এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে যাচ্ছে সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ২০০৯ সালের ২৫ অক্টোবর এক চিঠিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সোনালী ব্যাংকের করপোরেট শাখাকে মহিউদ্দিন আহমেদের সঞ্চয় হিসাবটি বন্ধ করার নির্দেশ দেয়। তবে বিএফআইইউ কোনো গ্রাহকের ব্যাংক হিসাব এক মাসের বেশি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়ার এখতিয়ার রাখে না। এ জন্য একই বছর দ্বিতীয় দফায় সন্ত্রাস প্রতিরোধ আইনে হিসাবটি বন্ধ রাখার নির্দেশ পাঠায় বিএফআইইউ। এরপর তৃতীয় দফায় ওই বছরের ডিসেম্বরে ব্যাংক হিসাবটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেই থেকে মহিউদ্দিন আহমেদের ব্যাংক হিসাবটি বন্ধ রয়েছে।

ব্যাংক হিসাবটি ফিরে পেতে মহিউদ্দিন আহমেদ গত জুলাইয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে একটি উকিল নোটিশ পাঠান। এর পরও লেনদেনের অনুমতি না মেলায় তিনি গত ৮ অক্টোবর হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। হাইকোর্ট মহিউদ্দিন আহমেদের হিসাবে থাকা পাঁচ লাখ টাকা উত্তোলনের সুযোগ দিতে ব্যাংকের ওই শাখাকে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করবে বলে জানিয়েছে ব্যাংক সূত্র।

জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) শিক্ষক মহিউদ্দিন আহমেদ হিযবুত তাহ্রীরের সঙ্গে জড়িত হন একই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ গোলাম মওলার হাত ধরে। গোলাম মওলা নব্বইয়ের দশকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য ব্রিটেনে যান। সেখানে হিযবুত তাহ্রীরের রাজনীতির সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতা তৈরি হয়। সন্ত্রাসবাদী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ব্রিটেনের পুলিশ সে সময় তাঁকে আটকও করেছিল। দেশে ফিরে গত দশকের গোড়ার দিকে দীক্ষা দেন অধ্যাপক মহিউদ্দিন আহমেদকে।

জানা গেছে, হিযবুত তাহ্রীর ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের সময় আত্মপ্রকাশ করে। দলের মুখপাত্র ও প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে মহিউদ্দিন আহমেদ সামনে এলেও সংগঠনের মূল নেতাদের একজন ছিলেন গোলাম মওলা। প্রভাবশালী অন্যান্য নেতার মধ্যে ছিলেন কাজী মোরশেদুল হক ও অধ্যাপক ড. শেখ তৌফিক।

বাংলাদেশে জঙ্গি তত্পরতায় যুক্ত থাকার অভিযোগে গোলাম মওলা ১০ সহযোগীসহ ২০০৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাজশাহীতে গ্রেপ্তার হন। ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে আবারও তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে জামিনে থেকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন। মহিউদ্দিন আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয় ২০১০ সালের এপ্রিলে। এর আগে ২০০৯ সালের ২২ অক্টোবর জননিরাপত্তার প্রতি হুমকি বিবেচনায় হিযবুত তাহ্রীরের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে সরকার।

প্রসঙ্গত, গুলশানে হলি আর্টিজানে হামলাসহ সাম্প্রতিককালে দেশে জঙ্গিবাদী তত্পরতার জন্য ‘নব্য জেএমবি’ হিসেবে যাদের দায়ী করা হচ্ছে তাদের অধিকাংশই হিযবুত তাহ্রীরের নেতাকর্মী বলে মনে করা হচ্ছে।


মন্তব্য