kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সরকারি অস্ত্র বিক্রির চেষ্টা

সেই দুই পুলিশের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হচ্ছে না!

এস এম রানা, চট্টগ্রাম   

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



সরকারি অস্ত্র অন্যের কাছে হস্তান্তর ও বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে র‌্যাবের হাতে আটক নগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) এসআই উজ্জ্বল কান্তি দাস ও এএসআই  আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হচ্ছে না। বিভাগীয় মামলা করে বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি)।

ইতিমধ্যে ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিএমপির কমিশনার ইকবাল বাহার। কালের কণ্ঠ’র প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তাঁদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিভাগীয় মামলা হচ্ছে। তদন্ত হবে। ’

ফৌজদারি আইনে মামলা দায়ের এবং তাঁরা ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়নি, তাঁরা গ্রেপ্তারও হননি। ’

চট্টগ্রামের প্রবীণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইব্রাহীম হোসাইন চৌধুরী বাবুল কালের কণ্ঠকে জানান, সরকারি কর্মকর্তারা সরকারি অস্ত্র অন্যের কাছে হস্তান্তর করতে পারেন না। এমনকি কোনো ব্যক্তির নামে লাইসেন্স করা অস্ত্রও অন্যের কাছে হস্তান্তর করা যায় না। নিজের অস্ত্র নিজেকেই বহন করতে হয়। যদি কেউ অন্যের কাছে নিজের অস্ত্র হস্তান্তর করেন, তাহলে তা ফৌজদারি অপরাধ। এক্ষেত্রে ফৌজদারি মামলা হওয়া উচিত। আইন সবার জন্যই সমান। সরকারি-বেসরকারি ব্যক্তি বলে কিছু নেই।

নগর গোয়েন্দা পুলিশ ও র‌্যাব সূত্র জানায়, গত ৬ অক্টোবর রাতে নগরীর নিউ মার্কেট এলাকায় ক্রেতা সেজে অস্ত্র কিনতে চায় র‌্যাব-৭-এর একটি দল। দর কষাকষির পর তারা এক লাখ ২০ হাজার টাকায় পিস্তল ও গুলি কেনে। কিন্তু অস্ত্র, গুলি ও বিক্রেতাদের আটকের পরপরই

পুলিশের ওই দুই কর্মকর্তা সাদা পোশাকে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিজেদের পরিচয় দিয়ে অস্ত্র বিক্রেতাদের ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষে বাগিবতণ্ডা চলে। একপর্যায়ে র‌্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে এসআই উজ্জ্বল কান্তি দাস, এএসআই আনিসুর রহমান, অস্ত্র বিক্রি করতে আসা তপন কান্তি দে ও দিদার হোসেনকে আটক করে র‌্যাব কার্যালয়ে নিয়ে যান। রাতে জিজ্ঞাসাবাদকালে দুই গোয়েন্দা পুলিশ সরকারি অস্ত্র বিক্রির নামে অস্ত্র বিক্রেতাদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার কৌশলের বিষয়ে র‌্যাবকে জানান। এসআই উজ্জ্বল কান্তি দাস জানান, র‌্যাবের কেনা অস্ত্র ও গুলি প্রকৃতপক্ষে সরকারি অস্ত্র। সেগুলো এএসআই আনিসুরের নামে ইস্যু করা। তাঁরা অস্ত্র ক্রেতাদের কাছ থেকে অস্ত্র বিক্রির নামে টাকা হাতিয়ে নেন। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে র‌্যাব সদস্যরা ওই রাতেই নগর পুলিশের কাছে আটক সবাইকে বুঝিয়ে দেন।

গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক গাজী ফৌজুল আজিম এসআই উজ্জ্বল কান্তি দাস, এএসআই আনিসুর রহমান, অস্ত্র ব্যবসায়ী তপন কান্তি দে ও দিদার হোসেনকে বুঝে নেন। গত ৮ অক্টোবর সিএমপি কমিশনার ইকবাল বাহারের নির্দেশে ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে তাঁদের দুই সঙ্গী তপন ও দিদারকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা। আর বিভাগীয় মামলা হওয়ায় দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

র‌্যাবের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, ওই দিন অস্ত্র বিক্রি করতে ছদ্মবেশী র‌্যাব কর্মকর্তাদের সঙ্গে দরদামের বিষয়ে কথা বলেছিলেন কামরুল নামের একজন। অস্ত্র ডেলিভারি দিতে এসেছিলেন তপন ও দিদার। এদের মধ্যে তপন এসআই উজ্জ্বল কান্তি দাসের আত্মীয়। উজ্জ্বল নিজেই এ পরিচয় দিয়েছেন। পরে চারজনকেই পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর কী হয়েছে র‌্যাব-৭ আর খোঁজ রাখেনি। যদিও বিষয়টি ঢাকায় পুলিশ সদর দপ্তরে জানানো হয়েছে।

যোগাযোগ করলে র‌্যাব-৭-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মিফতা উদ্দিন আহমদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। ’


মন্তব্য